• শুক্রবার, ডিসেম্বর ১৩, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৩১ রাত

“ইংরেজি সংস্কৃতিতে মধুর ঝগড়া বলতে কিছু নেই”

  • প্রকাশিত ০৪:৩১ বিকেল নভেম্বর ১২, ২০১৮
ফিলিপ হেনশার। ছবি: মাহমুদ হোসেন অপু
ফিলিপ হেনশার। ছবি: মাহমুদ হোসেন অপু

ঢাকা লিট ফেস্ট ২০১৮ এর দ্বিতীয় দিনে কথা হয় ফিলিপ হেনশার সাথে

ফিলিপ হেনশার ‘দ্যা নর্দার্ন ক্লেমেন্সি’ এবং ‘সিনস ফ্রম অ্যান আর্লি লাইফ’ বই দুটির লেখক। তার এই সাক্ষাৎকার নেওয়া হয় ঢাকা লিট ফেস্ট ২০১৮ এর দ্বিতীয় দিনে। কথা হয় তার নতুন উপন্যাস ‘দ্যা ফ্রেন্ডলি ওয়ান্স’ নিয়ে কথা বলেন।

এবার আপনি দ্বিতীয়বারের মতো ঢাকা লিট ফেস্টে এলেন। এবার আসার পেছনের কারণ কি? 

কারণ আয়োজকরা আমাকে আমন্ত্রণ জানালো! আমাকে বাংলাদেশে আসার আমন্ত্রণ জানালে আমি না করিনা। এ এক অসাধারণ জায়গা! আমি পাঁচবছর ধরে এখানে আসিনা। এবার তাই দেখতে এলাম এই পাঁচ বছরে কি কি পরিবর্তন হয়েছে।

আপনার নতুন উপন্যাস, দ্যা ফ্রেন্ডলি ওয়ান্স আক্ষরিক অর্থেই অনেক বড়। এ নিয়ে কিছু বলবেন কি?

এই উপন্যাস পাশাপাশি বসবাসরত দুই পরিবারের কাহিনী যাদের আবার ভিন্ন ভিন্ন অতীত ইতিহাস আছে। তারা সবাই খুব বন্ধুত্বপূর্ণ, তবে তারা একে অপরের অতীত জানেনা। এই উপন্যাসে দেখানো হয়েছে এই পরিবার দুটি কিভাবে এখানে এলো। এখানে একই সাথে একটি নির্দিষ্ট স্থানে বর্তমান সময়ের ইউরোপের সংস্কৃতি এবং তার পাশাপাশি অন্য আরেকটি নির্দিষ্ট সংস্কৃতির ইতিহাসকে তুলে ধরা হয়েছে।   

উপন্যাসে দেখানো দুটি পরিবারের মধ্যে একটি হলো স্পিন্টার পরিবার। তারা খুব অদ্ভুত ধরণের। এই চরিত্রগুলো আপনি কল্পনা থেকেই তৈরি করেছেন? নাকি বাস্তবিক কোনো ব্যক্তির সাথে এদের মিল আছে? 

চরিত্রগুলো মূলত পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে সৃষ্টি করা। একজন ঔপন্যাসিক হিসেবে আমি বিভিন্ন পাবলিক প্লেসে প্রচুর সময় ব্যয় করি। মানুষ কিভাবে একে অপরের সাথে কথাবার্তা বলে, কিভাবে কোনো একটি ঘটনা কোনো একটি সম্পর্কে বা কোনো চরিত্রের উপর প্রভাব ফেলে এসব বিষয় আমি দেখতাম। এক্ষেত্রে যেটা হয়েছে তা হলো আমি যখন লিখছিলাম তখন চেষ্টা করেছি স্পিন্টার পরিবারের সদস্যদেরকে বাস্তবতার সাথে একটু ভিন্নভাবে সম্পৃক্ত করতে। তবে, ৩০০ পৃষ্টা লেখার পর আমি বুঝতে পারি এই চরিত্রগুলোর ওরকম করার কারণ হলো তারা বেশ খর্বকায়। এই পরিকল্পনা আমার মাথায় শুরু থেকে ছিলনা। পিতা চরিত্রের হিলারি স্পিন্টার বেশ স্পষ্টভাষী।  

বইয়ের শেষদিকে আমরা দেখতে পাই হিলারি প্রতিবেশি একজনকে বন্ধু বানান যার সাথে তিনি যুক্তিতর্ক চালিয়ে যেতে পারেন। আমার কাছে এই বিষয়টাকে দুজনের জন্যেই মানানসই বলে মনে হয়েছে।  

সত্যি বলতে কি জানেন? আমি এই জন্যেই বাংলা সংস্কৃতিকে প্রচণ্ড ভালোবাসি। আমার মনে হয় বাংলা এবং ইংরেজি সংস্কৃতিতে অনেকদিক দিয়ে মিল রয়েছে। আমরা একে অপরের সংস্কৃতিকে খুব সহজেই বুঝতে পারি। কিন্তু, এই দুই সংস্কৃতির মধ্যে এক বড় অমিল হলো ইংরেজি সংস্কৃতিতে এরকম ছোটখাটো ঝগড়া করার চল নেই যেটা এখানে খুব প্রচলিত। আমি বাঙালি যাদের চিনি তারা সবাই কোথাও না কোথাও দেখা যাবে এরকম আক্রমণাত্মক কথাবার্তা বলবেই। হিলারি স্পিন্টারও ঠিক সেরকম। কিন্তু তার পরিবার আবার এসবে আগ্রহী নয়। সে বিতর্কমূলক বা আপত্তিকর কিছু বললে পরিবারের সদস্যরা বলে, “তুমি যেহেতু বলেছ, ঠিক আছে” এবং তারা আর কথা বাড়ায় না। সৌভাগ্যবশত সে এমন এক প্রতিবেশিকে পেয়ে যায় যে তার সাথে অনেকটা বাঙালি প্রতিবেশীর মতো আচরণ করে এবং বলে, “না তুমি যা বলেছ একদম ঠিক নয়, বাস্তবতা হলো...” 

তারা দুজন ইংলিশ একটা এলাকায় ‘আড্ডা’র উপর ভিত্তি করে সম্পর্ক তৈরি করে ফেলে। হিলারি যদিও জানেনা এ থেকে তার প্রাপ্তি কী, তবে তার জন্যে এই ‘আড্ডা’র মূল্য অনেক।

আপনার বইয়ের বেশ কিছু অংশ যুদ্ধকালীন ঢাকার পটভূমিতে লেখা। এটা করতে গিয়েতো আপনাকে অনেক পড়াশুনা করতে হয়েছে। সেটা কিভাবে করলেন? 

হ্যাঁ, কিছু পড়াশুনা তো করতে হয়েছেই। তবে এ পড়াশুনা একদমই ব্যক্তিগত পর্যায়ের, একাডেমিক পড়াশুনা না। কিছু পড়াশুনা করলেও আমি সেইসময়ে যারা ঢাকায় ছিল সেরকম অনেকের সাথে সরাসরি কথা বলে তাদের অভিজ্ঞতা শুনেছি। যে বই থেকে সবচেয়ে বেশি অনুপ্রেরণা পেয়েছি তা হলো জাহানারা ইমামের ‘একাত্তরের দিনগুলি’। আমার মনে হয় এটি স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়ের বিস্তারিত জানার জন্যে এক অনন্য বই। সে সময়ের মানুষ ঘটনাপ্রবাহে কিরকম প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে তার বিস্তারিত আছে এই বইয়ে।