• বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ১২, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:১৮ রাত

পেঁয়াজের ‘ডবল সেঞ্চুরি’

  • প্রকাশিত ০৮:৩৪ রাত নভেম্বর ১৪, ২০১৯
পেঁয়াজ
ফাইল ছবি। মেহেদী হাসান/ঢাকা ট্রিবিউন

'দেশীয় প্রজাতির নতুন পেঁয়াজ বাজারে না আসা পর্যন্ত দাম কমার সম্ভাবনা নেই। এ জন্য আরও মাস দেড়েক অপেক্ষা করতে হবে'

লাগামহীন পেঁয়াজের বাজার, আবারও বেড়েছে দাম। প্রশাসনের কোনো পদক্ষেপই পেঁয়াজের বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না। 

বৃহস্পতিবার (১৪ নভেম্বর) চট্টগ্রামে খোলা বাজারে প্রতি কেজিতে ৩০ থেকে ৬০ টাকা বেড়ে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১৯০-২০০ টাকা দরে।

মাত্রাতিরিক্ত দামে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন ক্রেতারা অভিযোগ করেন, আগের মতো সিন্ডিকেট করে ফের পেঁয়াজের দাম বাড়ানো হয়েছে। এতে সরকারের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই।

তিন দিন আগেও দেশের বৃহৎ পাইকারি বাজার চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ১১৫ থেকে ১২০ টকা। আর খুচরা বাজারে ভারতীয় পেঁয়াজ ১৩০ থেকে ১৪০ টাকায়, মিয়ানমারের পেঁয়াজ ১১৫ থেকে ১২০ টাকা ও মিসরের পেঁয়াজ ১০৫ থেকে ১১০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। কিন্তু, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় হঠাৎ করে দেশি পেঁয়াজ ১৯০ থেকে ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের পাইকারী বিক্রেতারা জানান, ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের পর আমদানিকৃত পণ্য খালাস না হওয়া এবং চাহিদার চেয়ে আমদানি কম হওয়ায় বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ কমেছে। তাই হু হু করে দাম বাড়ছে।

খাতুনগঞ্জের পাইকারী পেঁয়াজ ব্যবসায়ী বলাই কুমার পৌদ্দার বলেন, ‘‘যে পেয়াঁজ আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে তা দুপুরের পর কেজি প্রতি ৩০-৪০ টাকা বেড়ে গেছে।’’

বাড়তি দামের জন্য সরকার ও স্থানীয় প্রশাসনকে দায়ী করে তিনি বলেন, ‘‘মূল জায়গায় হস্তক্ষেপ না করে প্রশাসন আমাদের ধরে জেল-জরিমানা করছে। এতে করে বাজারে প্রভাব পড়ছে। পেঁয়াজ আমাদানি সহজ করে দিলে এ সমস্যা হতো না।’’

তবে সহসা পেঁয়াজের বাজার নিয়ন্ত্রণে আসার সম্ভাবনা নেই জানিয়ে তিনি বলেন, দেশীয় প্রজাতির নতুন পেঁয়াজ বাজারে না আসা পর্যন্ত দাম কমার সম্ভাবনা নেই। এ জন্য আরও মাস দেড়েক অপেক্ষা করতে হবে।

তবে কোনো কোনো ব্যবসায়ীর মতে, ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবের কারণেও খুচরা বাজারে পেঁয়াজের দাম কেজি প্রতি দুইশ' টাকা ছুঁইছুঁই করছে। এছাড়া আমদানি করা সব ধরনের পেঁয়াজের দাম কেজি প্রতি বেড়েছে ৩০-৪০ টাকা। সাধ্যের বাইরে যাওয়ায় পেঁয়াজের দাম নিয়ে ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ।

দেশের বৃহত্তর পাইকারী বাজার খাতুনগঞ্জে পেঁয়াজের আড়তে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ ১৭০ থেকে বেড়ে ১৯০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রায় একই দামে বিক্রি হচ্ছে ভারত, মিশর থেকে আমদানি করা পেঁয়াজ। তবে তুলনামূলক কিছুটা কম দাম রয়েছে মিয়ানমার থেকে আমদানি করা পেঁয়াজের দাম।

চট্টগ্রামের কাজীর দেউড়ি বাজারের খুচরা পেঁয়াজ বিক্রেতা মো. আলী বলেন, ‘‘বুধবার থেকে পেঁয়াজ বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছি। এতদিন ১৪০ থেকে দেড়শ টাকা কেজিতে বিক্রি করেছি। এখন ২০০ টাকা পেঁয়াজ বিক্রি করলে ক্রেতাদের মার খেতে হবে। সাধারণ মানুষ দু্ইশ টাকা কেজিতে পেঁয়াজ কিনতে চাইবে না।’’

উল্লেখ্য, গত ২৯ সেপ্টেম্বর ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার পর থেকে বাংলাদেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম বেড়ে যায়।