• শনিবার, ডিসেম্বর ১৪, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০১:৪২ দুপুর

রূপালি পর্দার যুগে গল্প লেখা

  • প্রকাশিত ০৪:৪৮ বিকেল নভেম্বর ১২, ২০১৮
ছবি: মাহমুদ হোসেন অপু
ছবি: মাহমুদ হোসেন অপু

"গল্প বলা সবসমই বিপদজনক একটি বিষয়"

সাংবাদিক ও দ্যা ইন্ডেপেন্ডেন্টের প্রধান টেলিভিশন সমালোচক এড কামিং এর সঞ্চালনায় ‘স্টোরিটেলিং’ শীর্ষক প্যানেলে আলোচনা হয় কিভাবেইন্টার্নেট নির্ভর নয়া-মিডিয়া গল্প-কথনকে প্রভাবিত করছে।

দ্যা আননেইমড প্রেসের সহপ্রতিষ্ঠাতা ক্রিস হাইজার বলেন, “সাহিত্যকর্ম এখন আর গণমাধ্যম নয়”, তিনি নির্দিষ্ট করে বলেন, “ইদানীংকালে প্রকাশকদের ভিন্ন আঙ্গিকের লেখা নিয়ে বেশি আগ্রহ কাজ করে”। 

কবিতার বর্তমান অবস্থা বুঝাতে যেয়ে গ্র্যান্টা ম্যাগাজিনের সহকারী সম্পাদক রোজালিন্ড পর্টার বলেন, “গল্প-কথনে নতুন নতুন কণ্ঠস্বর তুলে আনা জরুরি”। তিনি আরও বলেন, “ইন্টার্নেট মিডিয়ার ফলে এখন কবিতা পাঠকদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার অনেক নতুন মাধ্যম তৈরি হয়েছে”। 

পর্টারের মতে, “টেলিভিশন এখন উপন্যাসের জায়গা দখল করে নিচ্ছে। স্ক্যান্ডি-নইর (ডিটেক্টিভ টিভি সিরিয়াল/মুভি) কোনো ধরণের সাহিত্য না হলেও, এসব অনুষ্ঠান বিনোদনমূলক ও এর প্রচুর জনপ্রিয়তা রয়েছে”। 

হ্যামিলটন হোডেলের ট্যালেন্ট এজেন্ট ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিশ্চিয়ান হডেল বলেন, “স্বাধীনভাবে কাজ করা পরিচালকদের এখন চলচ্চিত্র বানানোর টাকা পেতে হিমশিম খেতে হয়। কারণ, চলচ্চিত্রের বাজার পুরোটাই এখন ব্যবসায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। অবস্থা এমন যেন লেজ এখন কুকুরকে নাড়ায়!”

হডেলের মতে, ‘কিভাবে’ গল্পকে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয় তা গল্প-কথনের পরবর্তী ‘বড় বাজার’ হয়ে দাঁড়াতে পারে।  

বর্তমান যুগের তরুণতরুণীরা কতোটা সময় স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে ব্যয় করে সেদিকে লক্ষ্য রেখে হেইজার বলেন, “স্ক্রিনের এরকম একরোখা প্রভাব থেকে (তরুণদের) বাঁচাতে বই সবসয়মই কার্যকর ভূমিকা রাখবে”। 

সাহিত্যের গভীরতা বুঝতে গেলে পাঠককে সময় নিয়ে পড়তে হবে, সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমের মতো প্রতিক্রিয়াশীল হলে তা হবেনা। তিনি বলেন, “সাহিত্য পাঠকের মনে একরকম প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করে দেয়”।

পর্টারের মতে, গল্প বলা সবসমই বিপদজনক একটি বিষয়। তিনি বলেন, “লেখককে নিজের মতো করে লিখে যেতে হবে, পাঠকদের বা সমালোচকদের মন্তব্য আমলে নিলে তার চলবে না। গল্প লেখা বা বলার প্রচলন কখনোই ব্যবসায়িক কারণে হয়নি, বরং এর মাধ্যমে সংস্কৃতিক প্রতিরোধ তৈরি হয়”। 

সবশেষে তিনি বলেন, “উঠতি লেখকদের উচিৎ ভালো মানের বই পড়া, সেসকল বই যা তাদের জন্যে বোঝা সহজ নয়– যেমন অন্য ভাষা ও সংস্কৃতির বই”। 

হডেল তার সমাপনি বক্তব্যে বলেন, “উপন্যাস লিখতে চাইলে লেখকের একাগ্রতা, স্বদিচ্ছা এবং আত্মবিশ্বাস থাকতে হবে। শিল্পই একরকম ব্যবসায়”।