• শনিবার, ডিসেম্বর ১৪, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১২:৪৫ দুপুর

সমাজ, সংস্কৃতি ও পুরুষের দৃষ্টিকোণ নিয়ে বললেন মনীষা কৈরালা ও নন্দিতা দাস

  • প্রকাশিত ০৫:৫৪ সন্ধ্যা নভেম্বর ১০, ২০১৮
lit fest
ঢাকা লিট ফেস্টের দ্বিতীয় দিনে ভারতীয় চলচ্চিত্র শিল্প নিয়ে আলোচনা করেন (বাঁ থেকে) সাদাফ সাজ, মনীষা কৈরালা ও নন্দিতা দাস। ছবি- সৈয়দ জাকির হোসেন/ঢাকা ট্রিবিউন

ভারতীয় চলচ্চিত্রে নারীদের বৈচিত্র্যময় চরিত্রের অভাব সম্পর্কে মনীষা আক্ষেপ করেন যে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই রোমান্টিক অথবা মায়ের ভূমিকাতেই তাদের দেখা যায়।

ঢাকা লিট ফেস্টের দ্বিতীয় দিনে মনীষা কৈরালা ও নন্দিতা দাসকে দেখতে বাংলা একাডেমির একেএসবি অডিটোরিয়াম ছিল দর্শকে পরিপূর্ণ। অডিটোরিয়ামে বসা তো দূরে থাক, দাঁড়ানোর মতো জায়গাও ছিল না। এমন গমগমে এক পরিবেশে ঢাকা লিট ফেস্টের অন্যতম পরিচালক সাদাফ সাজের সঙ্গে মঞ্চে আসন গ্রহণ করলেন মনীষা ও নন্দিতা। 

‘১৯৪২: আ লাভ স্টোরি’র তারকা মনীষা কৈরালা তার বক্তব্য শুরু করলেন কীভাবে মূলধারার চলচ্চিত্রও সবসময় একজন শিল্পীকে পূর্ণতা দেয় না যেটা সমালোচকদের দ্বারা প্রশংসিত চলচ্চিত্র দেয়। তবে এক্ষেত্রে দুটোর ভারসাম্য থাকাটাও গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি মনে করেন। 

মনীষা বলেন, “আমি বৈচিত্রময় সিনেমা ও গল্প চাই। কিন্তু আমাকে বাণিজ্যিক সিনেমার সঙ্গেও ভারসাম্য রাখতে হয়েছে কারণ এর মাধ্যমেই বৃহৎ জনসাধারণ আমাকে চেনে এবং ভালবাসে।”

তিনি বলেন, তিনি বিভিন্ন রকম চরিত্রে কাজ করতে চান যাতে মানুষের মন বুঝতে পারেন, তবে নারী অভিনেতাদের ক্ষেত্রে এমন চরিত্র পাওয়া দুর্লভ।

“অভিনেতা হওয়ার অনেকগুলো মজার আনন্দের একটি হচ্ছে মানুষের মন বঝতে পারা”, বলেন মনীষা।

ভারতীয় চলচ্চিত্রে নারীদের বৈচিত্র্যময় চরিত্রের অভাব সম্পর্কে মনীষা আক্ষেপ করেন যে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই রোমান্টিক অথবা মায়ের ভূমিকাতেই তাদের দেখা যায়। 

সাদাফ সাজের পরিচালনায় আলোচনা প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। 

নারীদের বৈচিত্র্যময় ভূমিকা সম্পর্কে নন্দিতা ‘ফায়ার’ (১৯৯৬) সিনেমায় তার বিতর্কিত চরিত্রের প্রসঙ্গ আনেন।

তিনি বলেন, “আমি ‘ফায়ার’কে বলিউডের মূল ধারার সিনেমা বলব না। ১৯৯৬ তে সমাজ কর্মে স্নাতক শেষে একটি এনজিওতে আমি কাজ করতাম। অভিনেতা হওয়ার কোনো স্বপ্ন বা ইচ্ছা আমার ছিল না। আমি জানতে পারলাম দীপা মেহতা বেশ সাহসী একটি সিনেমা বানাতে যাচ্ছেন এবং ভাবলাম এটা খুবই শক্তিশালী একটি বিষয় হবে।”

নন্দিতা বলেন, তিনি একটি উদার মানসিকতার পরিবার থেকেই এসেছেন, তবে তাদের মধ্যেও সমকামীতা সম্পর্কে কখনোই কথা হয় নি। ফায়ারে লেসবিয়ান চরিত্রে অভিনয়ের পর তিনি যৌক্তিকভাবে, কিন্তু আবেগ দিয়েও উপলব্ধি করেন যে এই ‘নিষিদ্ধ’ ব্যাপারটি সম্পর্কে সমাজের অসহিষ্ণু ও ভণ্ড লোকদের মনোভাব কেমন। তিনি এই অনেক খুশি হয়েছিলেন যে সেন্সর বোর্ড এই সিনেমার একটি দৃশ্যও কর্তন করে নি।

মনীষা কৈরালা তার নতুন বই “হিল্ড” সম্পর্কে কথা বলেন, যেখানে তার ক্যান্সার চিকিৎসার সময়কার দিনগুলো সম্পর্কে লিখেছেন। এই বইয়ের একটি অধ্যায় চলচ্চিত্র শিল্পের “মেইল গেইজ” (পুরুষের দৃষ্টিকোণ) সম্পর্কে। 

তিনি বলেন, “আপনি কতটা সুন্দর, আকর্ষণীয় ও চিকন অথবা অল্প বয়সী এটা (চলচ্চিত্র শিল্প) সবসময় তা নিয়েই, এসব শর্ত দিয়েই সবসময় বিচার করা হয়।”

মনিষা বলেন, “নারীদের কণ্ঠস্বরের জায়গা কোথায়? আমি সর্বদা মেইল গেইজের ভেতরেই ছিলাম। আমাদের সিনেমায় প্রতিনিয়ত নারীদেরকে বস্তু হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।”

নন্দিতা দাস অবশ্য মেইল গেইজ সম্পর্কে ভিন্ন অভিজ্ঞতার কথা বললেন, “আমার যেহেতু অভিনেতা হওয়ার লক্ষ্য ছিল না, তাই মেইল গেইজের চাপ আমি অনুভব করিনি। যে অল্প কিছু মূলধারার সিনেমা আমি করেছি সেগুলোর গল্প উপভোগ্য ছিল।”