• বৃহস্পতিবার, জুলাই ১৮, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৬:৪৯ সন্ধ্যা

শিল্প, সংস্কৃতি ও সাহিত্যের প্রতি অঙ্গীকার ব্যক্ত করে শেষ হলো ঢাকা লিট ফেস্ট ২০১৮

  • প্রকাশিত ০৬:০৩ সন্ধ্যা নভেম্বর ১৩, ২০১৮
ছবি: মাহমুদ হোসেন অপু
ছবি: মাহমুদ হোসেন অপু

"বাকস্বাধীনতা হরণ করা কখনোই একটি আধুনিক রাষ্ট্রের কাছ থেকে প্রত্যাশিত নয়"

বাংলাদেশে আয়োজিত সবচেয়ে বড় পরিসরের আন্তর্জাতিক সাহিত্য উৎসব – তিনদিন ধরে চলা ঢাকা লিট ফেস্ট (ডিএলএফ) বাংলাদেশের শিল্প, সংস্কৃতি ও সাহিত্যকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করণের মাধ্যমে শেষ হয়।

বাংলা একাডেমির প্রাঙ্গনে আবদুল করিম সাহিত্য বিশারদ অডিটোরিয়ামে ঢাকা লিট ফেস্টের পরিচালক কে আনিস আহমেদ, আহসান আকবর ও সাদাফ সাজ এই উৎসবের সমাপ্তি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত প্রধান অতিথি হিসেবে এবং ওনদাতজি পুরস্কারপ্রাপ্ত ঔপন্যাসিক ফিলিপ হেনশার ও অস্কার বিজয়ী অভিনেত্রী টিল্ডা সুইনটন বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের পটভূমিকে বিবেচনায় নিয়ে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকাকে পবিত্র ভূমি আখ্যায়িত করে অনদাতজি পুরস্কারপ্রাপ্ত ঔপন্যাসিক ফিলিপ হেনশার বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানান, বাকস্বাধীনতা ও মত প্রকাশের মাধ্যম যেন কেড়ে নেওয়া না হয়।

বর্তমানে জেলে থাকা প্রখ্যাত ফটোগ্রাফার শহীদুল আলমের কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “ফটোগ্রাফার শহীদুলকে আটকে রাখা খুব ভয়াবহ কাজ। বাকস্বাধীনতা হরণ করা কখনোই একটি আধুনিক রাষ্ট্রের কাছ থেকে প্রত্যাশিত নয়"।

তিনি আরো বলেন যে, “সাহিত্য একটি বুদবুদের মতো। এতে বিভিন্ন জনের কণ্ঠস্বর একত্রিত করা যায়। এই কণ্ঠস্বরের কিছু থাকে যা বিতৃষ্ণার জন্ম দেয়, আর  কিছু বাড়তি ঝামেলা তৈরি করে। চিন্তার স্বাধীনতা ও বাক স্বাধীনতার মধ্য দিয়েই সমাজ, সাহিত্য তথা গোটা বিশ্ব শক্তিশালী হয়"।

অস্কার বিজয়ী ব্রিটিশ অভিনেত্রী বলেন, “এই আয়োজন এক কথায় অসাধারণ, এবং এর শিল্পমূল্যও মানবিকতাপূর্ণ। আমি আশা করি পরের বছর আমরা আবার একে অপরকে দেখতে পাব।“

সমাপ্তি অনুষ্ঠানের শুরু হয় বাংলা একাডেমিতে স্পিরিচুয়াল গান বাজানোর মাধ্যমে।

গায়ক টনি মাইকেল এবং তাঁর দল সকালে গান পরিবেশন করে। আয়োজকরা বলেন, ৩০ এর অধিক সংখ্যক সেশনে আয়োজন করা হয়েছে যেখানে বাংলাদেশি ও বিদেশী অনেক প্যানেলিস্ট আলাপ-আলোচনা করেন।

“ভ্যারিড টাংস” শীর্ষকএক সেশনে কবি কামাল চৌধুরী, শিক্ষক সৌরভ সিকদার এবং জিন্নাত ইমতিয়াজ আলী, এবং মাতৃভাষা রক্ষা আন্দোলনের কর্মী গর্গ চ্যাটার্জি ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক বিষয়াদি নিয়ে কবি সামসুর রাহমান সেমিনার রুমে আলাপ করেন।

পাঁচ বছর আগে ক্যান্সার ধরা পরার পর বলিউডের বিখ্যাত অভিনেত্রী মনীষা কৈরালা হিলড নামক বইতে তাঁর চিকিৎসা চলাকালীন সময়ের অভিজ্ঞতা নিয়ে লিখেছেন। কারণ, কোন দুরারোগ্য ব্যাধিতে কেউ আক্রান্ত হলে সে যেন তার এই লেখা পড়ে অনুপ্রাণিত হয়, সাহস পায় দৃঢ়তার সাথে লড়বার।

আব্দুল করিম সাহিত্য বিশারদ অডিটোরিয়ামে সোয়া এগারোটায় সাদাফ সাজ এর সঞ্চালনায় প্যানেল আলোচনা অংশগ্রহণ করেন মনীষা কৈরালা। একই অডিটোরিয়ামে বিকেল সোয়া তিনটায় আহসান আকবরের সঞ্চালনায়  ‘অন ড্রামডুয়ান হিল' শীর্ষক প্যানেলে টিল্ডা সুইনটন তাঁর আগ্রহের বিভিন্ন বিষয়াবলী নিয়ে আলাপ করেন।

ঢাকা টিবিউন-এর সম্পাদক জাফর সোবহান, সাংবাদিক আফসান চৌধুরী, দ্যা ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এর হুগো রেস্টাল, লেখক অ্যানি জাইদি এবং আসিফ ইসলাম ব্রেক্সিট, ডনাল্ড ট্রাম্প এবং আরো কিছু রাজনৈতিক বিষয়াবলী নিয়ে এই সেশনে আলোচনা করেন। “রাইটস ইন দ্যা এইজ অফ ফেইক নিউজ” শীর্ষক এই সেশনটি কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে সাড়ে চারটায় অনুষ্ঠিত হয়।

এর আগে বৃহস্পতিবার সংকৃতি মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর তিনদিন ব্যাপী এই উৎসবের উদ্বোধন ঘোষণা করেন। সেসময় ১৫ টি দেশেরপ্রায় ২০০ জন সাহিত্য ব্যক্তিত্ব, অভিনয় শিল্পী এবং বুদ্ধিজীবী উপস্থিত ছিলেন।

এ বছরের উৎসবে উল্লেখযোগ্য যারা ছিলেন তারা হলেন, পুলিতজার প্রাপ্ত লেখক অ্যাডাম জনসন, বাংলা সাহিত্যের আইকন শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় এবং কমনওয়েলথ রাইটার্স প্রাইজ পাওয়া মোহাম্মদ হানিফ।

পুরস্কার বিজয়ী অভিনেত্রী টিল্ডা সুইনটন, মনীষা কৈরালা এবং পুরস্কার বিজয়ী অভিনেত্রী ও নির্মাতা নন্দিতা দাসও উপস্থিত থেকেছেন।

অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অরওয়েল এবং অনদাতজি পুরস্কার প্রাপ্ত জেমস মিক, সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম, ইমদাদুল হক মিলন, কায়সার হক এবং সেলিনা রহমান।