• সোমবার, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৫:১৫ সন্ধ্যা

‘আপনার স্মার্ট টেলিভিশন জানে আপনার ক্রাশ কোন অভিনেতা’

  • প্রকাশিত ১১:৫৭ রাত নভেম্বর ৯, ২০১৮
ঢাকা লিট ফেস্ট
৮ নভেম্বর ঢাকা লিট ফেস্টের আলোচনায় অংশ নেন বাঁদিক থেকে জাকির কিবরিয়া, গর্গা চ্যাটার্জি, ডেভিড বিয়েলো এবং সৈয়দ মফিজ কামাল অনিক। ছবি: মাহমুদ হোসাইন অপু/ ঢাকা ট্রিবিউন।

ব্যক্তিগত সকল তথ্য প্রযুক্তির হাতে চলে যাওয়া এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বিলুপ্ত হওয়া নিয়ে প্যানেলে আলোচনা হয়

প্রযুক্তির সর্বগ্রাহী আচরণের ফলে ব্যক্তিগত তথ্য সংরক্ষণ করা দিন কে দিন কঠিন থেকে কঠিনতর হচ্ছে বলে আজ অনুষ্ঠিত হওয়া ঢাকা লিটফেস্টের প্যানেলিস্টরা মত দেন।

 ‘দ্যা রাইট টু লাই' শীর্ষক এই আলোচনা সভা বাংলা একাডেমীর ভাস্কর নভেরা প্রদর্শনী হলে অনুষ্ঠিত হয়। তিন দিনব্যাপী এই অভিজাত সাহিত্য উৎসব বর্তমানে বাংলা একাডেমী প্রাঙ্গনে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। 

“বর্তমান বাস্তবতার নিরিখে, আমাদের ব্যক্তিগত তথ্য উন্মুক্ত করা উচিৎ নয়”, বলেন প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ ও নীতিবিশ্লেষক সৈয়দ মফিজ কামাল অনিক। তিনি আরও বলেন, “এই বাস্তবতা সাম্প্রতিক সময়ে পাশ হওয়া বিভিন্ন আইনে দেখতে পাওয়া যায়, যেমনঃ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন। “পলিসি রিসার্চ ইন্সটিটিউট অব বাংলাদেশের সহকারী সম্পাদক হিসেবে কর্মরত এই গবেষক বলেন, “ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন শুধু নিরাপত্তায়ই সীমাবদ্ধ থাকেনি, এর মধ্য দিয়ে সরকার যেন তথ্য নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, তাও নিশ্চিত করা হয়েছে।"

প্রযুক্তির চলমান উৎকর্ষতার ফলে ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন একটি দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মতামত দেন স্নায়ু বিজ্ঞানী ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক গর্গা চ্যাটার্জি। তিনি বলেন, “প্রযুক্তি দিনকে দিন এতোটাই উন্নত হচ্ছে যে এখন প্রযুক্তি মানুষের মতো করে ভাবতে এমনকি মিথ্যা সনাক্ত করতে পারে।" তিনি বলেন যে এমআরআইয়ের মতো প্রযুক্তির উপর ভিত্তি করে এখন মানবমস্তিষ্কের অনেক অজানা দিকই খুব সহজে জানা সম্ভব হচ্ছে। গর্গা চ্যাটার্জি কলকাতার ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিকাল ইন্সটিটিউটে শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন। এছাড়াও, তিনি মস্তিষ্ক ও সমাজ নিয়ে কাজ করে এমন প্রতিষ্ঠান ঘিলু ল্যাব ফর ব্রেইনের পরিচালক হিসেবে কর্মরত আছেন। তিনি হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নিউরোসায়েন্সে পিএইচডি সম্পন্ন করেছেন। 

সাংবাদিক ও লেখক ডেভিড বিয়েলো বলেন, “জেনেটিক তথ্যের ব্যবহার পরবর্তী লক্ষ্যবস্তু। চীন এক্ষেত্রে একটি উদাহরণ হতে পারে। সর্বব্যাপী নজরদারিতে যেভাবে প্রযুক্তির ব্যবহার করা হয়েছে, তা অভাবনীয়।" 

