• রবিবার, নভেম্বর ২৯, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৭:৪৩ রাত

থমকে গেছে টাঙ্গাইলের তাঁতপল্লী, দিশেহারা এক লাখ তাঁতী-শ্রমিক

  • প্রকাশিত ০১:৩৩ দুপুর মে ১২, ২০২০
টাঙ্গাইল-তাঁত
চরকার মতোই থেকে গেছে তাঁতীদের উপার্জন। ঢাকা ট্রিবিউন

‘বিপুলসংখ্যক তাঁতশ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছে। তাদের ঘরে খাবার নেই। ক্ষুদ্র তাঁত মালিকরা প্রতি সপ্তাহে তাঁতপ্রতি চার হাজার টাকার ক্ষতির শিকার হচ্ছেন’

দেশ ছাড়িয়ে বিদেশেও রয়েছে টাঙ্গাইলের তাঁতের শাড়ির কদর ও সুনাম। জেলার কালিহাতী, টাঙ্গাইল সদর জুড়ে তাঁতের শাড়ি উৎপন্ন হলেও তাঁতপল্লী হিসেবে পরিচিত দেলদুয়ার উপজেলার চন্ডী, পাথরাইলের তাঁত সমৃদ্ধ এলাকাকে ঘিরে। এসব এলাকায় বছরজুড়ে ভোর থেকে রাত পর্যন্ত চলে মাকু আর শানার খটখট শব্দ। শিশু-বৃদ্ধ আর নারীদের সময় কাটে চরকা ঘোরানোর শোঁ-শোঁ আওয়াজে। সেই ব্যস্ত তাঁতপল্লী এখন নিরব-নিস্তব্দ। 

করোনাভাইরাসের সংক্রমণে থেমে গেছে মাকু আর শানার চিরচেনা আওয়াজ। চরকাটাও ঘুরছে না। তাঁতের মালিক-শ্রমিকের সারাবছর যেভাবেই কাটুক, বৈশাখ আর ঈদুল ফিতরটা কাটে উৎসবের মধ্য দিয়ে। কিন্তু এবারের বৈশাখ গেছে একদম সাদাসিদে। তাঁত বন্ধ থাকায় তাঁতপল্লী সাজেনি ঈদুল ফিতরের আনন্দেও। 

উপার্জন থেমে যাওয়ায় তাঁতীরা পড়েছেন ভয়াবহ দুর্দিনে। টাঙ্গাইল শাড়ি বিক্রির অন্যতম বৃহৎ করটিয়া হাট বন্ধ রয়েছে। তাঁতপল্লীর শোরুমগুলোও বন্ধ। ফলে মজুদ শাড়িও বিক্রি হচ্ছে না। গণপরিবহণ বন্ধ থাকায় দেশের পাইকার ব্যবসায়ীরাও শাড়ি নিতে আসছে না তাঁতপল্লীতে। মজুদ শাড়ি নিয়েও বিপাকে পড়ছে এ অঞ্চলের ছোট বড় ব্যবসায়ীরা। এতে তাঁত শিল্পে ধস নামার সম্ভাবনা রয়েছে।

তাঁত বোর্ডের তথ্যমতে, টাঙ্গাইলে তাঁত মালিকের সংখ্যা চার হাজার ১৫১ জন। তাঁত রয়েছে ৩৪ হাজার ৪০২টি। এসব তাঁতে মোট এক লাখ তিন হাজার ২০৬ জন তাঁত শ্রমিক সম্পৃক্ত। তাঁতপল্লীতে কেউ শাড়ি বুনেন, কেউ চরকায় সুঁতা কাটেন, কেউ কাপড়ের নকশার সুঁতা কাটেন। আবার সুঁতা রঙ করা, শুকানো, পাটিকরা, তানার সুঁতা কাটা, ড্রাম থেকে ভিমে সুতা পেঁচানো, তানা সাজানো, মালা বা নকশার ডিজাইন তোলা, কাপড় ভাঁজ করা, পেটি করা এবং বাজারজাত ও আনা-নেওয়ার কাজ করে থাকে এ পেশায় সম্পৃক্তরা। লকডাউনের এই লম্বা সময়ে সেব সেক্টরে কাজ করা তাঁতীরাই কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। কাপড় বোনার ওপর তাঁতীদের মজুরি দেওয়া হতো। কিন্তু দুই মাস ধরে তাদের উপার্জন নেমে এসেছে শূন্যের কোটায়। ফলে তাঁতীরা সীমাহীন দুর্দিনের মধ্যে পড়েছেন।  

তাঁতের সাথে থমকে গেছে তাঁতীদের জীবন। ঢাকা ট্রিবিউন

মহাজন শ্রেণির শাড়ি ব্যবসায়ীদের আর্থিক অবস্থা ভালো হলেও সাধারণ তাঁতীরা দিন আনে দিন খায়। অধিকাংশ তাঁতীদের বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে সংসার চালাতে হয়। লকডাউনে এনজিওর কিস্তি বন্ধ থাকলেও ধার-দেনা করে চলছে সংসার। লকডাউন তুলে নিলে ধার-দেনার টাকা পরিশোধ করে এনজিওর কিস্তি শোধ করতে আরও বেগ পেতে হবে তাদের। গত দু মাসে তাঁত সমিতি থেকে কিছু সংখ্যক তাঁতী ৫ কেজি চাল, ২ কেজি আলু, ১ কেজি ডাল, আধা কেজি তেল ও ১টি সাবান পেয়েছেন। যা যথেষ্ট না। তাই এ শিল্পকে বাঁচাতে তাঁতীদের পাশে সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতার হাত বাড়ানো জরুরি হয়ে পড়েছে।

