• শনিবার, ডিসেম্বর ১৪, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০১:২১ দুপুর

হিমাঞ্জলী’র ‘সুপারডগ’: ‍সাহিত্যের মাধ্যমে শিক্ষা

  • প্রকাশিত ০৩:৫৬ বিকেল নভেম্বর ১১, ২০১৮
হিমাঞ্জলী শঙ্কর
হিমাঞ্জলী শঙ্কর। ছবি: মাহমুদ হোসেন অপু

"যেকোনো মূল্যে লেখা চালিয়ে যাওয়া– তা যদি ডাইরিতে লিখেও হয়- তবে তা’ই”

কিশোর ও শিশু সাহিত্যিক, দিল্লীর বিখ্যাত এক প্রকাশনীর সম্পাদক হিমাঞ্জলী শঙ্কর। এসেছিলেন ঢাকা লিট ফেস্ট ২০১৮ এর একটি সেশনে। শিশুদের সাথে তাঁর বই টাইমটেলিং সুপারডগ নিয়ে আলোচনা করবেন- এই তার মনোবাঞ্ছা। সেশনের পুরোটা সময় ধরে শিশুদের সাথে সৃষ্টিশীলতা ও সাহিত্য পাঠের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করেন তিনি। 

আলোচনার প্রারম্ভেই তিনি শিশুদের কাছে জানতে চাইলেন, উপস্থিত শিশুরা সুপারহিরোদের ওপর লেখা বই পছন্দ করে কিনা। কারণ একটাই, চমৎকার এই লেখিকার বইও যে মূলত সুপারপাওয়ার পাওয়া এক কুকুরের জীবন নিয়ে রচিত। কথা বললেন, মানুষের জীবনে সুপারপাওয়ারের গুরুত্ব নিয়ে। তিনি সুপারহিরো বই নিয়ে কথা বলতে যেয়ে উল্লেখ করেন, সুপারহিরো এবং ফ্যান্টাসি বই একই উদ্দেশ্য নিয়ে লেখা হয়। কারণ, এই দুই ধরণের বইয়ের উদ্দেশ্য অভিন্ন, দুই ধরণের বইয়েই মূলত বিশ্বকে রক্ষা করার কৌশল দেখানো হয়। 

হিমাঞ্জলির বইয়ের মূল চরিত্র একটি কুকুর, নাম রুশো। রুশো এক বিশেষ ক্ষমতা নিয়ে জন্মানো জীব। সে সময় বলে দিতে পারে। প্রথম প্রথম সবাই রুশোকে ‘পাগলা কুকুর’ মনে করে দূরদূর করে। একদিন হঠাৎ এক মহাদূর্যোগ আসে। কোত্থেকে যেন অরেঞ্জ মারমালাডাইস নামের অদৃশ্য কিছু এলিয়েন এসে আক্রমণ করে বসল রুশোর বসবাসের জায়গায়। আর ঠিক তখন, পৃথিবী থেকে সময়ও নিরুদ্দেশ হয়ে যায়। সংকটের সেই মুহূর্তে তখন সুপারডগ রুশো সবাইকে রক্ষা করে। 

প্রথমে অরেঞ্জ মারমালাইডসদের শত্রু মনে হলেও, ওরা কিন্তু আসলে বন্ধুই। মানুষের সাথে সংযোগ স্থাপন করবে- এই তাদের ইচ্ছা। মানুষ নয় এমন প্রাণীকে মানবিক করে তোলার বিভিন্ন দিক নিয়ে হিমাঞ্জলী আলোচনা করেন। তিনি বলেন, “সাহিত্যে ভালো সর্বদাই খারাপের উপর বিজয়ী হয়, তবে বাস্তবে সবসময় সেরকম দেখা যায়না”। তিনি শিশুদের উদ্দেশ্যে বলেন, “এসকল প্রাণী জীব হলেও তারা মানুষের মতোই বৈশিষ্ট্য ধারণ করে”। 

এরপর তিনি জানতে চান, তারা সাহিত্য পছন্দ করে কিনা। কারণ, আজকাল সবাই টেলিভিশন দেখতে বেশি পছন্দ করে। এর উত্তরে শিশুরা কিছু ফেয়ারীটেইল এবং সেগুলোর উপর ভিত্তি করে বানানো কিছু চলচ্চিত্রের নাম বলে। শিশুরা আজকাল বই পড়ায় অনাগ্রহ দেখায় কারণ বইতে অনেক শব্দ লেখা থাকে যা পড়ার ধৈর্য শিশুদের থাকেনা। তাই হিমাঞ্জলীর উপদেশ, “সচিত্র বই ওদের জন্যে ভালো”। তিনি আরো বলেন, “নতুন লেখকদের উচিৎ অন্যরা কি ভাবলো তা আমলে না নিয়ে নিজেদের যা লিখতে মন চায় তা লেখায় মনোনিবেশ করা”।  

গল্পের মূল উপাদান  হিসেবে কল্পনা, চিন্তা, স্মৃতি এবং লেখকের বাস্তবিক অভিজ্ঞতার উপর জোর দিয়ে হিমাঞ্জলী বলেন, “লেখকদের উচিৎ লজ্জা না পেয়ে প্রকাশকদের সাথে যোগাযোগ করা এবং যেকোনো মূল্যে লেখা চালিয়ে যাওয়া– তা যদি ডাইরিতে লিখেও হয়- তবে তা’ই”। আর উপদেশ দিলেন, বেশি বেশি করে পড়ার। কারণ জ্ঞান যেকোনো কিছু থেকেই নেয়া যেতে পারে।