• বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ১২, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:১৮ রাত

মায়ের দেওয়া তিন লাখ টাকা পুঁজি ছিলো ঢাকার শ্রেষ্ঠ করদাতা রোমানের

  • প্রকাশিত ০৪:০৬ বিকেল নভেম্বর ১৫, ২০১৯
আশুলিয়ার ব্যবসায়ী তানভীর আহমেদ রোমান ভূইয়া
এ বছর ঢাকা জেলার সেরা করদাতা নির্বাচিত হয়েছেন আশুলিয়ার ব্যবসায়ী রোমান ভুইয়া। ঢাকা ট্রিবিউন

তার মালিকানাধীন একাধিক প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন পাঁচ শতাধিক কর্মী

মায়ের দেওয়া তিন লাখ টাকা পুঁজি করে ব্যবসায় নেমে এবছর ঢাকা জেলার শ্রেষ্ঠ তরুণ করদাতা হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন আশুলিয়ার ব্যবসায়ী তানভীর আহমেদ রোমান ভূইয়া। এনিয়ে চতুর্থবারের মতো তিনি সেরা তরুণ করদাতা হলেন।  

বৃহস্পতিবার (১০ নভেম্বর) রাতে রাজধানীর রেডিসন হোটেলে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামালের উপস্থিতিতে তাকে করদাতা সম্মাননা দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড।

ব্যবসায়ী রোমান ভুইয়া আশুলিয়ার ইয়ারপুর ইউনিয়নের জামগড়া এলাকার বাসিন্দা।

রোমান জানান, পড়াশোনা শেষ করে ২০০৭ সালে মা তমিছুন নেছার দেওয়া তিন লাখ টাকা দিয়ে একটি বেসরকারি টেলিকম কোম্পানির এক্সক্লুসিভ আউটলেট দিয়ে ব্যবসা শুরু করেন তিনি। এক্সক্লুসিভ আউটলেটে গ্রাহকসেবার কাজ করতেন নিজেই। কী হবে না হবে সেসব না ভেবে রাত-দিন অক্লান্ত পরিশ্রম করে গেছেন। ধীরে ধীরে এগিয়ে যেতে থাকে তার ব্যবসা। দেশজুড়ে মোবাইল নেটওয়ার্ক ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে তার ব্যবসার পরিধিও বাড়তে শুরু করে। 

রোমানের কঠোর পরিশ্রম আর সাফল্য দেখে বছরখানেক পর পরিবার থেকে তাকে আরও ১০ লাখ টাকা পুঁজি হিসেবে দেওয়া হয়। এই অর্থ দিয়ে ২০০৮ সালে জামগড়া এলাকাতেই গ্রামীণফোনের একটি নতুন আউটলেট চালু করেন রোমান ভূইয়া। বছর ঘুরতেই গ্রামীণফোনের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সেবা প্রদানকারী আউটলেটের স্বীকৃতি পায় তার প্রতিষ্ঠান। এরপর ওই অঞ্চলের গ্রামীণফোনের ডিস্ট্রিবিউটরশিপ পেয়ে যান রোমান। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে।

ধীরে ধীরে ব্যবসায়ের মুনাফা অনান্য খাতে বিনিয়োগ করতে শুরু করেন তিনি। বর্তমানে তার মালিকানাধীন একাধিক প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন পাঁচ শতাধিক কর্মী।    

ব্যবসাকে এই পর্যায়ে নিয়ে আসার পথে নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে রোমান ভূইয়া বলেন, “আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে পারিবারিক সম্পত্তি থাকলেও সহজ ছিল না নিজের পথচলা। কিন্তু হাল ছাড়িনি। প্রথমদিকে কোনো বেতনভুক্ত কর্মী ছাড়াই ব্যবসা সামাল দিয়েছি। সকাল ৮ থেকে রাত ১২ টা পর্যন্ত টানা কাজ করেছি।”

পরিশ্রমের ফলস্বরূপ তিনি ২০১৬ সালে ঢাকা জেলার প্রথম সেরা করদাতা নির্বাচিত হন। এরপর ২০১৭, ২০১৮ এবং সর্বশেষ ২০১৯ সালেও সেরা করদাতা নির্বাচিত হন। 

তিনি মনে করেন, রাষ্ট্রের সঙ্গে কখনোই বেঈমানী করা উচিত নয়। কখনোই সম্পদের হিসেব গোপন রাখা উচিত নয়।