• মঙ্গলবার, এপ্রিল ০৭, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:১০ সকাল

নেই পৃষ্ঠপোষকতা, বিলুপ্তির পথে সাতক্ষীরার মাদুর শিল্প

  • প্রকাশিত ০৭:১০ রাত ফেব্রুয়ারি ১, ২০২০
সাতক্ষীরা
অতিসত্বর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নেওয়া হলে মাদুর শিল্পটি সাতক্ষীরা থেকে বিলুপ্ত হয়ে যাবে। ঢাকা ট্রিবিউন

বর্তমানে চরম সংকটে পড়েছে এই শিল্প। পেশাটির সঙ্গে সাথে যাদের জীবিকা জড়িয়ে তারা খুবই মানবেতর দিন কাটাচ্ছে। শিল্পটিকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে সরকারের এগিয়ে আসতে হবে

কাঁচামালের অভাব ও উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য দাম না পাওয়ায় চরম সংকটে পড়েছে সাতক্ষীরার মাদুর শিল্প। জীবিকার তাগিদে অনেকে এই পেশা ছেড়ে চলে গেছে অন্য পেশায়। অথচ মাত্র দুইদশক আগেও সাতক্ষীরার মাদুর শিল্প ছিল রমরমা।

সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার তেতুলিয়া গ্রামে দুইদশক আগেও ৯০ শতাংশ পরিবারই মাদুর উৎপাদন করে জীবিকা নির্বাহ করতো। বর্তমানে মাদুর উৎপাদন করে হাতে গোনা কয়েকটি পরিবার। তাদের একজন গোবিন্দ মন্ডল (৫৫)। তিনি বলেন, মাদুর তৈরি করে এখন আর আগের মতো লাভ হয় না। শুধু বংশ পরম্পরার কারণে পেশাটি ধরে রেখেছি।

গোবিন্দ মন্ডল জানান, মাদুর উৎপাদন কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত মেলে (এক ধরনের ঘাস) ঠিকমতো পাওয়া যায় না। যা-ও বা সামান্য পাওয়া যায় তার দামও অনেক বেশি। তিনি বলেন, এক জোড়া বড় সাইজের মাদুর তৈরি করতে খরচ হয় ৫০০ টাকা। আর বাজারে বিক্রি ৬০০ টাকা। সারা দিনে দুই জোড়া অর্থাৎ চারটি মাদুর উৎপাদন করলে ২০০ টাকা লাভ হয় তা দিয়ে সংসার নির্বাহ করা দুরূহ।

একই উপজেলার যদুয়ারডাঙ্গী গ্রামের তারা পদ মন্ডল (৬০) জানান, তারা চার পুরুষ ধরে মাদুর উৎপাদন করেন। কয়েক বছর আগেও মাদুর উৎপাদন করে খুলনার পাইকগাছা, ডুমুরিয়া ও কয়রা মোকামে বিক্রি করতেন। এলাকায় ব্যাপক হারে চাষ করা হতো মেলে। বর্তমানে মেলে চাষ না হওয়ায় মাদুর উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। আগে সপ্তাহে ২০০ থেকে ২৫০ জোড়া মাদুর তৈরি হতো, সেখানে বর্তমান সপ্তাহ জুড়ে ৮ থেকে ১০টি মাদুর তৈরি হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, টিকে থাকতে এ গ্রামের অনেক মানুষ এ পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় চলে গেছে। তাদের মধ্যে কেউ জেলার বাইরে ইটভাটায়, কেউ বা সাতক্ষীরা শহরে ভ্যান চালায়, আবার কেউ কামলা খাটছে।

সাতক্ষীরা সুলতানপুর বড় বাজারের পাইকারি মাদুর ব্যবসায়ী কওছার আলী জানান, তিন দশক ধরে তিনি মাদুরের ব্যবসা করছেন। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত মাদুর কিনে তা জেলার বিভিন্ন হাট বাজারে বিক্রি করেন। এখন প্রতি জোড়া মাদুর আকার ভেদে ৩০০ থেকে ৬৫০ পর্যন্ত টাকা দরে বিক্রি করেন। কিন্ত প্লাস্টিক মাদুর বাজারে আসার কারণে মেলে মাদুরের চাহিদা কিছুটা কমে গেছে।

তিনি বলেন, একটি মাঝারি আকারের প্লাস্টিক মাদুর বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২২০ টাকা, সেখানে একটি মেলে মাদুরের দাম ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা। যে কারণে মেলে মাদুর উৎপাদন করে তেমন লাভ হচ্ছে না।

সাতক্ষীরা শিল্প ও বণিক সমিতির সভাপতি নাসিম ফারুক খান মিঠু বলেন, সাতক্ষীরার মাদুর শিল্প ঐতিহ্য বহন করে। এখানকার হাতে বুনন মাদুর দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হতো। কিন্ত বর্তমানে এই শিল্প চরম সংকটে পড়েছে। এই পেশার সাথে যাদের জীবিকা জড়িয়ে তারা খুবই মানবেতর দিন কাটাচ্ছে। এই শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে সরকারের এগিয়ে আসতে হবে। যদি তাদের ঋণ সহায়তা লাগে তাহলে সে ব্যবস্থা করতে হবে। তা না হলে অতিসত্বর এ শিল্প বিলুপ্ত হয়ে যাবে।