• শনিবার, ডিসেম্বর ১৪, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০২:১১ দুপুর

"মূল কাহিনীতে ভুল খুঁজে বের করা একটি ভয়ংকর ব্যাপার”

  • প্রকাশিত ০৫:৪৮ সন্ধ্যা নভেম্বর ১১, ২০১৮
dhaka lit fest logo

"গল্প বলাকে ব্যবহার করে যে কাউকে আক্রমণ করা একটি সহজ ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে"।

বরেণ্য সব মনিষীদের মধ্যে এবারের ঢাকা লিট ফেস্টে এসেছিলেন পুলিৎজার পুরস্কার বিজয়ী লেখক অ্যাডাম জনসনও।

বাংলা একাডেমির দর্শকপূর্ণ আবদুল করিম সাহিত্য বিশারদ মিলনাতয়নে অ্যাডাম জনসনের সাক্ষাৎকার নেন এশিয়া লিটারেরি এজেন্সি ইন হংকং এর প্রতিষ্ঠাতা কেলি ফ্যালকনার। একঘন্টাব্যাপী এই সাক্ষাতকারে পুরস্কার বিজয়ী এই লেখক তাঁর লেখার উপজীব্য এবং লেখার অন্যান্য বিষয়াবলী নিয়ে আলোচনা করেন।

আলোচনা সভায় অ্যাডাম বললেন, “বর্তমান বিশ্বে গল্প বলাকে ব্যবহার করে কাউকে আক্রমণ করা একটি সহজ ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে"।

তিনি আরও বলেন, “গল্প বলার ধরণে ভিন্নতা থাকায় পাঠক লেখকের ধরণের বিরুদ্ধে একরকম রক্ষণশীলতা দেখায় যার দরুন লেখকের লেখার কাজটি কঠিন হয়ে ওঠে। বিজ্ঞাপনে গল্পকে ব্যবহার করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়। রাজনৈতিক নেতা কিংবা বড় বড় কোম্পানিগুলো আবার বানায় অন্য ধরণের গল্প”।

জনসন মনে করেন সবারই উচিৎ তার নিজের গল্পকে তুলে ধরা। উত্তর কোরিয়াকে উপজীব্য করে লেখা তার ছোটগল্পের চরিত্রগুলো ‘কথা বলা’র অপরাধে নির্বাসনে যেতে বাধ্য হয়; এ প্রসঙ্গে মিল টেনে তিনি বলেন, “ ঠিকযেমন উত্তর কোরিয়ায় যেমন একজন আছেন মূল চরিত্র হিসেবে আর বাকি দুই দশমিক তিন কোটি মানুষ গৌণ চরিত্রে”। নিজের উত্তর কোরিয়ায় ভ্রমনের অভিজ্ঞতার আলোকে তিনি এই গল্প লিখেছিলেন।

“শুধুমাত্র একটি কেন্দ্রীয় চরিত্র থাকায় গল্পও একজনকে কেন্দ্র করেই তৈরি করা হয়। এরকম একটি কাহিনীও অত্যন্ত ভয়াবহ হতে পারে”, তিনি বলেন।

জনসন এমন একজন লেখক যিনি পাঠকের অপছন্দের চরিত্রগুলোর মধ্যেও সহমর্মিতার উপাদান যুক্ত করে দিতে পারেন, যেমনটা বলছিলেন কেলি ফ্যালকনার। এ প্রসঙ্গে জনসন বলেন, “লেখার মধ্যে নির্দিষ্ট কিছু মানুষের মানবিকতা না খোঁজার প্রবণতা তাঁকে অস্থির করে তোলে”।ঔপন্যাসিক ও ছোটগল্প লেখক জনসন বলেন, “কিছু মানুষের মধ্যে কোনো অপরাধ করার সময় তাঁর মানবিকতাকে বিকিয়ে দেওয়ার একটা প্রবণতা কাজ করে”।  তিনি দায়মোচনের এই প্রবণতাকে মূল্যায়ন করতে এবং সেই ব্যক্তির মনস্তাত্ত্বিক জগতটাকে পরখ করে দেখতে চান।

আমেরিকার স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক অ্যাডাম জনসন তাঁর লেখার জন্যে অনেক সম্মানজনক পুরস্কার পেয়েছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো গুগেনহাইম ফাউন্ডেশন থেকে প্রাপ্ত ‘হোয়াইটিং অ্যাওয়ার্ড’ ও ফেলোশিপ এবং বার্লিনের আর্টস অ্যান্ড দ্যা আমেরিকান একাডেমি থেকে প্রাপ্ত ‘ন্যাশনাল অ্যান্ডাউমেন্ট’। তিনি ২০১৩ সালে ‘দ্যা অর্ফান মাস্টার্স সান’ এর জন্যে পুলিৎজার পুরস্কার এবং ‘ফর্চুন স্মাইল’-এর জন্যে ২০১৫ সালে ন্যাশনাল বুক অ্যাওয়ার্ড পান।

তার লেখা ‘স্কয়্যার’, ‘ জিকিউ’, ‘প্লেবয়’, ‘হার্পার্স ম্যাগাজিন’, ‘গ্র্যান্টা’, ‘টিন হাউজ’ এবং ‘দি বেস্ট আমেরিকান শর্ট স্টোরিজ’-এ প্রকাশিত হয়েছে।