• মঙ্গলবার, এপ্রিল ০৭, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৪৫ রাত

ভুট্টায় দোল খাচ্ছে কৃষকের হাসি

  • প্রকাশিত ০৭:৪০ রাত ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২০
ঝিনাদহ
ভুট্টা ক্ষেতে এক কৃষক। ঢাকা ট্রিবিউন

উৎপাদন খরচের চেয়ে লাভ বেশি হওয়ায় বিগত বছরের তুলনায় কালীগঞ্জ উপজেলায় এবার সবচেয়ে বেশি ভুট্টার আবাদ হয়েছে। তাছাড়া ভুট্টা মানুষের জন্য যেমন পুষ্টিকর তেমনই এটি এখন পোল্ট্রি ও মাছের খাবারসহ বিভিন্ন খাবারে যুক্ত হয়েছে

কৃষকদের ভর্তুকি বা প্রণোদনা দেওয়ায় ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলায় বেড়েছে ভুট্টার চাষ। মাঠের পর মাঠ সবুজ পাতার আঁড়ালে হাসছে হলুদ রঙের ভুট্টার মোচা (ফল)। বসন্তের আগমনী বাতাসে দোল খাচ্ছে এসব ভুট্টার ক্ষেত। বাতাসে দোল খাওয়ার সাথে চাষীদের মুখেও ফুটে উঠেছে স্বপ্ন পূরণের হাসি। 

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর ১৫শ হেক্টর জমিতে ভুট্টা আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। সেখানে ১৩ হাজার ২শ কৃষক ২৩২৫ হেক্টর জমিতে ভুট্টার আবাদ করেছেন। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও ৮২৫ হেক্টর বেশি। 

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উন্নয়ন শাখায় কর্মরত উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ বিশ্বাস জানান, ভুট্টা চাষে চলতি বছর সরকার কালীগঞ্জ উপজেলার ৮০০ চাষিকে প্রণোদনা ও ৬৪ জন চাষিকে প্রদর্শনী প্লট করার জন্য সহযোগিতা করেছে। ৮০০ জন চাষির প্রত্যককে ২ কেজি করে ভুট্টার বীজ, ২০ কেজি ডিএপি (ড্যাপ সার) ও ১০ কেজি এমওপি (পটাশ) সার বিনামূল্যে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া রাজস্ব খাত থেকে ৬০ জন ও এনএটিপি (ন্যাশনাল এগ্রিকালচারাল টেকনোলজি প্রোজেক্ট) প্রকল্পের আওতায় ৪ জনসহ মোট ৬৪ জন কৃষককে ভুট্টার ওপর প্রদর্শনী প্লট দেওয়া হয়েছে। এসব কৃষকের প্রত্যককে নগদ ১৫শ টাকাসহ সার, কীটনাশক, সাইনবোর্ড বিনামূল্যে দেওয়া হয়েছে। 

উপজেলা কৃষি অফিসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৯-২০ অর্থবছরে ২৩২৫ হেক্টর, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ১৪৫০ হেক্টর, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৩৫০ হেক্টর, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ১১০ হেক্টর, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ১৩৫ হেক্টর ও ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ১০৫ হেক্টর জমিতে ভুট্টার আবাদ হয়েছে। 

কৃষি বিভাগের মতে, কালীগঞ্জ উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা, নিয়ামতপুর, ত্রিলোচনপুর, হাসানহাটি, তিল্লা, ঈশ্বরবাসহ বেশ কয়েকটি গ্রামের কৃষকরা ভুট্টার আবাদ বেশি করেছেন। মাঠ ভরে উঠেছে ভুট্টায়। ঢাকা ট্রিবিউন

উপজেলার ঈশ্বরবা গ্রামের কৃষক জয়নাল আবেদীন জানান, ধানের চেয়ে ভুট্টায় লাভ বেশি। তিনি ৩৩ শতকের ৩ বিঘা জমিতে ভুট্টার আবাদ করেছেন। গত বছর তিনি বিঘা প্রতি জমিতে গড় ৪৫ মণ করে ভুট্টা পেয়েছিলেন এবং ৩শ মণ ভুট্টা বিক্রি করেছিলেন। চলতি বছরও ভুট্টার ভালো পাবেন বলে তিনি আশা করেন। 

একই গ্রামের কৃষক তারিকুল ইসলাম জানান, তিনি দুই বিঘা জমিতে ভুট্টার আবাদ করেছেন। ভুট্টা আবাদ করতে সেচ সার, বীজ, পরিচর্যা ও কীটনাশকসহ বিঘা প্রতি অনুমানিক ১১ থেকে ১২ হাজার টাকা খবর হয়। ভুট্টা ভাল হলে প্রতি বিঘায় ৪০ থেকে ৫০ মণ ফলন পাওয়া যায়। বাজারে গত বছর কাঁচা ভুট্টা ৪৫০ টাকা ও শুকনা ভুট্টা ৭৫০ মণ বিক্রি হয়েছে। এক্ষেত্রে তিনি খরচ বাদে অর্ধেক লাভ করবেন।  

উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা মতিয়ার রহমান জানান, উৎপাদন খরচের চেয়ে লাভ বেশি হওয়ায় বিগত বছরের তুলনায় কালীগঞ্জ উপজেলায় এবার সবচেয়ে বেশি ভুট্টার আবাদ হয়েছে। তাছাড়া ভুট্টা মানুষের জন্য যেমন পুষ্টিকর তেমনই এটি এখন পোল্ট্রি ও মাছের খাবারসহ বিভিন্ন খাবারে যুক্ত হয়েছে। আমরা কৃষি বিভাগ থেকে ভুট্টা চাষিদের সার্বিকভাবে সহযোগিতা করে যাচ্ছি। 

উপজেলা কৃষি অফিসার জাহিদুল করিম বলেন, ভুট্টা চাষে ঝুঁকি কম আবার লাভও ভাল। এটি আবাদের জন্য কৃষকদের সার, বীজ, কীটনাশক ও নগদ টাকা প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। যে কারণে ভুট্টা চাষে চাষিদের আগ্রহ বেড়েছে। 

তিনি আরও বলেন, “ভুট্টার রোগবালাই কম হয়। দেশের বিভিন্ন জেলায় “আর্মি ওয়ার্ম” নামের একটি পোকার আক্রমণের কথা শোনা গেলেও এই উপজেলার কোথাও কোনো ভুট্টা ক্ষেতে কেো পোকার আক্রমণের কথা শোনা যায়নি। তাই আশা করছি চলতি বছর এ উপজেলার ভুট্টার বাম্পার ফলন হবে।”