Saturday, May 18, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

গ্রামে গিয়ে ধান কিনলেন জেলা প্রশাসক

প্রতিটি উপজেলা থেকে কমপক্ষে  ২ থেকে ৩ হাজার মেট্রিক টন ধান কেনা উচিত। তাতে কৃষকরা কিছুটা লাভবান হতো। এতো অল্প ধান কেনায় সব কৃষক এ সুবিধা পাবে না। 

আপডেট : ১৭ মে ২০১৯, ০১:০২ পিএম

কুষ্টিয়ায় গ্রামে গিয়ে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকেই ধান কিনছেন জেলা প্রশাসক মো. আসলাম হোসেন ও জেলা খাদ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। 

১৫ মে, বুধবার দুপুরে সদর উপজেলার আলামপুর ইউনিয়নের ভাদালিয়া গ্রাম থেকে ধান কেনা কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। এ দিন ১৩ জন কৃষকের কাছ থেকে প্রতি কেজি ২৬ টাকা দরে ধান কেনা হয়। 

জেলা খাদ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, কৃষকেরা যেন ধানের ন্যায্য দাম পান এবং  ধান যেন প্রকৃত কৃষকের কাছ থেকেই কেনা হয় তা নিশ্চিত করতে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার জুবায়ের হোসেন চৌধুরী যাছাই-বাছাই করে প্রকৃত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করেছেন।

জুবায়ের হোসেন চৌধুরী বলেন, “সারা দেশে কৃষকরা ঠিক মত ধানের বাজার দর পাচ্ছেন না। তাই কুষ্টিয়ায় গ্রামে গিয়ে প্রকৃত কৃষকের কাছ থেকে ধান কেনা হচ্ছে। যাতে করে কৃষকরা প্রকৃত দাম পায়। সরাসারি কৃষকদের তালিকা করে দেওয়া হয়েছে। একজন কৃষক কমপক্ষে আধা টন ধান সরকারকে দিতে পারবে।”

প্রথম দিনে আলামপুর ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের ১৩ জন কৃষক ধান বিক্রি করতে আসেন। এ সময় কৃষকদের মধ্যে উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়। তারা সরকারের কাছে সরাসরি ধান বিক্রি করতে পেরে আনন্দ প্রকাশ করেন। 

ধান বিক্রি করতে আসা দহকুলা গ্রামের কৃষক মোশাররফ ও শের আলী বলেন, সিন্ডিকেটের কারণে তারা সরকারি গোডাউনে ধান দিতে পারেন না। তবে এবার গ্রামে এসে ধান কেনায় তারা সহজেই ধান বিক্রি করতে পারবেন। এতে কৃষকরা হয়রানি হবে না। ২৬ টাকা কেজি ধান বিক্রি করে তাদের লাভ থাকছে। তবে ধান কেনার পরিমাণ আরও বাড়ানোর দাবি করেন তিনি।

কৃষক আছের আলী ও মহররম জানান, প্রতিটি উপজেলা থেকে কমপক্ষে  ২ থেকে ৩ হাজার মেট্রিক টন ধান কেনা উচিত। তাতে কৃষকরা কিছুটা লাভবান হতো। এতো অল্প ধান কেনায় সব কৃষক এ সুবিধা পাবে না। তারপরও জেলা প্রশাসন থেকে যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে তা কৃষকদের জন্য ভাল হবে।

জেলা খাদ্য কর্মকর্তা মনোয়ার হোসেন বলেন, “প্রকৃত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। এসব কৃষকদের কাছ থেকে ধান কেনা হবে। কোনো ফরিয়া বা দালালের কাছ থেকে ধান কেনার কোনো সুযোগ নেই।”

জেলা প্রশাসক মো. আসলাম হোসেন বলেন, “কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে। সরকার কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাই প্রকৃত কৃষকদের বাছাই করে তাদের কাছ থেকে ধান কেনা হবে। কোনো ভাবেই কোনো সিন্ডিকেট ধান দিতে পারবে না। এতে করে কৃষকরা হয়রানি হবে না। ২৬ টাকা কেজি ধান বিক্রি করতে পারলে কৃষকরা লাভবান হবে। বেশি সংখ্যক কৃষক যাতে ধান বিক্রি করতে পারে সে জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে কমপক্ষে ৪০ জন কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি ধান ক্রয় করা হবে।” 

প্রসঙ্গত, কুষ্টিয়া জেলায় প্রতিবছর প্রচুর খাদ্যশস্য উৎপাদন হয়। এরমধ্যে ধানের উৎপাদন বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। চলতি বছর কুষ্টিয়া থেকে ১ হাজার মেট্রিক টনের বেশি ধান কেনা হবে বলে জানিয়েছে খাদ্য অধিদপ্তর।

About

Popular Links