• বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ১৪, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৩৮ রাত

মুক্ত চিন্তার উদযাপনে শুরু হলো ঢাকা লিট ফেস্ট ২০১৯

  • প্রকাশিত ০৫:৫০ সন্ধ্যা নভেম্বর ৭, ২০১৯
ঢাকা লিট ফেস্ট
৭ নভেম্বর, ২০১৯, ঢাকা লিট ফেস্টের অতিথিরা উৎসবের উদ্বোধন করেন। ছবি: সৈয়দ জাকির হোসেন/ঢাকা ট্রিবিউন

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন 'ব্রিক লেন' খ্যাত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ লেখক মনিকা আলি এবং বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী

উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে বাংলা একাডেমিতে শুরু হলো নবম ঢাকা লিট ফেস্ট। 

ঢাকাকে বিশ্বসাহিত্যের অন্যতম এক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে সাহিত্য চর্চার প্রতি প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে এবারের ঢাকা লিট ফেস্ট ২০১৯ উদ্বোধন হলো। এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশকে বিশ্ব সাহিত্যের এক আকর্ষণীয় ক্ষেত্র হিসেবে প্রস্তুত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।  

উৎসবের পরিচালক সাদাফ সাজ, আহসান আকবর এবং কাজী আনিসের সঙ্গে ঢাকা লিট ফেস্টের উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কেএম খালিদ। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন 'ব্রিক লেন' খ্যাত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ লেখক মনিকা আলি এবং বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী। 

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতার সঙ্গে নাচের দল সাধনার পরিবেশনা আধা ঘণ্টা ধরে মুগ্ধ করে রাখে দর্শকদের। 

সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ তার বক্তব্যে বলেন, "হে ফেস্টিভালের মাধ্যমে বিশ্ব সাহিত্যের সঙ্গে বাংলাদেশের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয় আর ঢাকা লিট ফেস্ট বাংলা সাহিত্যকে পৌঁছে দিচ্ছে বিশ্বের কাছে।"  

সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ঢাকা লিট ফেস্টকে ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে নিয়ে যেতে সহযোগিতার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলেও প্রতিমন্ত্রী জানান। 

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, "রোহিঙ্গা সংকটের কারণে আমাদের অনেক অর্জনই ঢাকা পড়ে যাচ্ছে। আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে এই সংকট যত দ্রুত সম্ভব সমাধানের আবেদন জানাই।"

ঢাকা লিট ফেস্টের অন্যতম পরিচালক কাজী আনিস আহমেদ বলেন, "চিন্তাকে উৎসাহিত করতে আমরা লিট ফেস্টের আয়োজন করি। আমরা বিশ্বাস করি, এখানে একত্র হয়ে পারষ্পরিক আদান-প্রদানের মাধ্যমে মুক্ত চিন্তা উৎসাহিত হবে। আমরা মনে করি মুক্ত চিন্তার বিকাশে উদাহরণ সৃষ্টির মাধ্যমে ঢাকা লিট ফেস্ট বাংলাদেশ ও এর জনগণকে সহযোগিতা করতে পারে।"

তিনি বলেন, "আমরা সর্বদাই বিভিন্ন বিষয়ে কোনো বাধা ছাড়াই মুক্ত ভাবে আলোচনা করতে পেরেছি। যে কোনো বিষয় নিয়েই যে কোনো ধরণের আলোচনা করতে কেউ এসে আমাদের কখনো বাধা দেয় নি।"

"আমরা মানুষের নেশায় বিশ্বাস করি, নিজেদের সাংস্কৃতিক বৈচিত্রের মধ্যেই অন্যান্য সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যে আমরা বিশ্বাস করি। ঢাকা লিট ফেস্ট বাংলাদেশে মুক্ত চিন্তার বিকাশকে শক্তিশালী করবে।"

"আপনয়ারা হয়তো ভাবছেন কেন আমরা এই ডিজিটাল যুগেও শারীরিকভাবে হাজির হয়েছি। কারণ, সমাবেশের মধ্যেই শক্তির বসবাস। মানুষের সমাবেশ হলো একমাত্র বিষয় যা কেবল শক্তির মাধ্যমেই গড়ে উঠতে পারে। লেবানন থেকে হংকংসহ সারা বিশ্বের অনেক জায়গাতেই এখন রাজনৈতিক প্রতিবাদ চোখে পড়ছে। এরকম কিছু প্রতিবাদ আমাদের দেশের অনেক ক্যাম্পাসেও হচ্ছে। মানুষের সার্বিক শক্তির প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। তাদের এই শক্তির সঙ্গে মুক্ত চিন্তা, মুক্ত মিথস্ক্রিয়া, মুক্ত ভাবও একাত্ম হচ্ছে আর এর সঙ্গেই যুক্ত হতে আমরা এখানে এসেছি মূল্যবোধকে জাগ্রত করতে ও ব্যক্তিগতভাবে তা চর্চা করতে।"

লিট ফেস্টের আরেক পরিচালক সাদাফ সাজ বলেন, "আমরা আশা করি ঢাকা লিট ফেস্টে আসা মানুষেরা সহনশীলতা, সহযোগিতা, নম্রতা ও সহমর্মিতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল।" 

তিনি বলেন, "আমরা মনে করি এই জায়গা বহুত্ব, অসাম্প্রদায়িকতা, গনতন্ত্র, বাকস্বাধীনতা ও বৈচিত্র্যতা চর্চার জায়গা। আমাদের পরিচয়কে আমরা আরও শক্তিশালী করতে চাই, তবে এটি অন্যদের দ্বারা সংকুচিত বা গৎবাঁধা ছাঁচের মধ্যে পড়ে যাক তা চাই না। আমাদের ঐতিহ্য থেকে আমরা শিখতে চাই, তবে এর দ্বারা সীমাবদ্ধ হতে চাইনা। আমরা চাই বই আর বিস্ময়ের এক পৃথিবীতে আমদের সন্তানেরা বেড়ে উঠুক যেখানে তারা কল্পনা ও জ্ঞানের মূল্য দিতে শিখবে। 

২০১৯ সালকে আদিবাসী ভাষার বর্ষ হিসেবে উল্লেখ করে সাদাফ সাজ বলেন, ঢাকা লিট ফেস্ট আদিবাসীদের ভাষাকে শ্রদ্ধা জানাবে। 

তিনি আরও বলেন, এ বছরের লিট ফেস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আসন্ন জন্ম শতবার্ষিকীকে উৎসর্গ করা হয়েছে।  

১৯৭১ সালে তিন বছর বয়সে বাংলাদেশ ত্যাগের পর এ বছর প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে আসা লেখক মনিকা আলি বলেন, এখানে আসতে পেরে আমি কৃতজ্ঞ ও সম্মানিত বোধ করছি।

তিনি বলেন, "বাংলাদেশ সবসময় আমার ভেতর এক অদৃশ্য শক্তি সঞ্চারিত করেছে। কখনো এটি আমার থেকে দূরে সরে গেছে, কখনো আমি নিজে থেকেই এটি চেয়েছি।"

বাংলা একাডেমির পরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী বলেন, "মানুষের মধ্যে ও প্রজন্মের মধ্যে সংযোগ গড়ে তুলতে ঢাকা লিট ফেস্ট ভূমিকা রাখছে।"

বৃহস্পতিবার (৭ নভেম্বর) থেকে শুরু হওয়া ঢাকা লিট ফেস্ট শেষ হবে শনিবার (৯ নভেম্বর), চলবে সকাল ১০:০০টা থেকে ৭:৩০ পর্যন্ত।