• শুক্রবার, অক্টোবর ১৯, ২০১৮
  • সর্বশেষ আপডেট : ১১:২৩ রাত

আমরা বাংলাদেশের ২০ শতাংশ বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে চাই: আজিজ খান

  • প্রকাশিত ১২:৫১ দুপুর সেপ্টেম্বর ২৩, ২০১৮
সামিট গ্রুপের চেয়ারম্যান আজিজ খান
ছবি: আজিজ খানের ব্যক্তিগত সংগ্রহ থেকে।

'আমরা সারা বিশ্বের তুলনায় অনেক দ্রুতগতিতেই তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ করতে পেরেছি এবং ভারতের মতো অন্যান্য অনেক দেশের চাইতেও দ্রুততর গতিতে পরিবেশবান্ধব এবং বিশুদ্ধ শক্তি উৎসের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারছি'

ঢাকা ট্রিবিউনের ইব্রাহিম হোসেন অভির সাথে এক সাক্ষাৎকারে সামিট গ্রুপের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আজিজ বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানী খাত নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেছেন। সম্প্রতি ফোর্বসের একটি সমীক্ষায় আজিজ খানকে সিঙ্গাপুরের ৩৪তম ধনী ব্যক্তি হিসেবে অভিহিত করেছে। সমীক্ষায় তার ব্যবসায়ের বর্তমান পূঁজি দেখানো হয়েছে ৯১০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানী খাতে সামিট গ্রুপের এতো সাফল্যের কারণ কি?

আমি ব্যক্তিগত ভাবে মনে করি এই সাফল্যের মূলে রয়েছে সদিচ্ছা এবং বিশ্বাসযোগ্যতা। সামিট এই বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে এবং মিটসুবিশি, বিশ্ব ব্যাংকের ইন্টারন্যাশনাল ফাইনান্স কর্পোরেশন (আইএফসি) এবং জেনারেল ইলেকট্রিকের (জিই) মত সংস্থার সমর্থন আদায় করে নিতে পেরেছে। 

প্রযুক্তিগত সক্ষমতাও আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এখানেও সামিট সফল হয়েছে।

বিদ্যুতের চাহিদা পূরণে বাংলাদেশকে বর্তমানে আপনি কোথায় দেখেন? কিভাবে আমরা আমাদের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারি বলে আপনার মত?

এটা একটি বিশদ প্রশ্ন তবে, বাংলাদেশের অন্যতম চ্যালেঞ্জ এটাই যে, বাংলাদেশকে বিদ্যুৎ আমদানি করতে হবে। দেখা যাক সরকার ও জনগণ কিভাবে এটা সামলায়। 

প্রাথমিকভাবে, শুরুটা খুব ভাল হয়েছে। আমরা সারা বিশ্বের তুলনায় অনেক দ্রুতগতিতেই তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ করতে পেরেছি এবং ভারতের মতো অন্যান্য অনেক দেশের চাইতেও দ্রুততর গতিতে পরিবেশবান্ধব এবং বিশুদ্ধ শক্তি উৎসের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারছি।

আমদানিকৃত এলএনজি কি প্রাইস-কম্পিটিটিভ হবে?

দেখুন দাম নির্ভর করছে মানুষের ক্রয় ক্ষমতার উপর। এটা চাহিদা ও যোগান এবং মানুষের মাথাপিচু আয়ের উপর নির্ভরশীল। 

বাংলাদেশের মাথাপিচু আয় এখন ১,৭৫০ মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে। তাই আগের তুলনায় দেশটির মানুষের ক্রয় ক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে। আশাকরি, ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধির সাথে সাথে বাংলাদেশের মানুষ আমদানিকৃত এলএনজির উচ্চমূল্যের সাথে মানিয়ে নিতে পারবে।

এই খাতে বাংলাদেশকে নিয়ে সামিটের পরিকল্পনা কি?

একটি দেশের অবকাঠামোর অন্যতম প্রধান অংশ হল বিদ্যুৎ। এই জন্য বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতের সাথে সাথে যুক্ত হতে পেরে আমি গর্বিত।

২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ সরকার ৪০,০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা করেছে। এটা বাস্তবায়ন করতে গেলে বাংলাদেশকে অতিরিক্ত প্রায় ৪০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করতে হবে।

আমরা বাংলাদেশ সরকারেরসাথে কাজ করছি। আমরা বাংলাদেশের বিদ্যুতের ২০% সরবরাহ করতে চাই। এরমানে হল আমরা এই খাতে বাংলাদেশে ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করতে চাই। 

বাংলাদেশে বিদ্যুতের সরবরাহের উন্নতি হলেও ট্রান্সমিশনের মানের তেমন উন্নতি হয়নি। আপনি কি মনে করেন ডিস্ট্রিবিউশন এবং ট্রান্সমিশন বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়া উচিৎ?

