• মঙ্গলবার, জুন ২২, ২০২১
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৫৬ রাত

এক জমিতে একাধিক ফসল চাষে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর সফলতা

  • প্রকাশিত ০৪:৩৭ বিকেল মে ৭, ২০২১
কৃষি
আধুনিক পদ্ধতিতে সমন্বিত চাষাবাদে লাভবান হয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী শাকিল আহমেদ। ঢাকা ট্রিবিউন

‘তারা বলেন আমি নাকি ভার্সিটি পাশ করে এসে পাগল হয়ে গেছি। এখন আমি সফলতা অর্জন করেছি আর তারাও আধুনিক পদ্ধতির উপকারিতা লক্ষ্য করেছে। এখন নিজেরা এটা সম্পর্কে আগ্রহী হয়েছে’

টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে এক জমিতে শসা, বিদেশি জাতের ব্লাকবেরী তরমুজ ও বাঙ্গি চাষ করে সফল হয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শাকিল আহমেদ। এক জমিতে একইসঙ্গে তিন ফলিয়ে এলাকায় সাড়া ফেলে দিয়েছেন তিনি।

শাকিল আহমে উপজেলার আতিয়া ইউনিয়নের গোমজানি গ্রামের আব্দুল করিমের ছেলে ও নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।

শাকিল আহমেদ জানান, ২০২০ সালে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) কৃষি বিভাগ থেকে বিএসসি শেষ করেন। প্রথম লকডাউনের কারণে পরিবারের সঞ্চয় করা অর্থ তখন প্রায় শেষের দিকে। পরিবারে অর্থনৈতিক মন্দা, টানাপড়েন। ভাবলেন বসে না থেকে কিছু একটা করা উচিত। লকডাউন শিথিলের পর বেসরকারি চাকরির জন্য আবেদন করা শুরু করেন। লকডাউন শিথিল হলেও করোনাভাইরাস দুর্যোগে বেসরকারি সেক্টরগুলোও তখন সংকটে। আবেদনের পর কয়েকটি মার্কেটিং কোম্পানি ও প্রাইভেট হাসপাতালের অ্যাডমিন শাখা থেকে ডাকও পান তিনি। কিন্তু কাজের চাপ ও সেখানে দেওয়া সময়ের তুলনায় বেতন অনেক কম হওয়ায় তিনি চাকরির চিন্তা বাদ দেন। 

কৃষি বিভাগের শিক্ষার্থী হিসেবে কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের বসতবাড়িতে সবজি চাষ এবং পারিবারিক পুষ্টি চাহিদার প্রজক্ট নিয়ে কাজ শুরু করেন তিনি। সে লক্ষ্য সামনে রেখে ইন্টারনেট এবং ইউটিউবে সার্চ করতে শুরু করেন বাণিজ্যিকভাবে কি চাষ করা যায়। ইউটিউবে কৃষি সমাচার চ্যানেলের ভিডিও থেকে তিনি, স্কোয়াশ, শসা, তরমুজ ও বাঙ্গি চাষ সম্পর্কে ধারণা নিয়ে শাকিল তার বাবাকে জানান। বাবার আশ্বাস পেয়ে চিন্তা করেন ভিন্ন উপায়ে চাষাবাদ করার। কম পরিশ্রমে অধিক ফলনের লক্ষ্যে ভারত থেকে আনা শসা, তরমুজ ও বাঙ্গি চাষ শুরু করেন তিনি। 

তিনি বলেন, প্রথমে তিনি ৪৫ শতাংশ জায়গার মধ্যে ২৩ শতাংশ জায়গায় ১২টি শসা গাছ লাগিয়েছেন তিনি। ১৫ শতাংশ জায়গায় তরমুজ বাকি জায়গায় তিনি বাঙ্গি চাষ করেছেন। এই প্রজেক্টে তার ১৮ হাজার টাকা খরচ হলেও ইতোমধ্যে তিনি প্রায় ৫০ হাজার টাকা শসা বিক্রি করেছেন। এ ছাড়াও প্রতিদিন সাড়ে তিন থেকে চার হাজার টাকা শসা বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়াও চারিদিকে নেট দিয়ে বেড়া দিয়ে করোলা ও ধুন্দলের চাষ করেছেন। বেডের ফাঁকা জায়গার মধ্যে লাল শাক ও ডাটা চাষ করেও পাঁচ হাজার টাকা বিক্রি করেছেন। 

তার এই চাষ দেখতে নিজ গ্রামসহ আশে পাশের গ্রাম থেকে মানুষ আসে। প্রজেক্টে পোকা দমনের জন্য সেক্স ফেরোমন ফাঁদ ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে উইনডো মাচাং পদ্ধতিতে চাষাবাদ করতে গিয়ে নতুন অভিজ্ঞতা এবং সমালোচনার মুখোমুখি হতে হয়েছে তাকে।

