• মঙ্গলবার, মার্চ ৩১, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১২:৩৬ দুপুর

ধানের লোকসান পোষাতে গমের দিকে তাকিয়ে নীলফামারীর কৃষকেরা

  • প্রকাশিত ০৮:৩৩ রাত মার্চ ৩, ২০২০
নীলফামারী-গম
চলতি মৌসুমে গমের বাম্পার ফলনের আশা করছেন কৃষকেরা। ঢাকা ট্রিবিউন

ভাল ফলন ও দাম পেলে ধান চাষের লোকসান কাটিয়ে উঠতে পারবেন বলে আশা করছেন কৃষকেরা

নীলফামারীতে চলতি রবি মৌসুমে রেকর্ড পরিমাণ গমের আবাদ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বাম্পার ফলনের আশা করছেন কৃষকেরা। একইসঙ্গে ভাল ফলন ও দাম পেলে ধান চাষের লোকসান কাটিয়ে উঠতে পারবেন এমনটিই আশা করছেন তারা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর সূত্র জানায়, চলতি মৌসুমে জেলায় ৫ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে গম চাষের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে মাঠে নেমেছে কৃষি বিভাগ। এরমধ্যে, সদরে দুই হাজার ২৭০, সৈয়দপুরে ২৫০, ডোমার এক হাজার ১৫০, ডিমলায় ৮৮০, জলঢাকায় ৮৫০ ও কিশোরগঞ্জে ৪০০ হেক্টর জমি। আর এতে উৎপাদনের গড় লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৯ হাজার ৮৩৬ মেট্রিকটন।

এ ছাড়াও এবার বারি-২৬, ২৮, ৩০ ও ৩৩ জাতের গমের ক্ষেতে ফলন হয়েছে বেশ ভালো। এতে সাম্ভব্য গড় ফলন ধরা হয়েছে ১৭ হাজার ৮০১ দশমিক এক মেট্রিক টন। কৃষিবিদেরা বলছেন, শেষ পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আশানুরূপ ফলন পাওয়া যাবে।

সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. কামরুল হাসান বলেন, কম খরচে বেশি লাভের আশায় কৃষকেরা এবার বোরো ধানের জমিতে আগাম জাতের ও উচ্চ ফলনশীল পুষ্টি সমৃদ্ধ গমের চাষ করছেন। শেষ পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে গমের বাম্পার ফলন হবে বলে আশা করেন তিনি।

নীলফামারী সদরের পঞ্চপুকুর ইউনিয়নের চেংমারী দিঘলটারী গ্রামের মো. আবুল কালাম আজাদ (৪৮) জানান, কয়েক দফা বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতি পুষিয়ে নিতে এবার জমিতে আগাম জাতের গমের আবাদ করেছি।

মাঠভর্তি কেবল গমের আবাদ। ঢাকা ট্রিবিউন

তিনি বলেন, ধানের বাজার দর না থাকায় প্রতি বছরই লোকসান গুনতে হচ্ছে। তাই এবার দেড় বিঘা জমিতে গমের আবাদ করেছি। ফলনও ভাল হয়েছে। আর কয়েক দিনের মধ্যে ঘরে তোলা যাবে।

একই গ্রামের তসলিম উদ্দিন (৪৫) বলেন, চলতি মৌসমে দুই বিঘা জমিতে গমের আবাদ করেছি। বারি-২৬ জাতের গম ভাল ফলন হয়। এই জাতের গম বিঘায় ১৫-১৬ মন পর্যন্ত হয়। বাজারে দামও ভাল। বাজারে এখন প্রতিমণ গম এক হাজার ২০০ থেকে এক হাজার ৩০০ টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি বিঘা জমির গম ফলাতে খরচ হয় এক হাজার ৮০০ টাকা। এতে প্রায় বিঘা প্রতি লাভ হয় প্রায় ১৯ হাজার টাকা।

জেলার শহর ও বড় বাজারের গম ব্যবসায়ী ও আড়তদার দীপক দাস বলেন, বর্তমানে গমের জাত অনুযায়ী ১২০০ থেকে ১৩০০ টাকা দামে (পুরাতন) গম বেচাকেনা হচ্ছে। কৃষকরা মোটামুটি ভাল দাম পাচ্ছেন।

জেলার ডোমার উপজেলার মটুকপুর ইউনিয়নের পাঙ্গামটুকপুর গ্রামের শাহ আলম জানান, গম চাষে সার ও কীটনাশক কম লাগে, একটু সেচ দিলে ভাল ফলন হয়। কম খরচে ও স্বল্প সময়ে এ ফসল ঘরে তোলা যায়।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক (শষ্য) মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে চলতি বছর গমের আবাদ থেকে কৃষকরা বাড়তি আয় করতে পারবেন। চলতি বছর বিঘা প্রতি উৎপাদনের পরিমাণ ধরা হয়েছে ১৫-১৬ মণ। বাজারে দামও রয়েছে ভাল ও চাহিদাও বেশ।