তিনি আরো বলেন, “পরবর্তী চ্যালেঞ্জ হিসেবে সামনে আসবে জেনেটিক তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা করা। এখন প্রযুক্তি এতটাই আধুনিক যে প্রযুক্তির কাছে আমার নিজের সম্পর্কে এমন অনেক স্পর্শকাতর তথ্য রয়েছে যা আমি নিজেও নিজের সম্পর্কে জানিনা। এমনকি এই তথ্যের উপর ভিত্তি করে একে আমার বিরুদ্ধেই অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে।" বিয়েলো দ্যা আননেচারাল ওয়ার্ল্ডঃ দ্যা রেইস টু রিমেইক সিভিলাইজেশন ইন দ্যা নিউয়েস্ট বইয়ের লেখক। এই পুরস্কার বিজয়ী সাংবাদিক এনার্জি ও পরিবেশ নিয়ে সাংবাদিকতা করছেন ১৯৯৯ সাল থেকে।

নীতি বিশ্লেষক জাকির কিবরিয়া সাধারণ মানুষকে প্রযুক্তির মাধ্যমে এ সকল তথ্য সংগ্রহ সম্পর্কে জানতে হবে বলে উল্লেখ করেন। তিনি আরও বলেন, “আমাদেরকে জানতে হবে এসব তথ্যের মালিক কে? স্মার্ট টেলিভিশন সেটে এখন ক্যামেরা ও সেন্সরযুক্ত করে দেওয়া হয়, ফলে, স্মার্ট টেলিভিশন বুঝতে পারে দর্শক কোন অনুষ্ঠান বেশি দেখছে এবং কোন অনুষ্ঠান দেখে তারা কিভাবে রিয়্যাক্ট করছে।" তিনি বলেন, “এর কিছু নেতিবাচক দিক অবশ্যই রয়েছে।" তিনি আরও বলেন, “স্যামসাং যেমন তাদের স্মার্ট টেলিভিশনে এমন প্রযুক্তি যুক্ত করেছে যার মাধ্যমে তারা বুঝতে পারে আপনি কোন অনুষ্ঠান দেখছেন এবং আপনার অঙ্গভঙ্গি দেখে অনুমান করতে পারে আপনি কোন অভিনেতাকে বেশি পছন্দ করেন।" তাঁর মতে ব্যক্তিগত তথ্য যদিও এভাবে উন্মুক্ত হওয়া উচিৎ নয়, তবে সেটা এখন আর হয়তো সম্ভবও নয়। জাকির কিবরিয়া উত্তরণ নামক এনজিওতে নীতি বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত আছেন। 

ব্যক্তিগত তথ্যের ব্যবহার নিয়ে বলতে গিয়ে গর্গা চ্যাটার্জি বলেন যে তাঁর প্রতিষ্ঠান এক গবেষণায় দেখতে পেয়েছে যে বিভিন্ন দেশে মিথ্যাশনাক্তকারী প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্যকে ভুলভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। যদিও, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আদালতে এই প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্যকে আমলে নেওয়া হয়না, তবে শীঘ্রই আরো বিশ্বাসযোগ্য প্রযুক্তি আবিষ্কৃত হবে এবং তখন আদালতেও এর গ্রহণযোগ্যতা থাকবে। তিনি বলেন, “বিষয়টা হলো, আপনি কিছু ‘প্রকাশ’ করতে চান মানে অবধারিতভাবেই আপনি কিছু ‘লুকিয়েছেন’।" তাঁর মতে এ বিষয়ে ভাবার এখনই সময়। 

উল্লেখ্য, ঢাকা লিট ফেস্ট ২০১৮ বৃহস্পতিবার শুরু হয়েছে এবং শেষ হবে শনিবার। বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিকভাবে খ্যাতনামা সাহিত্য, সংস্কৃতি অঙ্গনের অনেক ব্যক্তিবর্গ তিন দিন ধরে চলা এই ফেস্টের বিভিন্ন আলোচনায় অংশ নিবেন।