• বুধবার, মে ১৯, ২০২১
  • সর্বশেষ আপডেট : ১১:৪২ রাত

মাছ বাণিজ্যে ভারতের কাছে ভারসাম্য হারাচ্ছে বাংলাদেশ

  • প্রকাশিত ০৩:৪৯ বিকেল সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২০
বেনাপোল-মাছ
দেশে কার্প জাতীয় মাছের ব্যাপক উৎপাদন থাকা সত্ত্বেও এসব মাছ আমদানি করায় ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে বাংলাদেশ। ঢাকা ট্রিবিউন

দুই বছর আগেও মাছ বাণিজ্যে বাংলাদেশের উদৃত্ত ছিল বছরে গড়ে ১ কোটি মার্কিন ডলার। কিন্তু চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসেই ১ কোটি ৬ লাখ ৫২ হাজার ৮৮৬ মার্কিন ডলার

বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্যে বড় একটি অংশ জুড়ে রয়েছে মাছ। মাছ বাণিজ্যে দুই বছর আগেই দু’দেশের মধ্যে আয়ের পাল্লা বাংলাদেশের পক্ষে ছিল। কিন্তু চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে মাছ রফতানির তুলনায় দ্বিগুণ আমদানি করেছে বাংলাদেশ। এতে মাছের বিপরীতে রাজস্ব আয়ের বদলে উল্টো বৈদেশিক মুদ্রা হারাচ্ছে বাংলাদেশ। 

তবে মৎস্য কর্মকর্তা ও কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বাজারে ভারতের কার্প জাতীয় মাছের দাম কম থাকায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। অন্যদিকে, উৎপাদন খরচ বেশি ও সঠিক দাম না পাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন দেশি মৎস্য চাষিরা। এক্ষেত্রে এসব মাছ ভারত থেকে আমদানি বন্ধ হলে বর্তমান বাজার দরেই তারা লাভবান হতেন। 

বন্দর সূত্রে জানা যায়, গত তিন বছরে বেনাপোল বন্দর দিয়ে ভারতে রফতানি হয়েছে দুই কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ২০৫ মার্কিন ডলার মূল্যের এক কোটি ১৯ লাখ ৯৫ হাজার ৬৮২ কেজি মাছ। একই সময় ভারত থেকে আমদানি হয়েছে ৯৫ লাখ ৪৭ হাজার ২৯৭ ডলার মূল্যের এক কোটি ৩০ লাখ ৬৮ হাজার ৯১৮ কেজি মাছ। ২০২০-২১ অর্থ বছরের জুলাই থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ে ভারত থেকে ২ কোটি ৫৬ লাখ ৩ হাজার ৬৬ মার্কিন ডলার মূল্যে ৩ কোটি ৬১ লাখ ৫৮৭ কেজি কার্প মাছ আমদানি হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে ভারতে রফতানি হয়েছে ৯৯ লাখ ১০ হাজার ১৮০ মার্কিন ডলার মূল্যে ১৬ লাখ ৬২ হাজার ১২৪ কেজি মাছ। যা মাছ আমদানি-রফতানি বাণিজ্যের উদৃত্তে ভারতের পাল্লাকেই ভারী করেছে। 

বেনাপোলের ফিশারিজ কোয়ারেন্টাইন কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান বলেন, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ভারতে মাছ রফতানি হয়েছে ৩২ লাখ ৬৭ হাজার ৪৪ কেজি, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৩৪ লাখ ৮৩ হাজার ৬৩০ কেজি এবং গত অর্থবছরে (২০১৯-২০) রফতানি হয়েছে ৫২ লাখ ৪৫ হাজার ৮ কেজি মাছ। একইসঙ্গে ভারত থেকে এদেশে মাছ আমদানি হয়েছে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৩৫ লাখ ১৬ হাজার ৩২৫ কেজি, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৪৭ লাখ ২৮ হাজার ৬৭৮ কেজি ও ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৪৮ লাখ ২৩ হাজার ৯১৫ কেজি। ২০২০-২১ অর্থ বছরের জুলাই থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ে ভারত থেকে ২ কোটি ৫৬ লাখ ৩ হাজার ৬৬ মার্কিন ডলার মূল্যে ৩ কোটি ৬১ লাখ ৫৮৭ কেজি কার্প মাছ আমদানি হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে ভারতে রফতানি হয়েছে ৯৯ লাখ ১০ হাজার ১৮০ মার্কিন ডলার মূল্যে ১৬ লাখ ৬২ হাজার ১২৪ কেজি মাছ।

