• বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:০৮ সকাল

মৌলভীবাজারে অনুষ্ঠিত হলো ২০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী মাছের মেলা

  • প্রকাশিত ০৭:৫২ রাত জানুয়ারী ১৫, ২০২০
মৌলভীবাজার
বিক্রির জন্য মেলায় আনা মাছ। ঢাকা ট্রিবিউন

একটি কাতলা মাছের দাম হাঁকা হয়েছে ১ লক্ষ ৩০ হাজার, আইড় মাছের দাম ১ লক্ষ ৩৫ হাজার ও বোয়াল মাছের দাম ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা

কুশিয়ারা নদীর পাড় ঘেঁষে অবস্থিত মৌলভীবাজার সদরের শেরপুর এলাকা। এটি আবার যৌথভাবে সিলেট ও হবিগঞ্জ জেলার সীমানায় পড়েছে। পৌষ সংক্রান্তি উপলক্ষে ঐতিহ্যবাহী মাছের মেলাটি গত প্রায় ২০০ বছর ধরে শেরপুরেই অনুষ্ঠিত হয়।

প্রতিবছর এই অঞ্চলের মানুষ অধীর আগ্রহ ও অপেক্ষায় থাকেন কখন বছর ঘুরে মাছের মেলা অনুষ্ঠিত হবে। তাই আগে থেকে প্রস্তুত থাকেন ক্রেতা ও মৎস্য বিক্রেতারা।

যদিও এটি মাছের মেলা নামে পরিচিত তথাপি মাছ ছাড়াও ফার্নিচার, গৃহস্থালী সামগ্রী, খেলনা ইমিটেশন, কাপড়, জুতাসহ গ্রামীণ ঐতিহ্যের দোকান স্থান পায়। সব মিলিয়ে বহুবছরের চর্চাচয় মাছের মেলাটি এখন সার্বজনীন উৎসবে রূপ নিয়েছে। গত সোমবার (১৩ জানুয়ারি) সোমবার সন্ধ্যা থেকে শুরু হওয়া তিনদিন ব্যাপী এই মেলা শেষ হয়েছে বুধবার দুপুরে (১৫ জানুয়ারি)।

মেলায় গিয়ে দেখা যায়, প্রচণ্ড ঠাণ্ডা উপেক্ষা করেও মেলা জুড়ে ছিল ক্রেতা-বিক্রেতা আর কৌতুহলী মানুষের ঢল। অনেকেই এসেছেন হাওর ও নদীতে স্বাভাবিক ভাবে বেড়ে ওঠা দেশীয় প্রজাতির টাটকা মাছ কিনতে। তবে অন্যান্য বারের মতো চলতি বছরের মেলায় জুয়া ও যাত্রার নামে অশ্লীলতা হয়নি বলে জানান মেলায় আগত এক দর্শনার্থী।

মেলা ঘুরে দেখা যায়, একটি কাতলা মাছের দাম হাঁকা হয়েছে ১ লক্ষ ৩০ হাজার, আইড় মাছের দাম ১ লক্ষ ৩৫ হাজার ও বোয়াল মাছের দাম ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা। এছাড়া মাছ ব্যবসায়ী কামরান মিয়া ১৫ কেজি ওজনের একটি বাঘ মাছের দাম হাঁকছেন ৩০ হাজার টাকা। ১০ কেজি ওজনের একটি বোয়াল মাছের দাম ছিল ২০ হাজার টাকা। ১০ কেজি ওজনের একটি রুই মাছের দাম ছিল ১২ হাজার টাকা।

মেলায় পার্শ্ববর্তী কুশিয়ারা নদী, হাকালুকি হাওর, কাওয়াদিঘি হাওর, হাইল হাওর ও সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওরসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মৎস্য ব্যবসায়ীরা রুই, কাতলা, বোয়াল, গজার, বাঘাইড় ও আইড় মাছসহ বিশাল আকৃতির মাছ নিয়ে এসেছিলেন।

মাছের মেলায় আগত ক্রেতা জসিম উদ্দিন জানান, তিনি হাওর ও নদীতে স্বাভাবিক ভাবে বেড়ে ওঠা দেশীয় প্রজাতির ফরমালিন মুক্ত টাটকা মাছ কিনতে এসেছেন।

মাছের মেলায় আসা যুক্তরাজ্য প্রবাসী মুহিবুর রহমান জানান, মেলাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের আত্মীয় স্বজনরাও এই বেড়াতে আসেন।

মাছ ব্যবসায়ী আমীর আলী ও রমিজ উদ্দিন জানান, ঐতিহ্য ধরে রাখতে বছর জুড়ে নানা কষ্টে তারা মাছ সংগ্রহে রাখেন। মেলায় স্থানীয় হাওর ও নদীর অনেক বড় বড় জীবিত মাছ ও ফরমালিন মুক্ত নিয়ে আসেন। পরিপক্ক এসব মাছ খেতেও সুস্বাদু। তবে মেলা উপলক্ষে এ বছর মাছের সংগ্রহ বেশি থাকলেও ক্রেতার উপস্থিতি অনেক কম।

ক্রেতা সুমি বেগম, সঞ্জয় দাম গুপ্ত, সুজিত দেব নাথ ও সমরজিৎ বর্মা জানান, এ উৎসবে বাজারে নানা জাতের বড় আকারের মাছ ওঠে। এটি দেখারও একটি বিষয় থাকে। দাম বেশি হলেও পরে দর কষাকষি করে কিনে নিতে হয়।

মৌলভীবাজার সদর উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) মো. আলমগীর চৌধুরী বলেন, এই প্রথম শেরপুরে মাছের মেলা দেখতে গিয়েছি। মাছ দেখে ভাল লাগলো। মাছও কিনেছি।’

মেলায় প্রতিদিন ৫-৭ কোটি টাকার মাছ বিক্রি জানিয়ে মাছের মেলা অয়োজক কমিটির সভাপতি মো. আশরাফ আলী খান বলেন, প্রতিবছর লাখ লাখ টাকা রাজস্ব সরকারকে দেই। কিন্তু মেলার জন্য এখনও স্থায়ী কোনো স্থান গড়ে ওঠেনি। সরকারের দায়িত্বশীলদের কাছে ঐতিহ্যবাহী এ মেলা টিকিয়ে রাখতে স্থায়ী একটি স্থান নির্ধারণের দাবি করছি।