• শুক্রবার, ডিসেম্বর ১৩, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৫৬ রাত

টাঙ্গাইলের কুতুবপুর হাটে সপ্তাহে কোটি টাকার কলাবাণিজ্য

  • প্রকাশিত ০৯:৪২ রাত নভেম্বর ১২, ২০১৯
কলা
টাঙ্গাইলের কুতুবপুর হাট জেলার অন্যতম কলাবাণিজ্য কেন্দ্র হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছে। ঢাকা ট্রিবিউন

‘এ বাজারে সপ্তাহে প্রায় কোটি টাকার কলার বেচা-কেনা করা হয়। তাছাড়া কুতুবপুর টাঙ্গাইলের  অন্যতম বিখ্যাত কলার বাজার বলে খ্যাতি রয়েছে’

টাঙ্গাইলের সখীপুরের কালিয়া ইউনিয়নের কুতুবপুর কলার পাইকারি বাজার হিসেবে জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। প্রতি রবি ও বুধবারের হাটেপ্রায় কোটি টাকার কলা রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যাচ্ছে।

কুতুবপুর বাজারের কলা ব্যবসায়ীরা জানান, উত্তরাঞ্চলের সবচেয়ে বড় কলার হাট এখন সখীপুর উপজেলার কুতুবপুর বাজার। এখানে উপজেলার কুতুবপুর, বড়চওনা, দাড়িপাকা, শ্রীপুর, তৈলধারা, মুচারিয়া পাথার, শালগ্রামপুর, ফুলবাড়িয়া উপজেলার গারোবাজার, ঘাটাইল উপজেলার সাগরদিঘী, জোড়দিঘীসহ জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতি শনিবার বিকেল থেকে রবিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত এবং মঙ্গলবার বিকেল থেকে বুধবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত কলা আমদানি হতে থাকে। কলাচাষী ও ছোট ব্যবসায়ীরা এ হাটে কলা আমদানি করে থাকেন। এর পর তাদের কাছ থেকে পাইকারি ব্যবসায়ীরা সেগুলো কিনে, ঢাকা, ময়মনসিংহ, চট্রগ্রাম, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় নিয়ে বিক্রি করেন।

কুতুবপুর হাটের কলার আড়তদার ফজল মিয়া বলেন, প্রতি হাটে এখান থেকে ২০ থেকে ২৫ ট্রাক কলা দেশের বিভিন্ন স্থানে যায়। কলা ব্যবসাকে কেন্দ্র করে এখানে সাতটি আড়ত গড়ে উঠেছে।

ব্যবসায়ী ও কলা বিক্রেতারা বলেন, এ বছর কলার দাম অনেকটাই বেশি। প্রতি কাঁদি কলা বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ৫০০ টাকা দরে। কলার কাঁদি ওপর নির্ভর করে দাম কমবেশি হয়ে থাকে।

কলা ব্যবসায়ী মিয়া হোসেন বলেন, এ বাজারের কলাগুলো খুবই উন্নত মানের এবং এখানকার কলার চাহিদা দেশের সর্বত্রই রয়েছে। এ কারণে এখানকার কলার দামও একটু বেশি। ১৫ থেকে ১৮ ছড়ি মধ্যম মানের একটি কলার কাঁদি বিক্রি হয় অন্তত ৩০০ টাকা দরে। এর চেয়ে ভালো মানের কলা বিক্রি হয় ৫০০ টাকা পর্যন্ত।

শ্রীপুর গ্রামের কলাচাষী মজিবুর রহমান বলেন, এ উপজেলার মধ্যে এটিই সবচেয়ে বড় কলার হাট। অন্যান্য বাজারেই তুলনায় এ বাজারে বেশি কলা বিক্রি হয়। এখানে দামও কিছুটা ভালো পাওয়া যায়। এ কারণে কুতুবপুরে কলার আমদানিও বেশি।

গারোবাজারের কলাচাষী হযরত আলী জানান, এ বছর তিনি সাড়ে চার বিঘা জমিতে কলা চাষ করেছেন। প্রতি বিঘা জমিতে ৩শ’টি হিসাবে সাড়ে পাঁচ বিঘা জমিতে এক হাজার ৫শ’টি কলা গাছ লাগিয়েছেন। প্রতি বিঘা জমি থেকে অন্তত ৮০ হাজার টাকার কলা বিক্রি হবে। প্রতি বিঘা জমিতে কলা চাষ করতে আমার ৩০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে।

বাজার বণিক সমিতির সভাপতি ও স্থানীয় ইউপি সদস্য মজিবুর রহমান ফকির বলেন, “এ বাজারে সপ্তাহে প্রায় কোটি টাকার কলার বেচা-কেনা করা হয়। তাছাড়া কুতুবপুর  অন্যতম বিখ্যাত কলার বাজার বলে খ্যাতি রয়েছে।”