হ্যাঁ আমি মনে করি এই বিষয়টি বেসরকারি খাতের লকজনের হাতে ছেড়ে দেওয়া উচিৎ। সরকার বেসরকারি সংস্থাগুলোর অভিজ্ঞতা এবং তাদের মধ্যকার প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে কাজে লাগাতে পারে। 

সামিট গ্রুপ সিঙ্গাপুর স্টক এক্সচেঞ্জে নিজেদের নাম তালিকাভূক্ত করতে চাইছে। এর কারণ কি?

আমরা আমদের সম্পূর্ণ পুঁজিই বাংদেশে বিনিয়োগ করছি। আমি মনে করি বাংলাদেশ বর্তমানে বিনিয়োগের অন্যতম লক্ষ্যে পরিণত হয়েছে। আমরা বাংলাদেশ সরকারের কাছে জিই এবং মিটসুবিশির সাথে যৌথভাবে ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব রেখেছি। সিঙ্গাপুরের স্টক এক্সচেঞ্জ থেকে যে টাকা উঠবে সেটাও বাংলাদেশেই বিনিয়োগ করা হবে।

কেন বাংলাদেশের স্টক মার্কেটে তালিকাভূক্তি নয়?

বাংলাদেশের স্টক মার্কেট পৃথিবীর ক্ষুদ্রতমগুলোর মধ্যে একটা কিন্তু যে টাকা দরকার তা পৃথিবীর পৃথিবীর সর্বোচ্চ। তাই বাগ্লাদেশের চাহিদা পূরণের জন্যই সিঙ্গাপুরের স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভূক্ত হতে চায় সামিট। 

বন্দর উন্নয়নে বিনিয়োগের কোন চিন্তা ভাবনা আছে আপনার?

বন্দর সক্ষমতা বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের সবচেয়ে বড় বাঁধা। আমি বিশ্বাস করি সরকার বিভিন্ন বন্দরগুলোতে উন্নয়ন কার্যক্রমের মাধ্যমে সঠিক পদক্ষেপই নিচ্ছে। 

বিদ্যুতের ব্যবসার পাশাপাশি আমরা চট্টগ্রাম বন্দরের কর্তৃপক্ষকে সাহায্য করার জন্য কাজ করছি এবং বন্দর অবকাঠামোর বিভিন্ন ক্ষেত্র এবং ফাইবার অপটিকসে  ইতোমধ্যেই বিনিয়োগ করেছি।

বাংলাদেশ সরকার বেসরকারি সংস্থাগুলোর জন্য বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের পরিকল্পনা করছে। এই ক্ষেত্রে কি কোন বিনিয়োগের ইচ্ছা আছে?

আমরা বিভিন্ন হাই-টেক পার্কে বিনিয়োগ করলেও কোন অর্থনৈতিক অঞ্চলে এখনও বিনিয়োগ করিনি এখনও। তবে, এই খাতেও আমাদের আগ্রহ আছে। যদিও আমাদের কোন অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিচালনা করার ইচ্ছা নেই। 

বাংলাদেশ ২০২১ সাল নাগাদ আইসিটি খাত থেকে ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। এই লক্ষ্যপূরণ কি সম্ভব?

যদি ৩০ বছর আগে আমাকে প্রশ্ন করতেন যে বস্ত্রখাত থেকে রপ্তানি আয় ৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে কিনা তাহলে আমি না বলতাম। কিন্তু, এখন আমরা প্রতি বছর বস্ত্রখাত থেকে ৩০.৬১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করছি। 

বাংলাদেশে ১৬ কোটি মানুষ আছে। যার অধিকাংশই তরুণ। এবং সরকারও আইটি খাতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে। তাই আমি মনে করি বাংলাদেশ পারবে।

উদ্যোক্তাদের প্রতি আপনার পরামর্শ কি?

আমার উপদেশ হল যে প্রথমে ব্যবসা সম্পর্কে জানুন তারপর বিনিয়োগ করুন। অন্যরা সফল দেখেই বিনিয়োগ করবেন না। নিজের অবস্থান বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিন। আমিও আমার জীবনে এটাই করেছি।

ফোর্বস সম্প্রতি আপনাকে সিঙ্গাপুরের ৩৪তম ধনী ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করেছে। ঐখানে আপনার সম্পদের যে পরিমাণ দেওয়া আছে তা কি সত্যি?

হ্যাঁ সত্যি। তবে সামিটের মূল্যবোধ ফোর্বসের বর্ণনা থেকেও অনেক উঁচুতে।