• মঙ্গলবার, এপ্রিল ০৭, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৪৩ সকাল

শীতলক্ষ্যার তীরে হাসছে স্ট্রবেরি

  • প্রকাশিত ০৫:০৫ সন্ধ্যা ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২০
স্টবেরি
সম্প্রতি দারুণ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে স্ট্রবেরি। সংগৃহীত

অনেকে বাড়ির ছাদে চাষ করলেও এখন বাণিজ্যিকভাবে স্ট্রবেরির চাষ শুরু করেছেন গাজীপুরের কাপাসিয়া এলাকার শীতলক্ষ্যা নদীর চরে

বিদেশি ফল হিসেবে স্ট্রবেরির প্রচলন থাকলেও প্রান্তিক কৃষকদের কল্যাণে এখন বাংলাদেশেও ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছে। বাজার চাহিদা, ফলন ও দাম ভালো হওয়ায় প্রতিনিয়ত গাজীপুরের কৃষকের মাঝে জনপ্রিয় হচ্ছে স্ট্রবেরি চাষ।

স্ট্রবেরি ফলের গন্ধ, বর্ণ ও স্বাদে আকর্ষণীয় এবং রস, জ্যাম, আইসক্রিম, মিল্ক শেকসহ শিল্পায়িত খাদ্য তৈরিতে স্ট্রবেরির সুগন্ধ ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হয়। ১৭৪০ সালে ফ্রান্সে প্রথম স্ট্রবেরির চাষ শুরু করা হয়। পরবর্তীতে চিলি, আর্জেন্টিনাসহ বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ে স্ট্রবেরি চাষ। শীতপ্রধান দেশে ফল স্ট্রবেরি হলেও বর্তমানে বাংলাদেশের যেসব এলাকায় শীত বেশি সেসব এলাকায় বিভিন্ন জাতের স্ট্রবেরি চাষ হচ্ছে। অনেকে বাড়ির ছাদে চাষ করলেও এখন বাণিজ্যিকভাবে স্ট্রবেরির চাষ শুরু করেছেন গাজীপুরের কাপাসিয়া এলাকায়।

গাজীপুরের শীতলক্ষ্যা নদীর তীরের কাপাসিয়ার সিংহশ্রী ইউনিয়নের একটি গ্রাম কুড়িয়াদী। এ গ্রামের কয়েকজন কৃষক নদীর তীরে জেগে উঠা চরে শীতকালীন ফসলের চাষ করে থাকেন। বর্তমানে কৃষি কাজে ভিন্নতা আনতে চলতি মৌসুমে পাশের শ্রীপুর উপজেলার মৌমিতা ফ্লাওয়ার্সের মালিক দেলোয়ার হোসেনের পরামর্শে গ্রামের কয়েকজন কৃষক ওই সব জমিতে স্ট্রবেরির চাষ শুরু করেন।

কৃষক তোফায়েল আহমেদ জানান, বর্ষায় জমিগুলো পানিতে ডুবে যায় ও বর্ষা শেষে নদীর পানি নেমে যায়। এতে পলিমাটি জমে বেশ উর্ব্বর হয়ে থাকে। এ মাটিতে যে কোনো ফসলের চাষ করলেই ভালো ফলাফল পাওয়া যায়। তিনি ১ হাজার স্ট্রবেরির চারা ওই জমিতে রোপণ করেন। প্রতিটি চারার দাম ছিল ৩০ টাকা। কয়েকমাস পরিচর্যা করার পর এখন ফল পাওয়া যাচ্ছে। প্রতিকেজি স্ট্রবেরি ৭’শ থেকে ৮’শত টাকা কেজি বিক্রি করেছেন। এ পর্যন্ত তিনি দেড় লাখ টাকার স্ট্রবেরি বিক্রি করেছেন।

তার পাশাপাশি নদীর চরে স্ট্রবেরির চাষ করেছেন একই এলাকার আব্দুর রাজ্জাক। তিনি প্রায় ৭ হাজার স্ট্রবেরির চারা রোপণ করেছেন। এছাড়াও হুমায়ুন কবির রোপণ করেছেন ১৩ হাজার স্ট্রবেরির চারা।

কাপাসিয়া উপজেলার কুড়িয়াদী গ্রামের স্ট্রবেরি চাষি হুমায়ুন কবির জানান, অনেক টাকা-1পয়সা খরচ করে একটি পেঁপের বাগান করেছিলাম। গত মৌসুমে শিলাবৃষ্টিতে নষ্ট হয়ে যায়। এতে আমার অনেক লোকসান হয়েছিল। তাই এবার আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি স্ট্রবেরি চাষ করবো। এবার নদীর তীরের পতিত জমিতে স্ট্রবেরি চাষ করে ভালো ফলনও পেয়েছি। এখন আমার স্টবেরি চাষ দেখে এলাকার অনেক কৃষক আগামী মৌসুমে স্ট্রবেরি চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।

গাজীপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক মাহবুব আলম বলেন, “স্ট্রবেরি ফলের মধ্যে উচ্চমাত্রায় পুষ্টি রয়েছে। এ ফল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি রোগমুক্তিতেও সহায়তা করে। গাজীপুরে স্ট্রবেরির চাষ হলেও আমরা এর পরিমাণ নির্ধারণ করতে পারিনি। অনেকে শখে বাসা-বাড়িতে স্ট্রবেরির চাষ করলেও এখন কাপাসিয়ায় শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে জেগে উঠা চরে বাণিজ্যিকভাবে চাষ করছেন। এ চাষ লাভজনক বিধায় গ্রামীণ অর্থনীতিতে অবদান রাখবে।”