• রবিবার, অক্টোবর ২০, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০১:২২ দুপুর

চার দিনের ব্যবধানে কাঁচা মরিচের দাম কেজিতে বেড়েছে ১৪০ টাকা

  • প্রকাশিত ১২:০২ দুপুর জুলাই ১৮, ২০১৯
মরিচ
ছবি: ইউএনবি

দেশের সবচেয়ে কাঁচা মরিচ বেশি উৎপাদিত হয় বরিশাল ও ময়মনসিংহ এলাকায়। সেখানে এখনো বন্যা হয়নি কিংবা এতটা বেশি বৃষ্টি হয়নি। অথচ বৃষ্টির অজুহাতে মুনাফাখোর চক্র কাঁচা মরিচের মূল্য বাড়িয়ে সাধারণ মানুষের পকেট খালি করছে।

পেঁয়াজের ঝাঁজের সাথে এবার কাঁচা মরিচের ঝালও বেড়েছে। সাথে বেড়েছে সবজির দামও।

গত কয়েকদিন ধরে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় পেঁয়াজ কেজি প্রতি দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ বেশিতে বিক্রি হওয়ার খবর প্রচার হওয়ার পর এবার হঠাৎ করেই মরিচের দাম বাড়ার খবর পাওয়া গেছে।

রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে কাঁচা মরিচের কেজি ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক সপ্তাহ আগেও এই মরিচ বিক্রি হয়েছে কেজি প্রতি ৬০ টাকায়। এছাড়া বেগুনসহ অন্যান্য সবজির দামও বেড়েছে।

দাম বাড়ার পেছনে টানা বৃষ্টি এবং বন্যাকে দায়ী করছেন ব্যবসায়ীরা। তবে সাধারণ ক্রেতারা বলছেন, বৃষ্টি ও বন্যার অজুহাতে একটি চক্র সবজির দাম বাড়ানোর পেছনে ভূমিকা রাখছেন।

রাজধানীর বাড্ডা এলাকায় বাজারঘুরে দেখা গেছে, কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ২০০ টাকায়। যা আগের সপ্তাহে ছিল ৬০ টাকা। এছাড়া পেঁপের দাম কেজি প্রতি ১০ টাকা বেড়ে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অধিকাংশ সবজি বিক্রি হচ্ছে কেজি প্রতি ৬০ থেকে ৭০ টাকার ওপরে।

বাজারে আসা কয়েকজন ক্রেতা অভিযোগ করে বলেন, ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট বৃষ্টির অজুহাতে দাম বাড়িয়েছে।

নরসিংদী প্রতিনিধি জানিয়েছেন, নরসিংদীতে মাত্র চার দিনের ব্যবধানে কেজি প্রতি কাঁচা মরিচের মূল্য বেড়েছে ১৪০ টাকা। বাজারে এখন ৬০ টাকা কেজি দরের কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা কেজি দরে।

হঠাৎ কাঁচা মরিচের মূল্য এত বৃদ্ধির কারণ জিজ্ঞাসা করলে খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, আড়তেই কাঁচা মরিচের দাম বেড়েছে। তারা আড়ত থেকে বাড়তি দরে কিনে এনে স্বল্প লাভে বিক্রি করছেন।

পাইকারি বিক্রেতারা বলছেন, বৃষ্টির কারণে মরিচ ক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে। বাজারে কাঁচা মরিচ আমদানি কমে গেছে। সে জন্য মরিচের দাম এত বেড়েছে।

সচেতন ক্রেতারা বলছেন, বৃষ্টির কারণে মরিচ উৎপাদন কমে গেছে কথা সত্য কিন্তু সেই অজুহাতে মাত্র চার দিনের ব্যবধানে প্রতি কেজিতে ১৪০ টাকা মূল্য বৃদ্ধির কোনো যুক্তিসংগত কারণ নেই। নিশ্চয়ই এর পেছনে রয়েছে মুনাফাখোরদের কালো হাত রয়েছদেশের সবচেয়ে কাঁচা মরিচ বেশি উৎপাদিত হয় বরিশাল ও ময়মনসিংহ এলাকায়। সেখানে এখনো বন্যা হয়নি কিংবা এতটা বেশি বৃষ্টি হয়নি। যশোর অঞ্চলেও প্রচুর পরিমাণে কাঁচা মরিচ উৎপাদিত হয়। বৃষ্টির অজুহাতে মুনাফাখোর চক্র কাঁচা মরিচের মূল্য বাড়িয়ে সাধারণ মানুষের পকেট খালি করছে।

একইভাবে অত্যাবশ্যকীয় মসলা, রসুন, শুকনা মরিচ, এলাচ গোলমরিচ, আদাসহ বিভিন্ন মসলার দাম অস্বাভাবিকভাবেবাড়িয়ে দিয়েছে একটি চক্র।

এদিকে খুলনা প্রতিনিধি জানিয়েছেন, সপ্তাহখানেকের ব্যবধানে কেজি প্রতি কাঁচা মরিচের দাম ১২০ টাকা ও সব ধরনের সবজির দাম বৃদ্ধি পেয়েছে ৬-৭ টাকা।

মহানগরীর বিভিন্ন বাজারে মানভেদে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ২০০ টাকা, উচ্ছে ৬০ টাকা, ঝিঙে ৪০ টাকা, গাজর ১০০ টাকা, বেগুন ৬০ টাকা, কুশি ৪০ টাকা, পটল ৪০ টাকা, ঢেঁড়শ ৪০ টাকা, কাকরোল ৫০ টাকা, বরবটি ৬০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে।

অথচ সপ্তাহখানেক আগে মানভেদে প্রতিকেজি কাঁচা মরিচ ৮০ টাকা, উচ্ছে ৫০ টাকা, ঝিঙে ৩৫ টাকা, গাজর ৯০ থেকে ৯৫ টাকা, বেগুন ৫০ টাকা, কুশি ৩৫ থেকে ৩৬ টাকা, পটল ৩০ থেকে ৩৫ টাকা, ঢেঁড়শ ৩৫ টাকা, কাকরোল ৪৫ টাকা, বরবটি ৫০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছিল।

নগরীর ময়লাপোতাস্থ কেসিসি সন্ধ্যা বাজার কমিটির সদস্য ব্যবসায়ী সফিকুল ইসলাম বলেন, “বৃষ্টির কারণে সব ধরনের সবজির দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।”