• বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ১৩, ২০১৮
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৫৪ রাত

আপনার ট্যাক্স আইডি'র কোনও কার্যকারিতা আছে কি?

  • প্রকাশিত ০১:০৪ দুপুর সেপ্টেম্বর ২৪, ২০১৮
ট্যাক্স কার্ড
নিয়মিত করদাতাদের যে স্মার্টকার্ড দেওয়া হয়েছে, বাসায় যত্ন করে তুলে রাখা ছাড়া এর তেমন কোন ব্যবহার নেই। ছবি: সৌজন্যে।

যদিও, করদাতাদের মধ্যে এই কার্ডটি তাদের কর প্রদানের স্মারক এবং গর্বের বিষয় হিসেবে বিবেচিত হয়, কিছু করদাতা এর আসল কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

নিয়মিত করদাতাদের যে স্মার্টকার্ড দেওয়া হয়েছে, বাসায় যত্ন করে তুলে রাখা ছাড়া এর তেমন কোন ব্যবহার নেই। গত বছর জাতীয় আয়কর মেলায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড প্রথমবার নিয়মিত করদাতাদের স্মার্টকার্ড সম্পর্কে ধারণা দেয় যা ঐসময় করদাতাদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি করে। একবছরের বৈধতা সম্পন্ন এইসব স্মার্টকার্ড শুধুমাত্র বাংলাদেশে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূতদের দেওয়া হয়েছিল অনেক আশা নিয়ে। 

যদিও ঐসময়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আগামী আয়কর মেলায় নিয়মিত করদাতাদের স্মার্টকার্ড না দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল। 

এই কার্ডে থাকে করদাতার নাম, করদাতার সনাক্তকরণ নম্বর এবং কুইক রেসপন্স কোড এবং সিলেট, ঢাকা এবং চট্টগ্রামে আয়োজিত করমেলায় কর প্রদানের মাধ্যমে এটা সংগ্রহ করা যেত। এর বাইরে মেলা পরবর্তী সময়ে মাঠ পর্যায়ের রাজস্ব অফিস থেকেও কার্ডটি বিতরণের ব্যবস্থা করেছিল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

যদিও, করদাতাদের মধ্যে এই কার্ডটি তাদের কর প্রদানের স্মারক এবং গর্বের বিষয় হিসেবে বিবেচিত হয়, কিছু করদাতা এর আসল কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

এর আগে, করদাতারা এই কার্ডটির একটি আইনানুগ বৈধতা দাবী করেছিলেন যাতে করে এই কার্ডটিকে তারা তাদের কর প্রদানের সনদ হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। 

রাজস্ব বোর্ড থেকেও এই কার্ড নিয়ে ব্যাপক প্রচার প্রচারণা চালানো হয়েছিল, এমনকি, সৃজনশীল প্রবর্তন হিসেবে কপিরাইট অর্জনেও তারা সক্ষম হয়। গত বছরের ৩০ নভেম্বর সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের কপিরাইট অফিস থেকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে এই কার্ড ব্যবহার ও বিতরণের বিশেষ ক্ষমতা প্রদান করা হয়। 

এরপর রাজস্ব বোর্ড প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আনুষ্ঠানিকভাবে তার ট্যাক্সকার্ড প্রদান করে। এসময় অন্যান্য বিভিন্ন মাননীয় ব্যক্তিবর্গদেরও কার্ড প্রদান করে তারা এবং মেলা চলাকালীন সময়ে ঢাকার মধ্যেই প্রায় ৯১ হাজার কার্ড বিতরণ করে তারা। 

বিগত অর্থবছরে রাজস্ব বোর্ড করদাতাদের মাঝে ১ লক্ষ কার্ড বিতরণ করেছে এবং সরকারও তাদের এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কোটি কোটি টাকা খরচ করেছে। 

এবছরের আয়কর মেলা নভেম্বরের ১৩ থেকে ১৯ তারিখ সারাদেশব্যাপী অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এবছরও শ্রেষ্ঠ করদাতাদের হাতে তুলে দেওয়া হবে স্মারক এবং সনদ। আগে না চাইলেও এবারের আয়করমেলায় ট্যাক্সকার্ড বিতরণের সিদ্ধান্ত নিতে পারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। 

সম্প্রতি, রাজস্ব বোর্ড আসন্ন আয়করমেলার এক প্রস্তুতি সভায় এই প্রকল্পটিকে নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য আলোচনা হয়। এবিষয়ে খুবই দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়। 

একজন উর্ধতন রাজস্ব কর্মকর্তা সূত্রে জানা গেছে যে, বার্ষিক এই মেলা শুরুর পর থেকেই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এবারের মেলায় অংশগ্রহণ আগের বারের তুলনায় অনেক বেশী বাড়বে বলে তাদের ধারণা। 

উল্লেখ্য, গত বছরের মেলায় রাজস্ব বোর্ড ২২,১৭০ মিলিয়ন টাকা রাজস্ব আদায় করেছিল এই মেলা থেকে যা ছিল তার আগের বছরের তুলনায় ৪.১২ % বেশী। 

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ি ২০১৮ সালের জুন মাস পর্যন্ত এই স্মার্টকার্ড সংগ্রহকারী লোকের সংখ্যা প্রায় ৩.৫ মিলিয়ন। যার মধ্যে, ১.৯৫ মিলিয়ন মানুষ কর প্রদান করেছেন। ২০১৭ সালের জুনে ট্যাক্স-জিডিপি অনুপাত ছিল ১০% এর সামান্য বেশী।

এ প্রসঙ্গে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য জিয়াউদ্দিন মাহমুদ ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা মেলাটি মানুষকে সচেতন করার জন্য এবং কর প্রদানের চর্চ্চাকে আরও জনপ্রিয় করে তোলার জন্য আয়োজন করতে যাচ্ছি। এখানে আমরা বিভিন্ন অডিও ও ভিডিও’র মাধ্যমে কর প্রদানের বিষয়ে নতুন নতুন বিশয়গুলো সম্পর্কে করদাতাদের জানানোর চেষ্টা করব’।

তিনি আরও বলেন, ‘আসলে আমরা এই ধরণের মেলার আয়োজন করি জনসাধারণকে কর প্রদানে উৎসাহিত করার জন্য, বিশেষ করে নতুন করদাতাদের। আমাদের মূল লক্ষ্য হল করদাতাদের সাথে ভাল একটা সম্পর্ক গড়ে তোলা’।

তবে এসময় তিনি ট্যাক্সকার্ড প্রদানের বিষয়টি এখনও চূড়ান্ত নয় উল্লেখ করে আগামী ১০-১৫ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে বলে অবহিত করেন।