• রবিবার, নভেম্বর ১৭, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১২:০১ দুপুর

যে সমাজ ব্যাপক বৈষম্য সহ্য করে, সে সমাজ অকার্যকর

  • প্রকাশিত ০৩:৫০ বিকেল নভেম্বর ৮, ২০১৯
ঢাকা লিট ফেস্ট
৮ নভেম্বর, ২০১৯, ঢাকা লিট ফেস্টের দ্বিতীয় দিনে 'বর্তমান সমাজে বিদ্যমান বৈষম্য' শিরোনামের প্যানেলে বক্তারা। ছবি: রাজীব ধর/ঢাকা ট্রিবিউন

ঢাকা লিট ফেস্ট-২০১৯ এর দ্বিতীয় দিনে বর্তমান সমাজে বিদ্যমান বৈষম্য নিয়ে প্যানেলে আলোচনা করেন বক্তারা

সমাজে বিদ্যমান বৈষম্য সহজাতভাবেই একজন লেখকের ওপর প্রভাব ফেলে; তা সে লেখকের পছন্দ হোক বা না হোক। কথাগুলো বলছিলেন ঢাকা লিট ফেস্টের দ্বিতীয় দিনের প্যানেলের বক্তারা।

ব্রিটিশ সাংবাদিক ও লেখক কেনান মালিক বলেন, আমি আমার লেখায় আলাদাভাবে বৈষম্যের প্রতি নজর দেই না, তবে আমি যা লিখি তাতে এটি পুরোটাই রসদ যোগায়।

তিনি আরও বলেন, "যে সমাজ ব্যাপক বৈষম্য সহ্য করে সেটি সমাজ হিসেবে কাজই করছে না।"

পুরষ্কার জয়ী ব্রাজিলিয়ান লেখক মারিয়া ফিলোমেনা বৌইসৌ বলেন, ব্রাজিলের বৈষম্যের শেকড় প্রথিত উনিশ শতকে। যদিও বৈষম্যকে আধুনিক পুঁজিবাদী সমাজের চোখ দিয়েই দেখা হয়, কিন্তু ব্রাজিলের অন্ধকার অতীতকে এই সমস্যা থেকে আলাদা করা যাবে না।

"লজ্জাজনক হলেও সত্য, আমেরিকার দেশগুলোর মধ্যে ব্রাজিলই সবার শেষে ক্রীতদাস প্রথা নিষিদ্ধ করে",  বলেন তিনি। 

বেস্ট সেলার উপন্যাস 'মামা তন্দুরি'র লেখক নেদারল্যান্ডের আর্নেস্ট ভ্যান ডার কস্ট বলেন, নাগরিকদের মধ্যে সাম্য কেমন হবে সে বিবেচনায় নেদারল্যান্ডে অপেক্ষাকৃত ভাল একটি সমাজ ব্যবস্থা বিদ্যমান, যদিও এই পরিস্থিতি বেশ দ্রুতই বদলে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, "নেদারল্যান্ডে সাম্য ছিল। সবারই সমান সুযোগ ছিল। তবে এখন আর সে অবস্থা নেই। সেখানে এখন বিভেদ তৈরি হয়েছে।"

কস্ট আরও বলেন, তিনি নিজে যাদের একজন বলে মনে করেন সেই ভালো ও সহজ সরল মানুষদের সম্পর্কে তিনি জানার চেষ্টা করেন যে তারা কীভাবে বৈষম্যের সঙ্গে মোকাবেলা করছে।

আরেক বেস্ট সেলার উপন্যাস 'দ্য বিলিয়নিয়ার রাজ: এ জার্নি থ্রু ইন্ডিয়া'স নিউ গিল্ডেড এইজ' এর লেখক জেমস ক্র্যাবট্রি বলেন, অতি উচ্চবিত্ত মানুষদের পেছনের গল্প জানতে তিনি কৌতুহলী ছিলেন।  

ক্র্যাবট্রির 'দ্য বিলিয়নিয়ার রাজ'-এ ভারতীয় বিলিয়নিয়ারদের জীবন নিয়ে কাজ করেছেন। 

"এই মানুষগুলো নিজেদেরকে রাজনৈতিক সুবিধাপ্রাপ্ত পুঁজিবাদী হিসেবে দেখেন না। বরং তারা নিজেদের ভালো মানুষ ও জাতীয়তাবাদী হিসেবেই দেখেন", যোগ করেন ক্র্যাবট্রি।

তিনি উল্লেখ করেন, কোনো দেশে ব্যাপক বৈষম্য শুরু হলে তা শঙ্কার ব্যাপার, কারণ তারা যতোই ধনী হতে থাকে ততোই এই প্রবণতা বন্ধ করা কঠিন হয়ে পড়ে।

প্যানেলটি সঞ্চালনা করেন ভারতীয় অনুসন্ধানী সাংবাদিক ও লেখক প্রিয়াঙ্কা দুবে।