• শনিবার, অক্টোবর ৩১, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৩:১৯ বিকেল

কেঁচো সারে কর্মসংস্থান হচ্ছে যুবক ও নারীদের

  • প্রকাশিত ০৩:৩১ বিকেল সেপ্টেম্বর ২১, ২০২০
সিলেট
কেঁচোসার উৎপাদনে এগিয়ে এসেছেন অনেক কৃষাণীরাও। ঢাকা ট্রিবিউন

এই সার উৎপাদনের মাধ্যমে একজন কৃষক মাসে ন্যূনতম ২৫-৩০ হাজার টাকা আয় করতে পারবেন

সিলেট অঞ্চলে ক্রমশ জনপ্রিয় হচ্ছে কেঁচো সার (ভার্মি কম্পোস্ট)। সবজি চাষে ব্যবহারে সফলতা ও উৎপাদন প্রক্রিয়া সহজ হওয়ায় কৃষকেরা এখন রাসায়নিক সারের পরিবর্তে কেঁচো সার ব্যবহারের প্রতি ঝুঁকছেন। চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় সিলেটের দক্ষিণ সুরমা ও বিয়ানীবাজার উপজেলায় বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন শুরু হয়েছে বলে কৃষি বিভাগ জানিয়েছে। 

কৃষি বিভাগ জানায়, ভার্মি কম্পোস্ট রাসায়নিকের বিকল্প হিসেবে সার ফল, ফুল ও সবজি কিংবা রবিশস্য চাষে ব্যবহার হয়। সিলেটের বিভিন্ন উপজেলায় গত কয়েক বছর ধরে উৎপাদন হচ্ছে এ সার। গত কিছুদিন ধরে দক্ষিণ সুরমা ও বিয়ানীবাজার উপজেলায় বাণিজ্যিক ভিত্তিতে উৎপাদন শুরু হয়েছে। সারটি ইতোমধ্যেই শিক্ষিত যুবক ও নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছে। 

সংশ্লিষ্টরা জানান, আপাতত প্রতিমাসে বিয়ানীবাজার উপজেলায় ২০ মেট্রিক টন কেঁচো সারের উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। স্বল্প পুঁজিতে স্থানীয়ভাবে “পঞ্চখ- সার” নামে তা বাজারজাত করে একজন কৃষকের প্রতিমাসে আয় হচ্ছে কমপক্ষে ২৫-৩০ হাজার টাকা। এর মাধ্যমে রাসায়নিক সার ছাড়াই ফুলকপি, বাঁধাকপি, লাউ ও টমেটোসহ বিভিন্ন ফসল উৎপাদন করতে পারছেন কৃষকরা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সিলেট-এর উপ-পরিচালক সালাউদ্দিন আহমদ জানান, বিগত কয়েক বছর থেকে ন্যাশনাল এগ্রিকালচারাল টেকনোলজি প্রোগ্রাম (এনএটিপি-২) এর মাধ্যমে সিলেটের ১৩ উপজেলায় ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদন ও মাটির উত্তম স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে। প্রতিবছর একদিনের এ প্রশিক্ষণে বিভিন্ন উপজেলার ৯০-১২০ জন কৃষক অংশ নেন। তাদের নিয়েই বিভিন্ন উপজেলায় গড়ে উঠেছে “উপজেলা প্রডিউসার অর্গানাইজেশন”। সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলায় শাহীন নামের একজন কৃষক ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদন করে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছেন। বিয়ানীবাজারেও অনেকে এ ক্ষেত্রে সাফল্য পাচ্ছেন বলে জানান তিনি। 

সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রশিক্ষিত সদস্যরা উষ্ণ স্থানে ২০টি পাকা রিংয়ে নির্দিষ্ট পরিমাণ কেঁচো, ১৫ দিনের পুরনো গোবর এবং কলা গাছ/কচুরিপানা যথাযথ প্রক্রিয়ায় সংরক্ষণ করে রাখেন। এ থেকে ৩০-৪৫ দিনে উৎপাদন হবে এক থেকে দেড় মেট্রিক টন কেঁচো সার। এ সার বিক্রির বাজার মূল্য প্রায় ২৫ হাজার টাকা। প্রথমবার এতে সর্বোচ্চ খরচ হবে ১০ হাজার টাকা। পরবর্তীতে প্রতিমাসে কেঁচো বিক্রি করে আরও ৮-১০ হাজার টাকাসহ কমপক্ষে ৩০ হাজার টাকা উপার্জন করা সম্ভব। এভাবে যত বেশি রিং ব্যবহার করা হবে কৃষক তত বেশি লাভবান হবেন। রিং হলে ভালো, নতুবা পলিস্টারের বস্তায় ভরেও কেঁচো সার উৎপাদন করা যায়। 

