বাজেট বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা আমলাতন্ত্রের দক্ষতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে অর্থনীতিবিদ ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেছেন, “প্রস্তাবিত ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেটের প্রায় ৬৬ শতাংশই পরিচালনা ব্যয়ের (অপারেটিং এক্সপেন্ডিচার) জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এটি সরকারি ব্যয়ের দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে, বিশেষ করে যখন প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের জন্য বাজেটে কোনো অর্থপূর্ণ কর্মপরিকল্পনা বা রোডম্যাপ নেই।”
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা অর্থনীতিবিদ ড. হোসেন জিল্লুর রহমান সংবাদপত্রে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে এ কথা বলেন।
এদিকে, এবারের বাজেটকে ‘ঋণনির্ভর’ বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।
তিনি বলেছেন, “বাজেটে বৈদেশিক ঋণের ওপর তুলনামূলক বেশি নির্ভরতা এবং বিভিন্ন খাতে বড় অঙ্কের থোক বরাদ্দ রাখা হয়েছে। যা ভবিষ্যতে আর্থিক শৃঙ্খলার ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। বাজেটের মূল সাফল্য নির্ভর করবে এর কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর।”
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদ থেকে বাজেট অধিবেশনে থেকে বের হয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি এসব কথা বলেন।
দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, “মানবিক অর্থনীতি গড়ার চেষ্টার কথা বলা হয়েছে, সেজন্য বিভিন্ন বরাদ্দ উল্লেখ আছে। যুব সমাজ, পিছিয়ে পড়া মানুষ, এদের কথাও একই সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। সরকার অর্থনৈতিক নীতি কাঠামোকে বাস্তবায়ন করার জন্য যে আর্থিক কাঠামো সেটা অত্যন্ত দুর্বল। আর্থিক কাঠামো যেটা করা হয়েছে তার ভেতরে প্রচুর পরিমাণে বৈদেশিক বিলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এই আর্থিক শৃঙ্খলার ক্ষেত্রে দুশ্চিন্তাটা সেই জন্য কারণ, অনেক ক্ষেত্রে বড় বড় ধরনের থোক বরাদ্দ রাখা হয়েছে।”
সরকার কতটা দক্ষতার সঙ্গে এই বাজেট বাস্তবায়ন করতে পারে, সেটিই আগামী দিনের সবচেয়ে বড় পরীক্ষার বিষয় বলে মনে করেন ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।
সাক্ষাতকারে ব্যাংকিং খাতের কথা উল্লেখ করে জিল্লুর রহমান বলেন, “বাজেটে কিছু সংস্কার উদ্যোগ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, তবে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশে চলমান অস্থিরতা সেই প্রচেষ্টার বিশ্বাসযোগ্যতাকে ক্ষুণ্ন করছে।”
সরকারের ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রার বিষয়ে সংশয় প্রকাশ করে এই অর্থনীতিবিদ বলেন, “প্রকৃত রাজস্ব আদায় এই লক্ষ্যের কাছাকাছি পৌঁছানোর সম্ভাবনা খুবই কম।”



