• শনিবার, ডিসেম্বর ১৪, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০২:১১ দুপুর

“বই-ই আমার একমাত্র বন্ধু ছিল”

  • প্রকাশিত ০৪:৩৬ বিকেল নভেম্বর ১২, ২০১৮
ছবি: মাহমুদ হোসেন অপু
ছবি: মাহমুদ হোসেন অপু

"বিস্মিত হতে হয়, অবাক হতে হয়, দৃঢ়প্রোথিত হতে হয়, ঝাঁকুনি খেতে হয় এমন ধরণের পাণ্ডুলিপি পেতেই আমি পছন্দ করবো"

নিউ ইয়র্কের ব্রুকলিনের হোয়াইটিং ফাউন্ডেশনের রাইটার্স প্রোগ্রামের পরিচালক হিসেবে কর্মরত আছেন কোর্টনি হডেল। সম্পাদক হিসেবে তিনি প্রখ্যাত লেখকদের মধ্যে উইলিয়াম ফিনেগান, মেরি কর, অমিতাভ ঘোষ, রেইচেল কাস্ক, নোবেল বিজয়ী মো ইয়ানসহ আরো অনেকের সাথেই কাজ করেছেন। কোর্টনি হডেল এই সাক্ষাতকারে আলাপ করেন তাঁর প্রতিষ্ঠান ও সম্পাদক হিসেবে কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে।

ঢাকা লিট ফেস্টে আপনার অভিজ্ঞতা কেমন?

এটি এক অসাধারণ উৎসব। এ অনুষ্ঠান মানুষকে কাছাকাছি আসার সুযোগ করে দিয়েছে। এই আয়োজন সীমিত আকারের হওয়ায় সবার সাথে যেমন কথাও বলা যাচ্ছে, তেমনি প্যানেল আলাপেও অংশ নেওয়া যাচ্ছে। অন্যদিকে এখানকার আয়োজন বেশ উচ্চাকাঙ্খীও, কেননা যেসকল বিষয়ে এখানে আলাপ হচ্ছে তা নিঃসন্দেহে সাহসিকতার পরিচায়ক এবং সবার এই আলোচনায় সামিল হওয়ার আগ্রহও কিন্তু উপভোগ করার মতো। আর এখানে আতিথেয়তার আয়োজনও অসাধারণ!  

হোয়াইটিং ফাউন্ডেশনের রাইটার্স প্রোগ্রাম নিয়ে কিছু বলবেন কি?

সাহিত্য ও জ্ঞানচর্চায় হোয়াইটিং ফাউন্ডেশন প্রায় চল্লিশ বছর ধরে অবদান রেখে আসছে। আমরা সাধারণত তরুণ লেখকদের বেশি প্রাধান্য দেই, কারণ কেউ একবার জনপ্রিয়তা পেয়ে গেলে এবং অনেক পুরস্কার পেলে তার সম্পর্কে নতুন করে আর জানার কিছু থাকেনা। নতুন ও পাঠকসমাজে অপরিচিত কাউকে নিয়ে কাজ করার কঠিন দিক হলো তাকে তার মেধা যাচাইয়ের, তার নিজস্বতা তৈরির সুযোগ দিতে হয়। তাছাড়া, শুরুতে তাদের লেখার হাতও কাঁচা থাকে। এসব দিক বিবেচনায় নিয়েই আমরা এরকম উঠতি লেখকদের সুযোগ করে দেই যেন তারা এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে লক্ষ্য অর্জন করতে পারে।

আপনি সম্পাদক হলেন ঠিক কিভাবে? তাছাড়া, সম্পাদক হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা কেমন যদি বলতেন।

এটা পৃথিবীর  সবচেয়ে সুন্দর পেশা! আমি ছোটবেলায় খুব লাজুক এবং নিঃসঙ্গ ছিলাম। আমি সবসময় পড়তাম। এজন্যে বই-ই আমার প্রকৃত বন্ধু ছিল। কিন্তু, বই পড়েও যে জীবন চলে, এরকম ধারণা কিন্তু প্রচলিত না। বাস্তবতা হলো, আমি ঠিক এই কাজটিই করি। আমি এজন্যে নিজেকে অত্যন্ত ভাগ্যবান মনে করি। আমি অবশ্য বলতে গেলে দূর্ঘটনাবশত এই পেশায় আসি। আমার মনে হয় সে-ই একজন ভালো সম্পাদক যে অনেক প্রশ্ন করতে পারে। আপনি কিন্তু লেখক না, আপনি বলতেও পারবেন না যে এইভাবে এই কাজ করা সঠিক বা আপনি ভুলভাবে এই কাজ করেছেন। আপনি শুধু বলতে পারবেন এখানে এটা লাগবে বা এখানে এটা যুক্ত করো বা এখানে কি হচ্ছে আমি বুঝতে পারছিনা।আপনার মধ্যে নম্রতাবোধ থাকতে হবে। আপনি যদি নিরহঙ্কার ও উৎসুক হন তাহলে লেখক আপনার কাজে সাহায্য করবে এবং আপনি ও লেখক মিলে খুব সুন্দর একটি বই প্রকাশ করতে পারবেন।

একজন সম্পাদক হিসেবে একটি পাণ্ডুলিপিতে আপনি কি কি থাকবে বলে আশা করেন?

বিস্মিত হতে হয়, অবাক হতে হয়, দৃঢ়প্রোথিত হতে হয়, ঝাঁকুনি খেতে হয় এমন ধরণের পাণ্ডুলিপি পেতেই আমি পছন্দ করবো। আমি শারীরিক প্রভাবের কথা ভেবে বলবো, ভালো একটি বই পড়লে আমার হৃদকম্পন বেড়ে যাবে।