উপজেলার মাথিউরা ইউনিয়নের পুরুষপাল গ্রামের কৃষক আব্দুল কুদ্দুছ জানান, গত দুই বছর শুধুমাত্র নিজের জমিতে রবিশস্যের জন্য ৪টি রিংয়ে কেঁচো সার উৎপাদন ও ব্যবহার করেছেন। এবার কৃষি কর্মকর্তার উৎসাহে তিনি বাণিজ্যিকভাবে বিক্রির জন্য ২০টি রিং ব্যবহার করছেন। এ থেকে তার কমপক্ষে এক মেট্রিক টন কেঁচো সার উৎপাদন হবে। কম খরচে অধিক লাভ হওয়ায় তার মতো আরও ২০-২৫ জন প্রশিক্ষিত কৃষক এ সার উৎপাদনে এগিয়ে এসেছেন। 

সরকারি একটি প্রকল্পে কাজ করেন শেওলা ইউনিয়নের ঢেউনগর গ্রামের শিক্ষিত তরুণী রিতাঞ্জলী। কেঁচো সারের ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়াতে তিনি চাকুরির ফাঁকে বাণিজ্যিকভাবে সার উৎপাদনে হাত দিয়েছেন। গোলাপগঞ্জের এক কৃষকের কাছ থেকে ৫ হাজার টাকায় তিন কেজি কেঁচো কিনেছেন। এবার ২০টি রিংয়ের কেঁচো সার বিক্রি করে ৩০ হাজার টাকা আয়ের স্বপ্ন দেখছেন তিনি। 

উপজেলার দুবাগ ইউনিয়নের দুবাগ গ্রামের কৃষাণী পারুল বেগম জানান, প্রথমে ৬টি রিং দিয়ে কেঁচো সার উৎপাদন শুরু করলেও পরে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় আরও ৬টি রিং যুক্ত করেছেন। সম্প্রতি ২১০ কেজি সার ও ৭ হাজার টাকার কেঁচো বিক্রি করেছেন বলে জানান তিনি। 

একইভাবে বিয়ানীবাজার উপজেলার কৃষক আব্দুর রব, ময়নুল ইসলাম, মঈন উদ্দিনসহ আরও অনেকেই “পঞ্চখ- সার” বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন শুরু করেছেন। তারা এ সার দিয়ে নিজের ফসল ফলানোর পাশাপাশি বিপণনের মাধ্যমে আয় করতে চান মোটা অংকের টাকা। 

বিয়ানীবাজার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আনিছুজ্জামান বলেন, কেঁচো সার দিলে ফসলের উৎপাদন বেশি ও ফল বা সবজি সুস্বাদু হয় । এ জন্য আমরা রাসায়নিক সারের পরিবর্তে জৈব সার উৎপাদনে কৃষকদের নানাভাবে উৎসাহিত করছি। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কৃষকরা গুণগত মান বজায় রেখে বাণিজ্যিকভাবে কেঁচো সার উৎপাদন করছেন। এ থেকে কৃষক মাসে ন্যূনতম ২৫-৩০ হাজার টাকা আয় করতে পারবে। 

তিনি আরও বলেন, “বিয়ানীবাজারে আগামী বছরের মাঝামাঝি সময়ে মাসে ৫০ মেট্রিক টন কেঁচো সার বা ‘পঞ্চখ- সার’ উৎপাদন করা সম্ভব হবে।”

সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (সিকৃবি) মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক প্রফেসর ড. আবুল কাশেম বলেন, “গবেষণায় সিলেট অঞ্চলে ফসল উৎপাদনে ভার্মি কম্পোস্ট ব্যবহারে ভালো ফলাফল পাওয়া গেছে। বিশেষ করে এ সার ব্যবহারে বাঁধা কপি, ফুলকপি ও টমেটোর ভালো ফল হয়। পাশাপাশি মাটিতে জিংক ও আর্সেনিকের দূষণ রোধেও সহায়ক এ সার। এ নিয়ে সিকৃবিতে তার অধীনে একজন শিক্ষার্থী পিএইচডি করেছেন। অপরজন পোস্ট ডক্টরাল রিসার্চ করছেন।”

51
50
blogger sharing button blogger
buffer sharing button buffer
diaspora sharing button diaspora
digg sharing button digg
douban sharing button douban
email sharing button email
evernote sharing button evernote
flipboard sharing button flipboard
pocket sharing button getpocket
github sharing button github
gmail sharing button gmail
googlebookmarks sharing button googlebookmarks
hackernews sharing button hackernews
instapaper sharing button instapaper
line sharing button line
linkedin sharing button linkedin
livejournal sharing button livejournal
mailru sharing button mailru
medium sharing button medium
meneame sharing button meneame
messenger sharing button messenger
odnoklassniki sharing button odnoklassniki
pinterest sharing button pinterest
print sharing button print
qzone sharing button qzone
reddit sharing button reddit
refind sharing button refind
renren sharing button renren
skype sharing button skype
snapchat sharing button snapchat
surfingbird sharing button surfingbird
telegram sharing button telegram
tumblr sharing button tumblr
twitter sharing button twitter
vk sharing button vk
wechat sharing button wechat
weibo sharing button weibo
whatsapp sharing button whatsapp
wordpress sharing button wordpress
xing sharing button xing
yahoomail sharing button yahoomail