Monday, May 27, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

খুলনার পাটকল: পে-স্লিপ এসেছে, খবর নেই মজুরির

সাড়ে ৪ বছর বিভিন্ন আন্দোলন কর্মসূচির পর শ্রমিকদের আমরণ অনশনে নামলে সম্প্রতি সরকার রাষ্ট্রায়ত্ব পাটকল শ্রমিকদের ১১ দফার মধ্যে অন্যতম মজুরি কমিশন বাস্তবায়নের দাবি মেনে নেয়

আপডেট : ২৩ জানুয়ারি ২০২০, ১২:০২ পিএম

তীব্র আন্দোলনের পর জাতীয় মজুরি কমিশন অনুযায়ী গত ১৬ জানুয়ারি রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল শ্রমিকরা পে-স্লিপ বুঝে পেয়েছেন। তবে সে অনুযায়ী নতুন কাঠামোতে মজুরির অর্থ এখনও বুঝে পাননি তারা। কবে নাগাদ মজুরি পাবেন সে বিষয়েও কোনো সুনিশ্চিত তথ্য নেই। 

পাটকল কর্মকর্তারাও বিষয়টি নিয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারছেন না। ফলে দেখা দিয়েছে উদ্বিগ্নতা।

এমন পরিস্থিতিতে হতাশ হয়ে পড়া শ্রমিকরা বলছেন, নতুন পে-স্লিপ দিয়ে তো আর পেট চলবে না। হাতে টাকা পেতে হবে। কিন্তু তা কবে পওয়া যাবে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

শ্রমিক আব্দুস সালাম মিয়া বলেন, পে স্লিপ বুঝে পাওয়ার পর ভেবেছিলাম, সন্তানদের নিয়ে দু'মুঠো খেতে পাব। কিছুটা স্বাভাবিক জীবনযাপন করা সম্ভব হবে। কিন্তু এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও অর্থ পাওয়ার কোনো লক্ষ্মণই দেখা যাচ্ছে না। আগের ৮ সপ্তাহের বকেয়া মজুরির বিষয়েও কিছু বোঝা যাচ্ছে না। 

এমন অবস্থায় পে-স্লিপ দিয়ে কী কাজ হবে, প্রশ্ন করেন তিনি।

শ্রমিক নেতা মুরাদ হোসেন বলেন, মজুরি কমিশন বাস্তবায়নের দাবির আন্দোলন সফল হলেও সে অনুযায়ী মজুরির অর্থ হাতে না পাওয়ায় শ্রমিকরা উদ্বিগ্ন। তারা এখনও অনাহারেই রয়েছেন। 

বাংলাদেশ পাটকল কর্পোরেশন-বিজেএমসি’র খুলনা আঞ্চলিক সমন্বয়কারী মো. বনিজ উদ্দিন মিঞাও এবিষয়ে কিছু জানাতে পারেননি।

ছবি: ঢাকা ট্রিবিউনবিজেএমসি’র খুলনা আঞ্চলিক কার্যালয়ের সূত্র জানা গেছে, মজুরি কমিশন বাস্তবায়নের আগ পর্যন্ত, অর্থাৎ গত ২৮ নভেম্বর খুলনার রাষ্ট্রায়ত্ব আলিম জুট মিলে ১৩ লাখ ৪২ হাজার টাকা সাপ্তাহিক মজুরি পরিশোধ করতে হয়। তবে, নতুন মজুরি কমিশন অনুযায়ী গত ১৬ জানুয়ারি এ মিলে সেই মজুরি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। একইভাবে কার্পেটিং জুট মিলে ১০ লাখ ৬৩ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ২০ লাখ টাকা, ক্রিসেন্ট জুট মিলে ৮১ লাখ ৪৪ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ১ কোটি ৭২ লাখ ৫১ হাজার টাকা, দৌলতপুর জুট মিলে ৫ লাখ ৬ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ১০ লাখ ৫০ হাজার টাকা, ইস্টার্ন জুট মিলে ২০ লাখ ৫৩ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ৫২ লাখ ৩০ হাজার টাকা, জেজেআইতে ৪২ লাখ ১৩ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ৭৪ লাখ টাকা, খালিশপুর জুট মিলে ২৯ লাখ ৫১ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ৭০ লাখ টাকা, প্লাটিনাম জুট মিলে ৭৩ লাখ ৯৮ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা ও স্টার জুট মিলে ৫৪ লাখ ৪৯ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ১ কোটি ৬ লাখ টাকার প্রয়োজন হবে। 

এদিকে, ২০১৫ সালের ১ জুলাই থেকে নতুন মজুরি কমিশন বাস্তবায়নের সময় (কার্যকর) দেখানো হয়েছে। সে মোতাবেক অতিরিক্ত প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হবে। যদিও এই হিসাব এখনও চূড়ান্ত করা হয়নি।

বিজেএমসি সূত্র আরও জানিয়েছে, খুলনা ও যশোরের ৯টি জুট মিলে শ্রমিকদের ৮ সপ্তাহের মজুরি বকেয়া রয়েছে। যার পরিমাণ ৩০ কোটি ৬০ লাখ ৩৫ হাজার টাকা। এছাড়া মিলগুলোর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ৩ মাসের বেতন বাবদ বকেয়া রয়েছে ৮ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। সবমিলে মোট বকেয়ার পরিমান ৩৯ কোটি ২৯ লাখ ৪৪ হাজার টাকা।

বিজেএমসি’র খুলনা আঞ্চলিক সমন্বয়কারী মো. বনিজ উদ্দিন মিঞা বলেন, করপোরেশনের নির্দেশনা অনুযায়ী খুলনা অঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ব ৯টি পাটকলের শ্রমিকদের ১৬ জানুয়ারি মজুরির প্রথম স্লিপ দেওয়া হয়েছে। নতুন মজুরি স্কেল অনুযায়ী শ্রমিকদের ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ মজুরি বেড়েছে।

বিজেএমসি’ সূত্র জানায়, ২০১৫ সালে পে-কমিশনের সঙ্গে মজুরি কমিশন ঘোষণা করা হয়। কিন্ত রাষ্ট্রায়ত্ব পাটকলের ঘোষিত মজুরি কমিশন বাস্তবায়নে শ্রমিকদের আন্দোলনে নামতে হয়। সাড়ে ৪ বছর বিভিন্ন আন্দোলন কর্মসূচির পর শ্রমিকদের আমরণ অনশনে নামলে সম্প্রতি সরকার রাষ্ট্রায়ত্ব পাটকল শ্রমিকদের ১১ দফার মধ্যে অন্যতম মজুরি কমিশন বাস্তবায়নের দাবি মেনে নেয়।

About

Popular Links