Tuesday, May 28, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

‘এ কোনো বিদ্রূপাত্মক লেখা নয়, এতে জীবন প্রতিফলিত হয়েছে’

 হানিফ বলেন, একজন লেখক এবং একজন সাংবাদিকের লেখার কিছু মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। এই দুই ধরনের লেখার পদ্ধতিও ভিন্ন।

আপডেট : ১০ নভেম্বর ২০১৮, ১২:৩৯ পিএম

পুরস্কার বিজয়ী উপন্যাস ‘এ কেইস অভ এক্সপ্লোডিং ম্যাঙ্গোজ’-এর লেখক মোহাম্মদ হানিফ তার তৃতীয় ও সর্বসেষ উপন্যাস ‘রেড বার্ডস’-এ যা লিখেছেন তা এক চোখে দেখলেই বিদ্রূপাত্মক বলে মনে হবে। ‘ক্র্যাশিং রিয়েলিটিজ’ শীর্ষক এক সেশনে মোহাম্মদ হানিফ ‘গ্র্যান্টা ‘ ম্যাগাজিনের সহকারী সম্পাদক রস পর্টারের সাথে কমেডি, ফিকশন লেখার করণীয় এবং বিপদজনক সময়েও সত্য প্রকাশে পিছপা না হওয়ার গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন।   

 ‘রেড বার্ডস কেন লিখলেন?’ – এ প্রশ্নের উত্তরে হানিফ বলেন, “আমি নিজেও জানি না এই বই কেন লিখলাম! দুইটি বই লিখে ফেলার পর তৃতীয় আরেকটি বই লেখাই যেন বেশি যুক্তিযুক্ত।  

তিনি বলেন, যতদিন ধরে তিনি বেঁচে আছেন, সবসময়ই যেন যুদ্ধ লেগে আছে। ১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের বছর তার জন্ম। তিনি যখন প্রথম শ্রেণির ছাত্র, সে বছর বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়, অষ্টম শ্রেণিতে থাকাকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন আফগানিস্তান আক্রমণ করে যার রেশ এখনো এই অঞ্চলে বিদ্যমান।  

হানিফ বলেন, ‘আমি সাধারণত আমার উপন্যাসে খারাপ কিছু টেনে আনতে চাই না। কিন্তু, যেই আমি লিখতে লিখতে ১৪ নম্বর পৃষ্ঠায় চলে যাই, হয় কোনো চরিত্রের মৃত্যু ঘটে অথবা কেউ অপহৃত হয়।’ আধুনিকতার এই অন্ধকার ও সমস্যাসঙ্কুল এই যুগের সমস্যা উত্তরণে রসিকতাবোধের বিকল্প নেই বলে তিনি মনে করেন। 

একজন দর্শকের প্রশ্নের উত্তরে হানিফ বলেন, একজন লেখক এবং একজন সাংবাদিকের লেখার কিছু মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। এই দুই ধরনের লেখার পদ্ধতিও ভিন্ন। তিনি মনে করেন সাংবাদিক হিসেবে লিখরে গেলে তথ্য বা ফ্যাক্ট নির্ভুল হতে হয়; অপরদিকে একজন লেখককে ঝুঁকি নিতে হয় কেন না লেখক আগে থেকে জানতে পারেন না তার লেখা কে/কারা পড়বে এবং সে/তারা এই লেখাকে ঠিক কীভাবে নিবে। 

হানিফ ‘রেড বার্ডস’  উপন্যাসে শরনার্থী শিবিরের জীবনকে স্বাভাবিক জীবন হিসেবে তুলে ধরেছেন। পর্টারের ভাষ্যমতে হানিফ এই বইয়ের মাধ্যমে ‘মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার বিদ্যমান বিদেশ নীতিকে কড়া সমালোচনা করা হয়েছে’। তিনি হানিফের কাছে জানতে চান বইটি লেখার সময় এই সমালোচনার বিষয়টি হানিফের মাথায় ছিল কিনা, কেন না বইটি খুব হাস্যরসাত্মকও। 

তবে লেখক একে সমালোচনামূলক লেখা বলতে নারাজ। তার মতে, ‘অনেকের কাছে একে সমালোচনা বলে মনে হলেও বাকিদের কাছে এ স্বাভাবিক জীবনেরই প্রতিচ্ছবি।’ এমন অনেক গল্প আছে যেগুলো পুরোপুরি সত্য হলেও আপাতঃহাস্যকর বলে মনে হয়। তিনি বলেন, ‘এ কোনো বিদ্রূপাত্মক লেখা নয়, এতে জীবন প্রতিফলিত হয়েছে।’ 

সবশেষে হানিফ বলেন, “লেখা একটি ‘একাকীত্বের প্রক্রিয়া’ যার মাধ্যমে মনের মধ্যে লুকানো কণ্ঠস্বরকে গল্পের চরিত্র হিসেবে বিনির্মান করা সুযোগ তৈরি হয়। লেখার সময়টাতে মনে হয় আমি যেন একটা প্যারা শেষ করে আরেকটা প্যারা লিখতে শুরু করি সঙ্গে সঙ্গে এও ভাবি যেন পাঠকও আমার সঙ্গে অগ্রসর হচ্ছে।”


About

Popular Links