• মঙ্গলবার, মে ১৮, ২০২১
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৮:৩৯ রাত

বরেন্দ্র অঞ্চলে গমের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা

  • প্রকাশিত ০৪:১১ বিকেল মার্চ ৯, ২০২১
রাজশাহী-কৃষি
মাঠভর্তি গমের রং সোনালি হতে শুরু করেছে। ঢাকা ট্রিবিউন

ইতোমধ্যেই সোনালি শীষে ভরে গেছে বরেন্দ্র অঞ্চলের মাঠ। বসন্তের হালকা বাতাসের দোলায় মাঠজুড়ে দুলছে যেন কৃষকের রঙিন স্বপ্ন


বরেন্দ্র অঞ্চলে ফসলের মাঠগুলো এখন সোনালি-সবুজ রঙে ঝলমল করছে। হালকা বাতাসের দোলায় রাজশাহী, নওগাঁ, নাটোর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় নতুন গমের শীষ কৃষকের মনে রঙিন স্বপ্ন বুনছে। মাঠ গমের সোনালি শীষে ভরে গেছে। আবহাওয়া অনুকূল থাকায় এবার গমের বাম্পার ফলন হবে বলে জানাচ্ছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর। আর কিছুদিন পরে গম কাটা শুরু হবে।

রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালের চেয়ে এ বছরে গমের আবাদ সামান্য একটু কম হয়েছে। গত বছর ২৬ হাজার ৫৪১ হেক্টর জমিতে ৯৬ হাজার ৭৫৫ মেট্রিকটন গমের চাষ হয়েছে। আর চলতি বছরে চাষ হচ্ছে ২৫ হাজার ৪৯৭ হেক্টর জমিতে। তবে এবার কম জমিতে আবাদ হলেও ৯৫ হাজার ১০৩ মেট্রিকটন গম উৎপাদন হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কৃষি সম্প্রসারণ রাজশাহী অঞ্চলের তথ্য মতে, এবার গমের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ১ লাখ ২ হাজার ৮২৫ হেক্টর। তবে আবাদ হয়েছে ৯৫ হাজার ১৮২ হেক্টর। গতবার রাজশাহী অঞ্চলে চাষ হয়েছিল ১ লাখ ৮৭১ হেক্টর। এবার রাজশাহী জেলায় ২৫ হাজার ৪৯৭, নওগাঁয় ২২ হাজার ৬১০, নাটোরে ২২ হাজার ১৯৫ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় ২৪ হাজার ৮৮০ হেক্টর জমিতে গমের আবাদ হয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ রাজশাহী অঞ্চলের তথ্য মতে, রাজশাহী অঞ্চলে ৪টি জেলা (রাজশাহী, নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নাটোর) রয়েছে। যার মোট আয়তন ৯৪৯১.৫৯ বর্গ কিলোমিটার। আবাদী জমির পরিমাণ ৭,৩৯,১৭৭হেক্টর। এরমধ্যে এ অঞ্চলের মোট আয়তনের প্রায় ৩৯ ভাগ (৩,৬৭,৬০৬ হেক্টর) বরেন্দ্র ভূমি।

রাজশাহী কৃষি সম্পসারণ অধিদফতর ও কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এ বছর পেঁয়াজ, আলু ও রসুনের দাম বাড়ায় ওইসব ফসলের চাষও বেড়ে গেছে। ফলে এবার কৃষক অপেক্ষাকৃত কম জমিতে গম চাষ করেছে। 

রাজশাহীর, পবা, পুঠিয়া ও দুর্গাপুর  চারঘাট উপজেলা ঘুরে দেখা গেছে, গমের সবুজ শীষে চকচক করছে মাঠ। আর কিছুদিন পর গমের গায়ে সোনালি রং আসবে। পাকলে সঙ্গে সঙ্গেই কৃষক গম কাটা ও মাড়াই শুরু করে দিবে। এবার আবহাওয়া অনুকূল থাকলে গমের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখছেন কৃষকরা। প্রতি বিঘায় ৮ থেকে ১৪ মণ করে গম হয় পাওয়া যাবে বলেই তাদের ধারণা।

রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্যমতে, জেলায় এবার ২৫ হাজার ৪৯৭ হেক্টর জমিতে ৯৫ হাজার ১০৩ মেট্রিকটন গম উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। যার বাজার মূল্য ১৯০ কোটি টাকা। গমের উন্নত নতুন জাত, সেচের ব্যবস্থা ও আবহাওয়া অনুকূল থাকার কারণে বাড়ছে গমের ফলন।

রাজশাহীর পবা, মোহনপুর, বাঘা, চারঘাট ও তানোর উপজেলায় বেশি গম চাষ হয়েছে। বাকি উপজেলায় গম চাষ হলেও খুব বেশি নয়। বিগত দিনে গমের জমি কমলেও গত বছর থেকে বেশি জমিতে গম চাষ হচ্ছে।

রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার কৃষক আনোয়ার হোসেন জানান, আগের চেয়ে গম চাষ বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্য ফসলের চেয়ে গম চাষে খরচ তুলনামূলক কম। তবে সেচ ও বীজের দাম বেশি হলে একটু সমস্যা হয়। এবার আবহাওয়া ভালো থাকায় ও জমি উর্বর থাকায় আমাদের এলাকায় গমের চাষ ভালো হয়েছে।

চারঘাট উপজেলার সরদা এলাকার কৃষক মোজ্জামেল হক জানান, এবার কয়েক বিঘা জমিতে গম চাষ করেছি। আবহাওয়া ভালো থাকায় অনেক ভালো ফলনের আশা করছি। বিঘায় ১২ থেকে ১৫ মণ করে গম পাবো-আশা রাখছি।  

চারঘাট উপজেলার আরেক কৃষক মইনুল হক জানান, গত বছর গম চাষ করে ভালো ফলন পেয়েছি। এবারও আবহাওয়া ভালো থাকায় ঝড় বৃষ্টি না থাকায় বেশ ভালো ফলন হবে মনে করছি। আর কিছুদিন পরেই শীষ পেঁকে হলুদ হবে- তখন কাটা হবে।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) উম্মে সালমা জানান, চলতি মৌসুমে রাজশাহীতে ২৫ হাজার ৪৯৭ হেক্টর জমিতে গম চাষ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূল থাকায় এবার গম চাষ বেশি হয়েছে।

তিনি আরও জানান, রাজশাহীতে দেশি জাতের গম বিঘা প্রতি ৮-১০ মণ হারে হয়। কিন্তু উচ্চ ফলনশীল গম বিঘা প্রতি ১১-১৪ মণ পর্যন্ত হবে। সিংহভাগ জমিতে উচ্চ ফলনশীল জাতের গম চাষ হচ্ছে। এ গমে দুই থেকে চারবার সেচ দিতে হয়। সার কীটনাশকেরও পরিমাণও অনেক কম। এ বছর লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হবে।

নওগাঁ জেলার মহাদেবপুর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে এবার গম চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৫০ হেক্টর। সেখানে আবাদ হয়েছে ৫৬০ হেক্টর জমিতে। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১০ হেক্টর বেশি। গম চাষ বৃদ্ধির লক্ষ্যে কৃষি বিভাগ প্রণোদনা হিসেবে বিনামূল্যে ৪০০ জন কৃষককে ২০ কেজি উন্নত জাতের বীজ, ২০ কেজি ডিএপি ও ১০ কেজি এমওপি সার সরবরাহ করছেন।

নওগাঁ জেলার মহাদেবপুর উপজেলার নাটশাল গ্রামের কৃষক সত্যেন কুমার বলেন, গত বছর ৬ বিঘা জমি থেকে তিনি ১৫০ মণ গম ঘরে তুলেছিলেন। প্রতি মণ গম এক হাজার টাকা করে বিক্রি করে লাভের মুখ দেখতে পাওয়ায় এ বছরও ধানের জমিতে গম চাষ করেছেন।

একই গ্রামের কৃষক ফরিদুল ইসলাম বলেন, মাঠজুড়ে ফুটে ওঠা গমের শীষ দেখে মনে হচ্ছে গত বছরের মতো এ বছরও বাম্পার ফলন হবে।

মহাদেবপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা অরুন চন্দ্র রায় বলেন, এবার আবহাওয়া গম উৎপাদনের অনুকূলে। এছাড়া কোনো রোগ বালাইয়ের আক্রমণ ঘটেনি। ফলে উৎপাদন ভালো হবে। আশা করা যাচ্ছে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক বেশি গম পাওয়া যাবে।

তিনি বলেন, “কৃষকরা যেন গম চাষে কোনো প্রকার সমস্যায় না পড়েন এ জন্য আমরা সার্বক্ষণিক নজর রাখছি। কৃষি বিভাগ কৃষকদের পাশে থেকে নানা পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে।”

50
Facebook 50
blogger sharing button blogger
buffer sharing button buffer
diaspora sharing button diaspora
digg sharing button digg
douban sharing button douban
email sharing button email
evernote sharing button evernote
flipboard sharing button flipboard
pocket sharing button getpocket
github sharing button github
gmail sharing button gmail
googlebookmarks sharing button googlebookmarks
hackernews sharing button hackernews
instapaper sharing button instapaper
line sharing button line
linkedin sharing button linkedin
livejournal sharing button livejournal
mailru sharing button mailru
medium sharing button medium
meneame sharing button meneame
messenger sharing button messenger
odnoklassniki sharing button odnoklassniki
pinterest sharing button pinterest
print sharing button print
qzone sharing button qzone
reddit sharing button reddit
refind sharing button refind
renren sharing button renren
skype sharing button skype
snapchat sharing button snapchat
surfingbird sharing button surfingbird
telegram sharing button telegram
tumblr sharing button tumblr
twitter sharing button twitter
vk sharing button vk
wechat sharing button wechat
weibo sharing button weibo
whatsapp sharing button whatsapp
wordpress sharing button wordpress
xing sharing button xing
yahoomail sharing button yahoomail