করোনাভাইরাসের কারণে এপ্রিল থেকে জুন মাসে বাংলাদেশ থেকে কোনো মাছ রফতানি হয়নি। জুলাই মাসে রফতানি হয়েছে ২ লাখ ৭ হাজার ৩৯২ কেজি মাছ। যার মূল্য ৫ লাখ ১৮ হাজার ৪৮০ মার্কিন ডলার। আগস্ট মাসে রফতানি হয়েছে ৩ লাখ ৮ হাজার ৯৬৬ কেজি মাছ। যার মূল্য ৭ লাখ ৭২ হাজার ৪১৫ ডলার। ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ে রফতানি হয়েছে ১১ লাখ ৪৫ হাজার ৭৬৬ কেজি। যার মূল্য ৮৬ লাখ ১৯ হাজার ২৮৫ মার্কিন ডলার।  

শার্শা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবুল হাসান জানান, ভারত থেকে আমদানি হয় রুই, কাতল, সামুদ্রিক ও স্বাদু পানির মাছ। আর বাংলাদেশ থেকে রফতানি হয় পাবদা, গুলশা, টেংরা, পাঙ্গাস, হিমায়িত চিংড়ি, কার্প, ভেটকিসহ অন্যান্য মাছ। এর মধ্যে পাবদা মাছের চাহিদা বেশি হওয়ায় মোট রফতানির ৪০% পাবদা। পাবদা মাছ বেশি উৎপাদিত হয় যশোর জেলায়।

তিনি বলেন, “ভারত থেকে যেসব মাছ আমদানি হচ্ছে সেগুলো এখন স্থানীয়ভাবেই ব্যাপকভাবে চাষ হচ্ছে। বর্তমানে এ জাতীয় মাছ আমদানি না করলে ও অসুবিধা নেই। আমদানি বন্ধ হলে আমাদের দেশের চাষিরা ব্যাপক লাভবান হতেন।”

যশোরের শার্শা উপজেলায় চাহিদার তিনগুণ বেশি মাছ উৎপাদন হচ্ছে জানিয়ে আবুল হাসান বলেন, উপজেলার ১৫টি বাঁওড়, ২৭১টি ঘের, ১০টি বিল ও ছয় হাজার ৬১৯টি পুকুর মিলে মোট ছয় হাজার ২৩৯ হেক্টর জলাশয়ে আধুনিক পদ্ধতিতে মাছ চাষ করা হচ্ছে। এখানে বছরে ২২ হাজার ৪৮৫ মেট্রিক টন মাছ উৎপাদিত হয় কিন্তু স্থানীয় চাহিদা মাত্র সাত হাজার ৫৭২ মেট্রিক টন। স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পর অতিরিক্ত মাছ অন্যান্য এলাকায় ও ভারতে রফতানি করা হয়।

শার্শার সততা ফিসের সত্ত্বাধিকারী ও মাছ রফতানিকারক আবদুল কুদ্দুস বলেন, ভারতে পাবদা ও কার্প জাতীয় মাছের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। আমরা সাধারণত পাবদা, টেংরাসহ অন্যান্য মিঠা পানির মাছ রফতানি করে থাকি।

শার্শার আফিল অ্যাকোয়া ফিসে প্রতিদিন ১০ মেট্রিক টন মাছ ও মাছের পোনা উৎপাদিত হয়। এর মধ্যে ৪০ থেকে ৬০ দিনে ৮ লাখ পিস মাছ উৎপাদিত হয়। যার মধ্যে রয়েছে শিং, মাগুর, পাবদা, রুই, কাতল ও মৃগেল মাছ। 

