রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মধ্যে প্রথম ইউনিট হতে ২০২৭ সালের জানুয়ারি নাগাদ ১,২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদে বাজেট প্রস্তাব বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।
বিগত সরকারের অপরিকল্পিত বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নীতি, দুর্নীতি, লুটপাট ও অনিয়মের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে এবং ক্যাপাসিটি চার্জের নামে বিপুল অর্থ অপচয় ও পাচার হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী।
তিনি বলেন, “বিগত সরকারের অপরিকল্পিত বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নীতি এবং এ খাতে সীমাহীন দুর্নীতি, লুটপাট, অব্যবস্থাপনা ও অনিয়মের কারণে বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। ক্যাপাসিটি চার্জের নামে বিদ্যুৎ খাতে হরিলুট ও অর্থ পাচার হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “বিগত সরকারের সময়ে সম্পাদিত বেশ কিছু মেগা প্রকল্পে একতরফা ও বিতর্কিত শর্ত যুক্ত থাকায় বিদ্যুৎ আমদানি ও ক্রয়ে অতিরিক্ত ব্যয়ের বোঝা আমাদের উপর চেপে বসেছে। এ খাতে বার্ষিক ভর্তুকির পরিমাণ ৪০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গিয়েছে।”
মন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশের স্থাপিত বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ২৮ হাজার ৯১৯ মেগাওয়াট (আমদানি ও অন-গ্রিড নবায়নযোগ্যসহ) হলেও নিরবচ্ছিন্ন ও মানসম্পন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ এখনো নিশ্চিত হয়নি।
বিদ্যুতখাতে দুর্নীতি ও অনিয়ম প্রতিরোধ করতে অর্থমন্ত্রী বাজেট বক্তব্যে কিছু উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ তুলে ধরেন।
মন্ত্রী জানান, পরিবেশবান্ধব ও টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে ২০৩০ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ২০ শতাংশ বিদ্যুৎ নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাত থেকে উৎপাদন করা হবে।
তিনি আরও জানান, ২০৩০ সালের মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ৩৫ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীতকরণ এবং সঞ্চালন লাইন ২৫ হাজার সার্কিট কিলোমিটারে সম্প্রসারণ এবং ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মধ্যে প্রথম ইউনিট হতে ২০২৭ সালের জানুয়ারি নাগাদ ১,২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা।



