• সোমবার, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:২৪ রাত

জীবনের প্রতি অদম্য ভালোবাসার গল্প

  • প্রকাশিত ০৭:৩৫ রাত নভেম্বর ১৩, ২০১৮
ছবি: রাজীব ধর
ছবি: রাজীব ধর

“আমার কখনোই মনে হতোনা আমি আর মাত্র কয়েক মাস বেঁচে থাকবো; আমার সবসময় মনে হতো আমি অনেকদিন বাঁচবো"

মনীষা কৈরালা বলিউডের একজন কিংবদন্তি। তিনি পঞ্চাশটার বেশি তামিল এবং হিন্দি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। ১৯৯০ এর দশকে তার চলচ্চিত্র পুরো দক্ষিণ এশিয়ায় ব্যবসায় সফল হয়েছিল।

সাদাফ সাজ এবং মনীষা কৈরালার মধ্যে ‘হিলড’ শীর্ষক আলাপচারিতা ঢাকা লিট ফেস্ট ২০১৮ এর অন্যতম আকর্ষন ছিল। স্বভাবতই এই সেশনে প্রচুর দর্শক সমাগম হয়।

মনীষা বলিউডের কিংবদন্তি। তিনি পঞ্চাশের বেশি তামিল এবং হিন্দি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। ১৯৯০ এর দশকে তার চলচ্চিত্র পুরো দক্ষিণ এশিয়ায় ব্যবসায় সফল হয়েছিল। ঢাকা লিট ফেস্টের প্রযোজক ও পরিচালক সাদাফ সাজ মনীষা কৈরালার সাথে তার ক্যারিয়ার এবং নতুন বই হিলড নিয়ে আলাপ করেন। এই বই ২০১৯ এর জানুয়ারি থেকে দক্ষিণ এশিয়ায় পাওয়া যাবে।

সাদাফ আলাপচারিতা শুরু করেন মনীষার ক্যারিয়ার কিভাবে শুরু হলো এবং কিভাবে তিনি পরবর্তী পদক্ষেপ নিলেন তানিয়ে। মনীষা নেপালের ক্ষমতাধর এক রাজনৈতিক পরিবার থেকে উঠে এলেও বলিউডে ক্যারিয়ার শুরু করার সময় তাঁর কোনো পৃষ্ঠপোষক ছিলনা। সাদাফ তার কাছে জানতে চান এই ভিন্ন এক পরিবেশে কিভাবে তিনি নিজের জায়গা করে নিলেন এবং সকল প্রকার বাধা তিনি কিভাবে অতিক্রম করলেন।

এরপর আলাপচারিতার বিষয়বস্তু হিসেবে তার লেখা বই এর কথা উঠে আসে। সাদাফ মনীষাকে তার স্টেজ-থ্রি ওভারিয়ান ক্যান্সার নিয়ে এবং তিনি কিভাবে এই অবস্থা থেকে সুস্থ হয়ে উঠলেন তা নিয়ে দর্শকদের উদ্দেশ্যে কিছু বলতে অনুরোধ জানান।

মনীষা তার ক্যান্সারের কথা জানতে পারেন যখন একদিন তিনি প্রচণ্ড ব্যথা নিয়ে ডাক্তারের কাছে যান, এবং ডাক্তার পরীক্ষা করে দেখতে পায় যে মনীষা ক্যান্সার আক্রান্ত। তখন মনীষার পুরো পরিবার একত্রিত হয়ে সিদ্ধান্ত নেয় জটিল এই চিকিৎসার জন্যে কোন দেশে নিয়ে যাওয়া ভালো হবে। সার্জারির পর তাকে কয়েকমাস কেমোথেরাপি নিতে হতো। শরীরে আর ক্যান্সারের কোষ নেই – ডাক্তাররা এমন ঘোষণা দেওয়ার পরেও মনীষা মনে করতেন ক্যান্সার আবার তাকে আক্রমণ করতে পারে কেননা ক্যান্সারের জীবাণু তার পুরো শরীরে ছড়িয়ে গিয়েছিল। আলোচনা খুব আবেগঘন হয়ে পড়ে যখন তিনি বলেন, “আমার কখনোই মনে হতোনা আমি আর মাত্র কয়েক মাস বেঁচে থাকবো; আমার সবসময় মনে হতো আমি অনেকদিন বাঁচবো"। এ সময় সাদাফ মনীষাকে ‘জীবনের প্রতি অকৃতিম ভালোবাসা’র জন্যে উচ্ছ্বসিত কন্ঠে প্রশংসা করেন।

আলোচনার শেষে এসে সাদাফ মনীষার কাছে জানতে চান তার এই অভিজ্ঞতা তাকে কিভাবে পরিবর্তিত করেছে এবং তিনি কেনই বা এই বই লিখলেন। তিনি জবাবে বলেন, “আমি ক্যান্সার থেকে জীবনের অনেক শিক্ষা পেয়েছি। ক্যান্সার আক্রান্ত হওয়ার পর থেকে আমি জীবনকে আরো বেশি মূল্যায়ন করতে শিখেছি"। সেজন্যে তিনি এমন কিছু করতে চেয়েছেন যা দেখে তাঁর নিজেরই গর্ব হয়, সেই ভাবনা থেকেই এই বই লেখা। চিকিৎসা চলাকালীন সময়েই তিনি এমন সব লোকেদের গল্প খুঁজেছেন যারা ক্যান্সারের হাত থেকে বেঁচে ফিরেছেন। এরকম মানুষ খুব কম থাকলেও যারা ক্যান্সারের হাত থেকে বেঁচেছেন, তাদের গল্প খুব অনুপ্রেরণামূলক। তিনি বলেন, “আমার মনে হয়েছে আমার (বেঁচে ফেরার) গল্পগুলো অন্যদের জানানো দরকার যেন তারা নিজেরাও অনুপ্রেরণা পায়"।