• শনিবার, ডিসেম্বর ১৪, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০১:২১ দুপুর

'অনন্য ভাষাশৈলীর কারণে আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের সাহিত্য অনুবাদের ঊর্ধ্বে'

  • প্রকাশিত ০১:১১ দুপুর নভেম্বর ১১, ২০১৮
dhaka lit fest logo

“ইলিয়াস ভাই আমার ইংরেজি লেখা পছন্দ করতেন। কিন্তু, তাঁর কাজের অনুবাদ করা আমার পক্ষে অসম্ভব"

সমসাময়িক অনেক লেখক শুক্রবার ঢাকা লিট ফেস্টের এক প্যানেল আলোচনায় মন্তব্য করেন, আখতারুজ্জামান ইলিয়াস (১৯৪৩-১৯৯৭) এমন কিছু সাহিত্য রচনা করেছেন যার গভীরতা অনেক এবং তাঁর লেখায় সৃজনশীলতা এক ভিন্ন মাত্রা যুক্ত করেছে।

নর্থ-সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজির অধ্যাপক খালিকুজ্জামান ইলিয়াস বলেন, "আখতারুজ্জামান ইলিয়াস সৃষ্টিশীলতায় অনন্য ছিলেন, তবে দুঃখের বিষয় হলো তিনি তাঁর সৃষ্টিশীলতায় চূড়ায় থাকতেই মৃত্যুবরণ করেন। আখতারুজ্জামান ইলিয়াস কিছু কাব্য রচনা করে থাকলেও তাঁর আসল কবিতা ছিল তাঁর উপন্যাস। তাঁর গদ্য কাব্যিকতাপূর্ণ ছিল। কাব্যিকতাকে বাদ দিয়ে সৃষ্টিশীল কিছু করা সম্ভব নয়। আর একারণেই তিনি সৃষ্টিশীলতায় এতোটা সফল ছিলেন”।

ইমদাদুল হক মিলন বলেন, "আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের লেখা এতটাই অনন্য যে বর্ণনায় না গিয়ে তাঁর লেখার প্রেক্ষাপট বোঝা অসম্ভব। 'চিলেকোঠার সেপাই'-তে এক রেস্টুরেন্টে কয়েকজন মিলে দেওয়ালে ঝোলানো আইয়ুব খানের ছবি ছিঁড়ে ফেলে। এই ঘটনার বর্ণনা বুঝতে হলে পাঠককে পুরান ঢাকার আঞ্চলিক ভাষা বুঝতে হবে“।

ইমদাদুল হক মিলন সমসাময়িক বাংলাদেশে অত্যন্ত পরিচিত এক নাম। তিনি ১৫০ টির বেশি বই লিখেছেন। মিলন বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেছেন এবং বর্তমানে কালের কন্ঠ পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে কর্মরত আছেন। তিনি আরও বলেন, "আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের ভাষা শৈলী এতটাই অনন্য ছিল যে তিনি তাঁর দুইটি বইয়ে বাংলার দুইরকম ভাষার প্রয়োগ ঘটিয়েছেন"।

ড. শুভরঞ্জন দাশগুপ্ত বলেন, “(জেমস জয়েসের) ইউলিসিস ডাবলিনের ক্ষেত্রে যেমন, চিলেকোঠার সেপাই ঢাকার জন্যে ঠিক সেরকম। অন্যভাবে বলতে গেলে, ঢাকা এই উপন্যাসে একটি চরিত্র হিসেবেই উপস্থিত থেকেছে"। ড. দাশগুপ্ত আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের উপর একটি গবেষণা গ্রন্থ রচনা করেছেন। ‘লেখায় এতো খুঁটিনাটি কেন আনা প্রয়োজন’ এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, “টি. এস. এলিয়ট যেমন বলেছেন ‘লেখা থেকে ব্যক্তিগত স্বত্বাকে বাদ দিতে হবে’, ইলিয়াস ঠিক সে কাজটিই করেছেন। আখতারুজ্জামানের লেখার অনন্য ভাষাশৈলীর কারণেই তাঁর লেখা অনুবাদের ঊর্ধ্বে"।

গবেষক ও লেখক আফসান চৌধুরী বলেন, বিশ্বসাহিত্যে আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের কদর নিয়ে তাঁর মাথাব্যথা নেই। তিনি বলেন, “ইলিয়াস ভাই আমার কাছে এক অনন্য ব্যক্তিত্ব, অন্যকিছু নিয়ে আমি তাই ভাবিনা"। তিনি আরো বলেন আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রাজনীতিতে এতো বেশি সম্পৃক্ত না হলে আরো বেশি লেখার সময় পেতেন। ইলিয়াস তাঁকে কতোটা প্রভাবিত করেছে, সে ব্যাপারে তিনি আলোকপাত করে বলেন তাঁর কাজ অনুবাদ করার এক প্রস্তাব তিনি নাকচ করে দিয়েছিলেন। আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের লেখার অনুবাদ করা কতোটা কষ্টসাধ্য সেদিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, “ইলিয়াস ভাই আমার ইংরেজি লেখা পছন্দ করতেন। কিন্তু, তাঁর কাজের অনুবাদ করা আমার পক্ষে অসম্ভব"।

মাত্র দুটি উপন্যাস এবং একুশটি ছোটগল্প লিখে পরপারে পাড়ি জমালেও তাঁকে সমসাময়িক বাংলা সাহিত্য জগতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র হিসেবে মূল্যায়ন করা হয়। তাঁর লেখা উপন্যাস চিলেকোঠার সেপাই (১৯৮৭) বাংলা সাহিত্যেসৃষ্টি করে এক নতুন ধারার।