• রবিবার, এপ্রিল ০৫, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১২:৪৪ দুপুর

লাউয়ের নতুন দুটি জাত উদ্ভাবন

  • প্রকাশিত ০৫:৪৩ সন্ধ্যা মার্চ ১২, ২০২০
গাজীপুর-লাউ-িকৃষি
নতুন জাতের বারোমাসি লাউ। সংগৃহীত

চার মাস পরপর বীজ বপণ করে সারাবছর চাষাবাদ করা যায় এ লাউ

হাইব্রিড লাউ-১ ও বিইউ লাউ-১ নামের বারোমাসি দুটি নতুন জাত উদ্ভাবন করেছেন গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম। ইতোমধ্যে কৃষকদের মাঝে এ নতুন জাতের বীজ বিতরণ করা হয়েছে।

চার মাস পরপর বীজ বপণ করে সারাবছর চাষাবাদ করা যায় এ লাউ। প্রতিটি গাছে ২৫-৩০টি করে লাউ ধরে। এ নতুন জাতের লাউ অল্প জমিতে চাষযোগ্য, রোগ সংক্রমণ কম এবং উৎপাদন বেশি হওয়ায় সবজির চাহিদা পূরণের ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

জানা গেছে, অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম দীর্ঘ ৮ বছর গবেষণার পর বিইউ হাইব্রিড লাউ-১ ও বিইউ লাউ-১ নামের লাউয়ের দুটি নতুন জাত উদ্ভাবন করেন। সুস্বাদু এ লাউ ফসলের আধুনিক ও বাণিজ্যিক চাষাবাদের ক্ষেত্রে অনেক পরিবর্তন নিয়ে আসবে বলে দাবি করেছেন এ উদ্ভাবক।

তিনি জানান, আলোক অসংবেদনশীল হওয়ায় সারাবছরই চাষযোগ্য, এ লাউ খেতে খুব সুস্বাদু। দেশীয় লাউয়ের মতো জনপ্রিয় হালকা সবুজ বর্ণের এ লাউ প্রতি গিঁটে গিঁটে ধরে। এ লাউয়ের গড় ওজন ৩-৪ কেজি। বিইউ লাউ-১ জাতটির বৈশিষ্ট্য হলো- এগুলো ছোট সাইজের যা বর্তমান আধুনিক সমাজের ছোট পরিবারগুলোর চাহিদার সঙ্গে মানানসই। সচরাচর লাউয়ের ফল বেশ বড় হওয়ায় এক বেলার জন্য কেটে রান্না করে বাকিটা পরের বেলার জন্য রেখে দিতে হয় যার স্বাদ ও গুণাগুণ অনেক সময় নষ্ট হয়ে যায়। যা এ জাতের লাউয়ের ক্ষেত্রে এড়ানো সম্ভব।

উচ্চফলনশীল এ জাত দুটির মধ্যে একটি হাইব্রিড এবং অন্যটি উন্মুক্ত পরাগায়িত। দুটিরই ফলনের তুলনায় অঙ্গজবৃদ্ধি খুব কম যা আধুনিক বা স্মার্ট কৃষির জন্য একেবারে যুতসই।

তিনি আরও জানান, পুরুষ ও স্ত্রী ফুলের অনুপাত কম হওয়ায় গাছে খাদ্যের যে যোগান দেওয়া হয় তা সরাসরি ফলোৎপাদনে ব্যবহার হয়। এতে অন্যান্য প্রচলিত জাতের তুলনায় অপচয় কম হয় এবং ফল কম ঝরে পড়ে। নতুন উদ্ভাবিত জাত দুটি চাষাবাদে খরচ এবং রোগ সংক্রমণের হার কম হওয়ায় অনেক চাষি এ লাউ চাষে ঝুঁকছেন। এ লাউ পোকামাকড় দ্বারা তেমন আক্রান্ত হয় না, অন্যান্য লাউয়ের তুলনায় অধিক ফলন হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য গিয়াস উদ্দিন বলেন, “অঙ্গজ আকৃতির দিক থেকে এ দুটি জাতের লাউ গাছ ছোট হওয়ায় এবং গাছের একেবারে গোড়া থেকে ডগা পর্যন্ত ফল ধরায় এটি বাড়ির ছাঁদে বা ভার্টিক্যাল এগ্রিকালচারেও অত্যন্ত সাফল্যজনকভাবে অন্তর্ভুক্ত করা যাবে।”