• বৃহস্পতিবার, আগস্ট ১৬, ২০১৮
  • সর্বশেষ আপডেট : ০২:০৭ দুপুর

অনিয়ম-বিশৃঙ্খলার জন্য তোপের মুখে মুহিত

  • প্রকাশিত ১২:৪৬ দুপুর জুন ১১, ২০১৮
মুহিত
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ফাইল ফটো

ব্যাংকিং খাতে অনিয়ম-বিশৃঙ্খলা ও দুর্নীতির জন্য অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সমালোচনা করেছেন সংসদ সদস্যরা। ব্যাংকিং খাতকে সচল রাখতে অবিলম্বে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জন্য অর্থমন্ত্রীকে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে বলেছেন সংসদ সদস্যরা।

১০ জুন রবিবার সংসদের ২০১৭-১৮ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে সংসদ সদস্যরা এসব কথা বলেন। 

আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য মোঃ আলী আশরাফ ব্যাংকিং সেক্টরে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, ‘অবিলম্বে পদক্ষেপ নেয়া না হলে ব্যাংকিং খাত ধসে যাবে। এ জন্য ‌অর্থমন্ত্রীকে পদক্ষেপ নিতে হবে’। 

তিনি ব্যাংক থেকে অর্থ উত্তোলন ও পাচারের সাথে জড়িতদের অবিলম্বে আইনের আওতায় আনার জন্য জন্য মন্ত্রীকে আহ্বান জানান।

কুমিল্লা-৭ আসনের সংসদ সদস্য আইনমন্ত্রী বলেন, 'লুটপাটের সংস্কৃতি' থেকে আমরা বেরিয়ে আসতে না পারলে এবং ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা না ফিরলে বিনিয়োগকারীরা নিরুৎসাহিত বোধ করবেন’। 

অর্থমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি আরও বলেন,‘সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে এবং ব্যাংকের আমানতকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য লুন্ঠনকারীদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। এই বিষয়গুলো নিয়ে আপনাকে আরও কঠোর হতে হবে’। 

স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য আইনপ্রতিমন্ত্রী ড. মো. রুস্তম আলী ফরাজী বলেন, ঋণদানের নামে ব্যাংক থেকে টাকা পাচার হয়ে যাচ্ছে।

তিনি জানান, 'মানুষ নিরাপত্তার জন্য ব্যাংকগুলোতে তাদের অর্থ জমা রাখে, কিন্তু এখন মানুষ টাকা জমা রাখতে ভয় পায়। কারণ ব্যাংক থেকে হাজার-লক্ষ টাকা বিদেশে পাচার হয়ে যাচ্ছে’। 

তিনি আরও বলেন,‘সরকার ইতিমধ্যেই ব্যাংক মালিকদের যথাযথ সুযোগ দিয়েছে।প্রতিটি মালিক পরিবারকে ৪ জন পরিচালক দেয়ার মতো সিদ্ধান্ত দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। এখন যদি তাদের আরো সুবিধা দেয়া হয়, তাদের ট্যাক্স কমানো হয় এবং সুবিধা প্রদানের এ ধারা অব্যাহত থাকে তাহলে এক সময় ব্যাংক বলতে কিছু থাকবে না’। 

পিরোজপুরের সংসদ সদস্য ফিরোজ রশীদ অর্থমন্ত্রীকে ডিফল্ট ঋণের জন্য একটি কমিশন গঠনের আহ্বান জানান। 

প্রশাসনের দুর্নীতি সম্পর্কে তিনি বলেন, প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে দুর্নীতি চলছে এবং সরকারি কর্মচারীদের বেতন বাড়ানোর পরও দুর্নীতি হচ্ছে।

জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য কাজী ফিরোজ রশিদ বলেন,‘ব্যাংক লুণ্ঠনকারীরা  রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সোনালী ব্যাংক, কৃষক ব্যাংক এবং অন্য কিছু ব্যাংক থেকে অর্থ লুট করেছে’। অর্থমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন "কিন্তু, তাদের বিরুদ্ধে আপনি কি পদক্ষেপ নিয়েছেন?"