• বৃহস্পতিবার, জুলাই ১৮, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৫৩ রাত

'গুজব' নিয়ে যা বললেন বিখ্যাত সাংবাদিকরা

  • প্রকাশিত ০৩:৩৫ বিকেল নভেম্বর ১৩, ২০১৮
ছবি: মাহমুদ হোসেন অপু
ছবি: মাহমুদ হোসেন অপু

“বাঁশেরকেল্লা সবচেয়ে বড় ফেসবুক পেইজ, কিন্তু টাকা আয় করা এই পেইজের উদ্দেশ্য না“

ঢাকা লিট ফেস্টের এক প্যানেল আলোচনায় দেশ-বিদেশের প্রখ্যাত কয়েকজন সাংবাদিক একত্রিত হয়েছিলেন। তাদের মতে মূলধারার মিডিয়া এখন অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার যুদ্ধ করে যাচ্ছে ইন্টার্নেট নির্ভর মিডিয়ার সাথে। আর এর সাথে যোগ হয়েছে মূলধারার মিডিয়া থেকে লব্ধ আয় কমে যাওয়া। 

শনিবার বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গনে ঢাকা লিট ফেস্টের এক প্যানেল আলোচনায় এই কথাগুলো উঠে আসে।

সাংবাদিক ও গবেষক আফসান চৌধুরী বলেন, “যেখানে বিশ্বব্যাপী নিউজ মিডিয়া আয় কমে যাওয়া নিয়ে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে, সেখানে বাংলাদেশের প্রচলিত মিডিয়ার এ নিয়ে কোনো মাথাব্যথা নেই। এর কারণ হলো, বাংলাদেশে মিডিয়ায় কেউ ব্যবসা করতে আসেনা, বরং মিডিয়ায় আসে মিডিয়াকে হাতিয়ার হিসেবে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন পন্থায় উপার্জিত টাকা রক্ষা করতে”।

তিনি আরো বলেন, “যারা মিডিয়ায় কাজ করে তাদের জন্যে এই কাজ করা জীবিকা নির্বাহের প্রশ্ন হলেও যারা গুজব ছড়ায়, তাদের জন্যে অর্থকড়ি কোনো বিষয় না। যেমন ফেসবুকে বাঁশেরকেল্লা সবচেয়ে বড়  পেইজ, কিন্তু টাকা কামাই করা এই পেইজের উদ্দেশ্য না”। 

দ্যা ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর একজন সম্পাদক হুগো রেস্টাল। ২০০৪ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত দ্যা ফার ইস্টার্ন ইকোনমিক রিভিউ-এর সম্পাদক ছিলেন তিনি।  তিনি বলেন, “সংবাদপত্র যে সময়টুকু পাঠকের কাছ থেকে পায়, ফেসবুক সেই সময়কে ব্যবহার করে আয় করতে পারে। সাংবাদিকদের পেছনে যে অর্থ খরচ করা যেত, ফেসবুক সেই টাকা তুলে নিচ্ছে। অন্যদিকে মিডিয়ার আত্মবিশ্বাসও কেড়ে নিচ্ছে ফেসবুক”।

প্রকাশিত সংখ্যার বিচারে দ্যা ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল আমেরিকার সবচেয়ে বড় সংবাদপত্র। 

রেস্টাল মনে করেন আমেরিকার গণমাধ্যমের বর্তমান সমস্যা হলো তারা জনপ্রিয়তাকে পুঁজি করে চলে। তিনি বলেন, “ব্রিটেনে ব্রেক্সিটের মতো ঘটনা ঘটলো শুধু মাত্র মিডিয়ার কারসাজিতে। মিডিয়া অভিবাসী সংকট নিয়ে রিপোর্ট করে মানুষকে প্রভাবিত করেছে”। 

ভারতীয় লেখক ও সাংবাদিক অ্যানি জাইদি বলেন, “মূলধারার গণমাধ্যমে বিভিন্ন ধরণের আলাপ প্রচলিত আছে। অন্যদিকে নীরবতা পালনের উদাহরণও আছে। যখন অহেতুক নীরবতা পালন করা হয়, তখন মিথ্যাও আশ্রয় খুঁজে নেয়”। 

তিনি আরও বলেন, “সাধারণ মানুষ যে তাদের নিজেদের কথা সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে সরাসরি লিখতে পারে, এটা কোনো সমস্যা নয়। কিন্তু, সমস্যা হলো সাধারণ মানুষ সত্য ও মিথ্যার মধ্যে পার্থক্য করতে পারেনা। একাজের জন্যই মূলত সাংবাদিকদের দরকার পড়ে। কেউ যদি অনুসন্ধানমূলক রিপোর্ট ফেসবুকে প্রকাশ করে, তাতে আমার কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু, সত্যি করে বলুন তো কেউ আদৌ এই কাজটি করে কিনা”। 

"এখন মানুষ যেভাবে সংবাদ গ্রহণ করে, তা দিয়ে তাদের জীবনযাপনে পরিবর্তনের ধরণ বোঝা যায়", বলেন ঢাকা ট্রিবিউনের সম্পাদক জাফর সোবহান। তিনি আরও  বলেন, “মোটাদাগে বলতে গেলে জীবন এভাবেই চলছে"।  

“সমাজের এলিট শ্রেণীর প্রতিনিধিরাই সবসময় খবর নিয়ন্ত্রণ করে আসছে”, বলেন জাফর সোবহান। “অনেকদিন আগের কথা না যখন বিবিসি মানুষকে যা বলতো, তাকেই সংবাদ হিসেবে গ্রহণ করা হতো", ব্রেক্সিটের সময় মূলধারার প্রগতিশীল মিডিয়ার নির্বাক থাকা নিয়ে তিনি এ কথা বলেন । বাংলাদেশের চিত্রও একই রকম। তবে, সোশ্যাল মিডিয়া এই চিত্র পাল্টে দিচ্ছে। তিনি আরও বলেন,  “এই এলিট শ্রেণীর বলয় একবার ভেঙে গেলেই বাংলাদেশ দেখতে কেমন তা সবাই টের পাবে”।

এই সেশন সঞ্চালনা করেন ঢাকা ট্রিবিউনের প্ল্যানিং অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজি সম্পাদক আসিফ ইসলাম।