টাঙ্গাইল জেলা শাখার তাঁত সমিতির সাবেক সভাপতি ও পাথরাইলের শাড়ি ব্যবসায়ী রঘুনাথ বসাক বলেন, টাঙ্গাইলের বিভিন্ন এলাকায় শাড়ি তৈরির ১০ হাজার হস্তচালিত তাঁত রয়েছে। আর এই সকল তাঁতে প্রায় ১৫ হাজার তাঁতী রয়েছেন। করোনাভাইরাসের কারণে  তাঁতীরা এখন পুরোপুরি কর্মহীন। শাড়ি ব্যবসার জন্য বৈশাখী ও ঈদুল ফিতর দুটি প্রধান মৌসুম। পহেলা বৈশাখে কোনো শাড়ি বিক্রি হয়নি। ঈদুল ফিতরের জন্য নতুন শাড়ি বানানো হয়নি। উৎসবের জন্য যেসব শাড়ি আগেই মজুদ করা ছিলো সেগুলোও বিক্রি হচ্ছে না। বৈশাখীতে “প্রতিটি শাড়ি উৎপাদন খরচ গড়ে সাড়ে পাঁচশ” হিসেবে লক্ষ্যমাত্রায় খরচ হতো ১০৭ কোটি ১৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা।  প্রতি শাড়ি গড়ে ৬০০ টাকা করে বিক্রি হলে মোট ১১৫ কোটি ২০ লাখ টাকার বিক্রি হতো। তাতে লাভ হতো ৮ কোটি ৬ লাখ ৪০ হাজার টাকার মতো। করোনার কারণে বৈশাখীতে তাঁতীরা এই লাভ থেকে বঞ্চিত হয়েছে। ঈদুল ফিতরের শাড়ি হয় আরও দামী। বিক্রিও হয় বেশি। এখানে লোকসানের পরিমান বৈশাখীর তুলনায় তিন-চার গুণ বেশি হবে। সরকারি প্রণোদণা না পেলে তাঁতীরা এ সঙ্কট মোকাবিলা করতে পারবে না বলে তিনি মনে করেন তিনি।

তাঁত বোর্ড টাঙ্গাইল বেসিক সেন্টারের লিয়াজোঁ অফিসার রবিউল ইসলাম বলেন, “করোনাভাইরাসের প্রভাবে তাঁত শিল্পে ধস নেমে আসার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। বিপুল সংখ্যক তাঁতশ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছে। তাদের ঘরে খাবার নেই। ক্ষুদ্র তাঁত মালিকরা প্রতি সপ্তাহে তাঁতপ্রতি চার হাজার টাকার ক্ষতির শিকার হচ্ছেন। তাদের ঋণের কিস্তি স্থগিত করা হয়েছে। এমন সময়ে তাঁত মালিকদের জন্য আলাদা কোনো সরকারি প্রণোদনা না থাকলেও তাঁত মালিকদের সুবিধার্থে ৫ শতাংশ সার্ভিস চার্জে ঋণ দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। নূন্যতম ৩০ হাজার টাকা থেকে দুই লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ কার্যক্রম চালু আছে তাঁতীদের জন্য।”

এ ব্যাপারে টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোশারফ হোসেন খান ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “যারা অস্বচ্ছল তাঁত শ্রমিক রয়েছেন তাদের অনেকেই জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ত্রাণসামগ্রী দেওয়া হয়েছে। প্রযায়ক্রমে সবাইকে ত্রাণসামগ্রী দেওয়া হবে। আমরা অনেক তাঁতীদের তাঁত চালু রাখার জন্য বলেছি। তবে এখানে জেলার বাইরে কোনো শ্রমিক আসতে পারবে না।” 

50
50
blogger sharing button blogger
buffer sharing button buffer
diaspora sharing button diaspora
digg sharing button digg
douban sharing button douban
email sharing button email
evernote sharing button evernote
flipboard sharing button flipboard
pocket sharing button getpocket
github sharing button github
gmail sharing button gmail
googlebookmarks sharing button googlebookmarks
hackernews sharing button hackernews
instapaper sharing button instapaper
line sharing button line
linkedin sharing button linkedin
livejournal sharing button livejournal
mailru sharing button mailru
medium sharing button medium
meneame sharing button meneame
messenger sharing button messenger
odnoklassniki sharing button odnoklassniki
pinterest sharing button pinterest
print sharing button print
qzone sharing button qzone
reddit sharing button reddit
refind sharing button refind
renren sharing button renren
skype sharing button skype
snapchat sharing button snapchat
surfingbird sharing button surfingbird
telegram sharing button telegram
tumblr sharing button tumblr
twitter sharing button twitter
vk sharing button vk
wechat sharing button wechat
weibo sharing button weibo
whatsapp sharing button whatsapp
wordpress sharing button wordpress
xing sharing button xing
yahoomail sharing button yahoomail