• বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ০২, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৬:৪৫ সন্ধ্যা

টাঙ্গাইলে সরিষা চাষ বাড়লেও কমেছে মৌ-বাক্সের সংখ্যা

  • প্রকাশিত ০৬:৪৭ সন্ধ্যা জানুয়ারী ৮, ২০২০
টাঙ্গাইল
জমির পাশে সারি সারি মৌ-বাক্স। ঢাকা ট্রিবিউন

‘চাষিরা বাজারে মধুর দাম পাচ্ছে না। গত বছর মধু অনেক চাষিই এখন পর্যন্ত পুরোটা বিক্রি করতে পারেনি। এর কারণে অনেকেই পেশা পরিবর্তন করেছে’

তেলবীজ সরিষা উৎপাদনের জন্য টাঙ্গাইল জেলার বিশেষ সুনাম রয়েছে। জেলার প্রায় প্রতিটি মাঠেই এখন শোভা পাচ্ছে হলুদ সরিষাখেত। অন্যদিকে সরিষার চাষের সুযোগে সাথী ফসল হিসেবে খেতের চারপাশে সারিবদ্ধভাবে মৌ-বাক্স স্থাপন করা হয়েছে। এ সব বাক্সে পালিত মৌমাছি সরিষা ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করে মৌ-বাক্সে জমা করছে। আর এই মৌ-বাক্সে জমা মধু সংগ্রহ করতে মৌ-চাষিরা এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। 

জেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, প্রায় প্রতিটি সরিষাখেতের পাশেই মৌ-বাক্স স্থাপন করা হয়েছে। স্থাপিত এসব বাক্স থেকে মধু আহরণও করছেন কৃষকেরা। এই মধু কিনছেন দেশের এলাকা থেকে যাওয়া মধু ব্যবসায়ীরা। এতে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন। তবে চাষিদের দাবি, সরকারের সহযোগিতা পেলে তারা এই মৌ-চাষে আরও লাভবান হতেন। 

মধু চাষি মো. মামুন বলেন, আমি বিগত ১৫ দিন ধরে সরিষা থেকে মধু আহরণ করছি। আমি ২৫০টি বাক্স বসিয়ে মধু সংগ্রহ করছি। আবহাওয়া খারাপ থাকায় মধু উৎপাদন কিছুটা কম হচ্ছে। 

টাঙ্গাইল পৌর এলাকার সন্তোষ ঘোষপাড়ার মৌ চাষি আমিনুর রহমান ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, এ বছর আমি সরিষাখেতে শতাধিক মৌ বাক্স স্থাপন করেছি। এখন পর্যন্ত আমি ১০ মণ মধু সংগ্রহ করেছি। আবহাওয়া খারাপ থাকার কারণে অনেক কম মধু সংগ্রহ হচ্ছে। অনেক মৌমাছি মারাও গিয়েছে। 

মৌ-বাক্স থেকে মধু সংগ্রহ করছেন দুই মৌ-চাষি। ঢাকা ট্রিবিউন

তিনি আরও বলেন, চলতিবছর মৌ-বাক্স স্থাপনে আমার প্রায় দেড় লাখ টাকা খরচ হয়েছে। প্রতিদিন আমার এখানে ৩ জন শ্রমিক কাজ করছেন। 

আরেক চাষি দুলাল তালুকদার বলেন, আমি ৩৭০টি বক্স বসিয়ে মধু আহরণ করছি। আবহাওয়া খারাপ থাকলে মৌমাছি বক্স থেকে বের হয় না। তবে কয়েকদিন পর আবহাওয়া ভালো হলে উৎপাদন বাড়বে। সরিষাখেতে থেকে বছরে ৪ মাস মধু আহরণ করি, অন্য ৬ মাস কৃত্রিম পদ্ধতিতে চিনি খাইয়ে মধু তৈরি করা হয়। আমার সংসারের যাবতীয় খরচ এর উপর নির্ভরশীল। যদি সরকার আমাদের সহযোগিতা করতো তা হলে আমরা মৌ-চাষে আরও লাভবান হতাম।


আরও পড়ুন - দিগন্তজুড়ে হলুদ সমুদ্র


জেলা কৃষি সম্প্রাসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর জেলায় ৪১ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদ হয়েছে। কিন্তু চলতি মৌসুমে প্রায় ৫ হাজার মৌবক্স স্থাপন করা হয়েছে। যা গত বছরের তুলনায় ৫ হাজার কম। 

টাঙ্গাইল জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আব্দুর রাজ্জাক ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “এ বছর জেলায় টার্গেটের চেয়ে বেশি সরিষা আবাদ হলেও মৌ বাক্সের সংখ্যা কমেছে। এবার মৌ বাক্সে থেকে ১শ’ মণ মধু সংগ্রহের টার্গেট নেওয়া হয়েছে। চাষিরা বাজারে মধুর দাম পাচ্ছে না। গত বছর মধু অনেক চাষিই এখন পর্যন্ত পুরোটা বিক্রি করতে পারেনি। এর কারণে অনেকেই পেশা পরিবর্তন করেছে।”

তিনি আরও বলেন, “সরিষাখেতের পাশে মৌ-চাষ করলে সরিষার পরাগায়ণের ফলে শতকরা ১৫ থেকে ২০ ভাগ ফলন বৃদ্ধি পায়। আগে সরিষা চাষিরা তাদের জমিতে মৌ-চাষিদের মৌ বাক্স স্থাপনে বাধা দিতো। এখন আর কৃষকরা বাধা দেয় না। আমাদের একটি প্রজেক্ট রয়েছে, এই প্রজেক্টের মাধ্যমে চাষিদের বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেছি।”