• বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ১২, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:১৮ রাত

দিনাজপুরে ধানের বাম্পার ফলন, দাম না থাকায় কৃষকের মাথায় হাত

  • প্রকাশিত ০৭:২৯ রাত নভেম্বর ২৯, ২০১৯
দিনাজপুর/ধান
ধান কাটার ধুম পড়েছে কৃষকদের মধ্যে। ঢাকা ট্রিবিউন

লটারিটে নাম ওঠা অনেক কৃষকই তাদের নামের তালিকা ৩ থেকে ৪ হাজার টাকায় বিক্রি করে দিতে বাধ্য হয়েছেন। কিন্তু কেন বাধ্য হচ্ছেন, কারা সেটি কিনছে, সে বিষয়ে কিছু বলতে রাজি হননি তিনি

দেশের অন্যতম ধান উৎপাদনকারী জেলা দিনাজপুরে দফায় দফায় চালের দাম বাড়লেও বিপরীতে দফায় দফায় ধানের দাম কমছে। তাই চলতি বছর দিনাজপুর জেলায় আমন ধানের বাম্পার ফলন হলেও দাম না পাওয়ায় হাসি নেই কৃষকের মুখে। 

জানা গেছে, শস্যভাণ্ডার হিসাবে খ্যাত দিনাজপুরে আমন ধান কাটা ও মাড়াই শুরু হয়েছে। একইসঙ্গে গত ২০ নভেম্বর থেকে শুরু হয়েছে সরকারিভাবে ধান সংগ্রহ কার্যক্রম, চলবে আগামী বছরের ২৮ ফেব্রয়ারি পর্যন্ত। তবে এ অঞ্চলের প্রান্তিক কৃষকরা লটারিতে কার্ড না পাওয়ায় খাদ্য গুদামে ধান দিতে পারছেন না। বাধ্য হয়ে অনেকে কম দামে বাজারে ধান বিক্রি করছেন। অন্যদিকে কৃষকের এই দুর্দশার পুরোপুরি সুযোগ নিচ্ছে মধ্যসত্ত্বভোগীরা। 

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর ২৬ টাকা কেজি দরে এ অঞ্চলের কৃষকদের কাছ থেকে মোট ২৮ হাজার ৭ টন ধান সংগ্রহ করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে সরকার। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, কৃষদের তালিকা প্রণয়ন শেষে লটারির মাধ্যমে কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ শুরু হয়। চলতি বছরও ২০ নভেম্বর থেকে ধান সংগ্রহ অভিযান শুরু হয়েছে।

জেলার বিভিন্ন এলাকায় অর্ধেকেরও বেশি জমির ধান কাটা ও মাড়াই শেষ হয়েছে। তাই নতুন ধানে রমরমা হয়ে উঠেছে ধানবাজার। দিনাজপুরের ফার্মহাট, গোপালগজ্ঞ, বীরগঞ্জ, কাহারোল আমবাড়ি হাট ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি মণ ধান ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। অথচ সরকার নির্ধারিত মূল্যে প্রতি মণ ধানের দাম ১০৪০ টাকা।

কৃষকরা বলছেন, ধান রোপণ থেকে শুরু করে সার ও কীটনাশক, ধান কাটা-মাড়াইয়ে অনেকে বেশি খরচ হয়েছে। তাই ধানের দাম আরো বেশি হওয়া প্রয়োজন। দাম যদি কমই থাকে, তাহলে ধান চাষ করতে গিয়ে যে টাকা তারা ঋণ হয়েছেন, সেটিই শোধ করতে পারবেন না। ফলে পরবর্তী ফসল আবাদের সামর্থ্য তাদের থাকবে না। কিন্তু প্রয়োজন মেটাতে সরকার-নির্ধারিত মূল্যের অর্ধেক দামেই ধান বিক্রি করছেন।

তবে সরকারি গুদামে যারা ধান দিতে পারছেন, তারা কিছুটা লাভে ধান বিক্রি করতে পারছেন। কারণ তালিকায় কৃষকদের নাম থাকলেও সরকারি খাদ্য গুদামে ধান বিক্রির লটারিতে নাম উঠেছে এমন সংখ্যা হাতে গোনা। 

বীরগঞ্জ উপজেলার সুজালপুর গ্রামের শাহিনুর ইসলাম বলেন, এক মণ ধান ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকা, এরমধ্যে হাটের খাজনাই ৮০ টাকা। খরচের টাকাই ওঠে না।

একই এলাকার কৃষক মোশারফ হোসেন বলেন, সবকারি ভাবে ধান বেচার নিয়ম আমি জানি না। তাই হাটেই ধান বেচি। এতো লোকসান, কি করব কিছুই বুঝতে পারি না।

আবেদ আলি নামে এক কৃষক বলেন, লটারিটে নাম ওঠা অনেক কৃষকই তাদের নামের তালিকা ৩ থেকে ৪ হাজার টাকায় বিক্রি করে দিতে বাধ্য হয়েছেন। কিন্তু কেন বাধ্য হচ্ছেন, কারা সেটি কিনছে, সে বিষয়ে কিছু বলতে রাজি হননি তিনি।

দিনাজপুর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আশ্রাফুজ্জামান জানান, কৃষকদের তালিকা দেওয়া হয় কৃষি অফিস থেকে। সেখান থেকে তালিকা নিয়ে লটারি করার নির্দেশনা রয়েছে। কৃষি অধিদপ্তর এখন পর্যন্ত এক লাখ ১৯ হাজার কৃষকের তালিকা আপলোড করেছে। এ তালিকা আরও বাড়তে পারে। প্রাপ্ত তালিকা অনুযায়ী জেলার ১৩ উপজেলার কৃষকদের মধ্যে লটারি হয়েছে। সে হিসেবেই ধান ক্রয় চলছে। 

তবে লটারির তালিকা বিক্রি করে দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, “বিষয়টি আমি শুনেছি। আমরা চেষ্টা করছি যেন প্রকৃত কৃষকরা ধান দিতে পারে।”

দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক তৌহিদুল ইকবাল বলেন, “দিনাজপুরে এবার ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করেছে। কৃষকরা যাতে ধানের সঠিক দাম পায় সে জন্য প্রশাসন কাজ করছে।”