তিনি বলেন, আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করতে গিয়ে নতুন অভিজ্ঞতা হয়েছে আমার। আশেপাশের গ্রামসহ আমার পুরো এলাকাতে আধুনিক পদ্ধতির চাষাবাদ পুরোপুরি নতুন ধারণা। আগে কখনো তারা এটি দেখেনি। এটা সম্পর্কে তাদের কোনো ধারণা না থাকায় আমি জমিতে কাজ শুরু করার পর সবাই সমালোচনা করতে শুরু করে। তারা বলেন আমি নাকি ভার্সিটি পাশ করে এসে পাগল হয়ে গেছি। আজকে যখন আমি সফলতা অর্জন করেছি এবং তারা আধুনিক পদ্ধতিতে উপকারিতা লক্ষ্য করেছে এখন তারা নিজেরাও এটা সম্পর্কে আগ্রহী হয়েছে, এ জন্য আমার ভালোলাগা কাজ করে। এতে করে নতুন একটা প্রযুক্তি সম্পর্কে পরিচিতি এবং সেটার  গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছে তাদের মধ্যে।

শাকিল আহমেদ জানান, স্থানীয় কৃষকদের বুঝিয়ে কয়েকটি উঠান বৈঠক করে আলু এবং ভুট্টা চাষে উদ্ধুদ্ধ করেছেন তিনি। শসা, তরমুজ ও বাঙ্গি  প্রজেক্ট দেখে গ্রামের বেশ কয়েকজন কৃষক স্কোয়াশ চাষে আগ্রহী হয়েছেন। কৃষককে উন্নত কৃষি ব্যবস্থায় আগ্রহী করতে ধানের জন্য লাইন, লোগো, পার্চিং (এলএলপি) পদ্ধতিতে সম্পর্কে পরামর্শ প্রদান করেছেন। 

গ্রামীণ কৃষি নিয়ে বিস্তৃত পরিসরে কাজ করার স্বপ্ন শাকিলের। তিনি বলেন, বসতি জমি বাড়ছে। তবে কৃষি জমি দিন দিন কমছে। কৃষি নিয়ে বিশেষ করে গ্রামীণ কৃষি নিয়ে বড় পরিসরে কাজ করার ইচ্ছে আমার। আমি এবং তিন-চারজন বন্ধু মিলে এই কাজটি করতে চাই। কিভাবে কম খরচে অধিক ফসল উৎপাদন করা যায় তা নিয়ে কাজ করার পাশাপাশি দালাল, ফড়িয়াদের দৌরাত্ম্য কমিয়ে উৎপাদিত পণ্য সরাসরি ভোক্তাদের নিকট কিভাবে বিপণণ করা সেটা নিয়েও কাজ করব। আগামী বন্যার আগে আরেকবার সবজি চাষ করা হবে। বন্যায় কুচুরি পানার উপর সবজি চাষ করার পরিকল্পনাও রয়েছে। 

শাকিলের বাবা আব্দুল করিম বলেন, তার প্রজেক্ট আমিও সহযোগিতা করি। তার ফলন দেখে আমি মুগ্ধ। আমি তার আরো সফলতা কামনা করছি।

ওই গ্রামের জাহিদুর রহমান, শহর আলী ও সেলিম আহমেদ বলেন, আগে আমাদের গ্রামে শুধু ধান চাষ করা হতো। আগে কখনও তরমুজ চাষ করা হয়নি। সবজি চাষের কোন চিন্তা ছিলো না। শাকিলের আধুনিক পদ্ধতিতে চাষ দেখে প্রথমে পরিহাস করলেও এখন তার সফলতা দেখে আমরা গর্বিত। আমরা তার কাছ থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে তার মতো চাষ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তার চাষ পদ্ধতি দেখতে অনেক দূর থেকে লোক আসে।

এ ব্যাপারে দেলদুয়ার উপজেলা কৃষি অফিসার শোয়েব মাহমুদ বলেন, “এক জমিতে একাধিক ফসল চাষ করে তিনি সাড়া ফেলেছে শাকিল । ফলনও বেশ ভাল হয়েছে। আমি আশা করি এলাকার যারা তরুণ রয়েছে শাকিলের দেখাদেখি কৃষি কাজে তারাও উদ্ধুদ্ধ হবে। উপজেলা কৃষি অফিস থেকে তাকে পরামর্শ ও সহযোগিতা করা হচ্ছে।”

58
Facebook 50
blogger sharing button blogger
buffer sharing button buffer
diaspora sharing button diaspora
digg sharing button digg
douban sharing button douban
email sharing button email
evernote sharing button evernote
flipboard sharing button flipboard
pocket sharing button getpocket
github sharing button github
gmail sharing button gmail
googlebookmarks sharing button googlebookmarks
hackernews sharing button hackernews
instapaper sharing button instapaper
line sharing button line
linkedin sharing button linkedin
livejournal sharing button livejournal
mailru sharing button mailru
medium sharing button medium
meneame sharing button meneame
messenger sharing button messenger
odnoklassniki sharing button odnoklassniki
pinterest sharing button pinterest
print sharing button print
qzone sharing button qzone
reddit sharing button reddit
refind sharing button refind
renren sharing button renren
skype sharing button skype
snapchat sharing button snapchat
surfingbird sharing button surfingbird
telegram sharing button telegram
tumblr sharing button tumblr
twitter sharing button twitter
vk sharing button vk
wechat sharing button wechat
weibo sharing button weibo
whatsapp sharing button whatsapp
wordpress sharing button wordpress
xing sharing button xing
yahoomail sharing button yahoomail