প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপক কৃষিবিদ শফিকুল ইসলাম জানান, আমরা প্রাকৃতিক উৎস থেকে রেণুপোনা সংগ্রহ করে থাকি। পরে ট্যাঙ্কের মাধ্যমে রেণু নার্সিং করে পুকুরে মজুদ করার পর বিভিন্ন প্রজাতির মাছ উৎপাদন হয়ে থাকে। এসব মাছ আমরা দেশের বাজারের পাশাপাশি বিদেশেও রফতানি করে থাকি।

এ ব্যাপারে যশোর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আনিছুর রহমান বলেন, “দাম কম হওয়ার কারণে ভারত থেকে রুই-কাতল আমদানি হচ্ছে। এসব মাছের থেকে আমাদের দেশের রুই মাছের স্বাদ অনেক ভালো। সে কারণে দেশের মাছ চাষিরা মৌখিক ভাবে ভারত থেকে সাদা মাছ আমদানি বন্ধের দাবি করে আসছেন। এটি বন্ধ হলে আমাদের দেশের চাষিরা লাভবান হবেন। এক সময় ভারতে প্রচুর পরিমাণ ইলিশ রফতানি হতো। ইলিশ পশ্চিমবঙ্গের বাঙালিদের কাছে প্রিয় হলেও দেশের চাহিদা বিবেচনায় বিভিন্ন সময় তা রফতানি বন্ধ রাখে বাংলাদেশ সরকার।”

শার্শার মাছ আমদানি কারক প্রতিষ্ঠানের মালিক রুবাই জানান, বেনাপোল দিয়ে ভারত থেকে বাংলাদেশে যে সমস্ত সাদা মাছ আমদানি হয় তার ব্যাপক চাহিদা আছে দেশে। এখন বর্ষা মৌসুমে মাছের আমদানি কিছুটা বেশি। কিন্তু আমরা তো সারাবছর মাছ আমদানি করি। ঘাটতির সময়ে আমরা তা পূরণ করি। 

২০১২ সালের আগে ভারতে ইলিশ রফতানি করা হতো। তবে ইলিশের উৎপাদন কমে যাওয়ায় ২০১২ সালের পর ইলিশ রফতানি বন্ধ করে দেয় সরকার। ইলিশ রফতানি নিষিদ্ধ হলেও গতবছর দুর্গাপূজা উপলক্ষে পাঁচশ টন ইলিশ রফতানির অনুমোদন দেয় সরকার। তার প্রথম চালান গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর ভারতে যায়। চলতি বছর দূর্গাপুজা উপলক্ষে শুভেচ্ছা সরূপ ১৪৫০ মেট্রিক টন ইলিশ রফতানির সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। যা ১৪ সেপ্টেম্বর থেকে ভারতে রফতানি শুরু হয়েছে আগামী ১০ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে। গত ১৬ দিনে ভারতে ৮০০ মেট্রিক টন ইলিশ মাছ রফতানি হয়েছে ভারতে।

53
Facebook 50
blogger sharing button blogger
buffer sharing button buffer
diaspora sharing button diaspora
digg sharing button digg
douban sharing button douban
email sharing button email
evernote sharing button evernote
flipboard sharing button flipboard
pocket sharing button getpocket
github sharing button github
gmail sharing button gmail
googlebookmarks sharing button googlebookmarks
hackernews sharing button hackernews
instapaper sharing button instapaper
line sharing button line
linkedin sharing button linkedin
livejournal sharing button livejournal
mailru sharing button mailru
medium sharing button medium
meneame sharing button meneame
messenger sharing button messenger
odnoklassniki sharing button odnoklassniki
pinterest sharing button pinterest
print sharing button print
qzone sharing button qzone
reddit sharing button reddit
refind sharing button refind
renren sharing button renren
skype sharing button skype
snapchat sharing button snapchat
surfingbird sharing button surfingbird
telegram sharing button telegram
tumblr sharing button tumblr
twitter sharing button twitter
vk sharing button vk
wechat sharing button wechat
weibo sharing button weibo
whatsapp sharing button whatsapp
wordpress sharing button wordpress
xing sharing button xing
yahoomail sharing button yahoomail