• শনিবার, এপ্রিল ০৪, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৩৫ রাত

চলছে বোরো রোপণ, দাম কম হওয়ায় কৃষকের ক্ষতির আশঙ্কা

  • প্রকাশিত ০৫:৩০ সন্ধ্যা ফেব্রুয়ারি ৭, ২০২০
নওগাঁ
জমি তৈরি ও বীজতলা থেকে চারা উত্তোলন চলছে সমানতালে। ঢাকা ট্রিবিউন

বার বার লোকসানের কারণে অনেকেই ধান চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। বিকল্প হিসেবে কৃষকেরা পাইকারি হারে কৃষি জমি লিজ দিয়ে তৈরি করছেন মাছ চাষের পুকুর

নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার প্রতিটি মাঠে মাঠে চলছে বোরো ধান রোপণের জন্য জমি প্রস্তুতি। উত্তরের হিমেল হাওয়া, হাড় কাঁপানো শীত ও ঘন কুয়াশা উপেক্ষা করেই বোরো ধান রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন উপজেলার কৃষকরা।

উপজেলার হরিশপুর, আতাইকুলা, খট্টেশ্বর, কুজাইল মাঠসহ বিভিন্ন মাঠে চলছে বোরো ধানের চারা রোপণের কাজ। তবে ধান রোপণে বিলম্ব হওয়ায় ফলন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।

ইতোমধ্যে নানা সমস্যার মধ্যেও বোরো চারা রোপণের জন্য কোমর বেঁধে মাঠে নেমে পড়েছেন কৃষকরা। এখন গভীর নলকূপের মাধ্যমে সেচ দিয়ে কোনো জমিতে চলছে চাষ, বীজতলা থেকে তোলা হচ্ছে বীজ, চলছে রোপণ সব মিলিয়ে ব্যস্ত দিন পার করছেন চাষিরা।  

কৃষকদের ভাষ্য, এক ফসল তুলে অন্য ফসল আবাদ করা হয়। এবারো তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না। তবে বার বার লোকসানের কারণে অনেকেই ধান চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। বিকল্প হিসেবে কৃষকেরা পাইকারি হারে কৃষি জমি লিজ দিয়ে তৈরি করছেন মাছ চাষের পুকুর। এতে স্থায়ী ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে ৩ ফসলি কৃষি জমি। এতে সবচেয়ে বিপাকে আছেন বর্গাচাষিরা।

করজগ্রামের কৃষক সুলতান জানান, গত বছর তিনি ৫ বিঘা জমিতে বোরো ধানের আবাদ করেছিলেন। এবার করছেন ৩ বিঘা জমিতে। এর মধ্যে নিজের রয়েছে ২ বিঘা, বাকিটা জমি বর্গা।

তিনি বলেন, ধানের দাম না থাকার কারণে আবাদি জমির পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছি। দিন যাচ্ছে আবাদ খরচও বেড়ে যাচ্ছে। গত বছর বিঘা প্রতি আবাদে খরচ হয়েছে সাড়ে ৪ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা। এবার বিঘা প্রতি খরচ ৬ হাজার টাকা ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

একডালার কৃষক আফাজ মিয়া বলেন, শ্রমিকের মজুরি ৩৫০টাকার উপরে দিতে হচ্ছে। ড্যাপ সার প্রতি বস্তা ৭৮০ থেকে ৭৯০ টাকা। ইউরিয়া সার বস্তা প্রতি ৮০০, এমওপি ৭৫০টাকা। এছাড়াও রয়েছে অন্যান্য খরচ। সব মিলে ধান চাষ করা এখন ক্ষতির বিষয়।

সিম্বা গ্রামের কৃষক খায়রুল বলেন, পৌষ মাসের শুরুতেই বোরো ধান রোপণ করা শেষ হওয়া উচিত ছিলো। কিন্তু প্রচন্ড শীত আর ঘনকুয়াশার কারণে কৃষকরা মাঠে নামতে পারেননি। তাই চলতি মৌসুমে বোরো ধান রোপণে কিছুটা বিলম্ব হয়ে গেলো। এতে করে ফলনও একটু ব্যাহত হতে পারে। তবে বাজারে ধানের দাম ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকা মণ বিক্রি করতে হচ্ছে। ধানের এমন দামে আবাদ করলে চাষাবাদের খরচও উঠবে না বরং ঋণের বোঝা আরও বৃদ্ধি পাবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শহীদুল ইসলাম বলেন, “ধানের দাম না থাকায় গত কয়েক বছর থেকে বোরো ধানের আবাদ আশঙ্কাজনক হারে কম হচ্ছে। এছাড়াও অন্যান্য ফসলের তুলনায় বোরো ধানে অধিক পরিমাণে সেচ দিতে হয়। আর সেচ দেওয়ার জন্য গভীর নলকূপের উপর ভরসা করতে হয়। ফলে ভূগর্ভস্থ পানি অধিক পরিমাণে উত্তোলনের কারণে পানির স্তরও নিচে নেমে যাচ্ছে।”

তিনি আরোও জানান, চলতি মৌসুমে উপজেলায় বোরো ধানের আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ১৮ হাজার হেক্টর জমিতে। এ পর্যন্ত প্রায় শতকরা ৪৫ শতাংশ জমিতে বোরো ধান রোপণ করা সম্পন্ন হয়েছে। ধান রোপণসহ অন্যান্য সমস্যায় কৃষকদের সার্বিক সহযোগিতা ও পরামর্শ প্রদানের জন্য পাশে দাঁড়াতে প্রস্তুত রয়েছে কৃষি বিভাগ।