• মঙ্গলবার, অক্টোবর ১৯, ২০২১
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৫:১৮ সন্ধ্যা

রাজশাহীতে আম বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা পূরণে শঙ্কা

  • প্রকাশিত ০২:৪৭ দুপুর জুন ১১, ২০২১
রাজশাহী-আম
রাজশাহীর একটি আমবাগান ফাইল ছবি/ঢাকা ট্রিবিউন

বাজারে উন্নত জাতের গোপালভোগ, খিরসাপাত ও ল্যাংড়া জাতের আম পাওয়া যাচ্ছে। তবে ক্রেতা সংকটের কারণে এসব আমের দাম কমে গেছে। প্রতিটি জাতের আমের দাম মণপ্রতি ১৫০ থেকে ২০০ টাকা করে কমেছে

ফলের রাজা আম। আর আমের জন্য রাজশাহীর ব্যাপক সুনাম রয়েছে। রাজশাহী অঞ্চলে এবার প্রায় সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার আম বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিলো। লক্যমাত্রা পূরণে  কৃষি বিভাগ আশাবাদী থাকলেও হঠাৎই এই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছে তারা।

বাজারে উন্নত জাতের গোপালভোগ, খিরসাপাত ও ল্যাংড়া জাতের আম পাওয়া যাচ্ছে। তবে ক্রেতা সংকটের কারণে এসব আমের দাম কমে গেছে। প্রতিটি জাতের আমের দাম মণপ্রতি ১৫০ থেকে ২০০ টাকা করে কমেছে। গত কয়েকদিন ধরে উত্তরের দ্বিতীয় বৃহৎ আমের হাট বানেশ্বরে এমন অবস্থা চলছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

বিক্রেতাদের ভাষ্যমতে, হাটে প্রচুর আম আমদানি হচ্ছে। কিন্তু সেই তুলনায় ক্রেতা কম। তাই আম বিক্রি করতে হচ্ছে অল্প দামে। এতে চাষি ও ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে।

হাসান আলী নামের এক আম ব্যবসায়ী জানান, বৃহস্পতিবার (১০ জুন) বানেশ্বর হাটে ল্যাংড়া আম বিক্রি হয়েছে ১৩০০ থেকে ১৪০০ টাকা মণ দরে। এছাড়া খিরসাপাত ১৪০০ থেকে ১৮০০ টাকা মণ ও গোপালভোগ ১৯০০ থেকে ২৩ হাজার টাকা মণ দরে বিক্রি হয়েছে।

তিনি আরও জানান, মঙ্গলাবার (৮ জুন) ও বুধবার (৯ জুন) এই আমগুলো বর্তমান দামের চেয়ে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা কমে বিক্রি হয়েছে। এখন হাটে প্রচুর আম আমদানি হচ্ছে। তবে ক্রেতা তেমন নেই। এমন অবস্থায় নামানো আম সংরক্ষণের ব্যবস্থা থাকলে উপকৃত হতো চাষী ও বাগান কেনা ব্যবসায়ীরা।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের সূত্রে জানা যায়, প্রতি বছর অবহেলাজনিত কারণে আমের ৪০ শতাংশ নষ্ট হচ্ছে।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক কেজেএম আবদুল আউয়াল জানান, পরীক্ষামূলক সংরক্ষণের জন্য রাজশাহী বিভাগের দুইটি জেলায় কোল্ড স্টোরেজ করা হচ্ছে। যার একটি রাজশাহীর শিবপুরহাট ও অপরটি নটোরের আহম্মদপুরে। সেখানে ৪ মেট্রিকটন করে আম সংরক্ষণ সম্ভব হবে। পরীক্ষার ফল সন্তোষজনক হলে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।

রাজশাহীর আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্য মতে, অঞ্চলে এবার প্রায় সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার আম বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যেখানে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৮ লাখ ৫২ হাজার ১০০ মেট্রিক টন। যা গত বছরে ছিলো ৭ লাখ ৭৬ হাজার ২৮৬ মেট্রিক টন। আর অর্জিত বাজারমূল্যে ছিলো প্রায় ৪ হাজার ২৬৬ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। গত বছর এ অঞ্চলে আমের গড় মূল্য ছিলো কেজি প্রতি ৫৫ টাকা।

বর্তমানে রাজশাহী অঞ্চলের আম ব্যবসায়ীরা আম বেচাকেনায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। জমে উঠেছে অনলাইন বাজার। কিন্তু দাম কমে যাওয়ায় হতাশা প্রকাশ করছে বাগান মালিকরা। এবার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় বিনা পুঁজি ও স্বল্পপুঁজির মৌসুমি এ ব্যবসায় নেমেছেন কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া অনেক শিক্ষার্থী। বাগানিরা ভালো দাম না পেলেও এসব উদ্যোক্তা ও খুচরা আম ব্যবসায়ীরা শোনাচ্ছেন আশার বাণী।

জানা যায়, এ অঞ্চলের  রাজশাহী, নওগাঁ, নাটোর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের অনলাইনে আম বেচাকেনা হলেও অনলাইনে সবচেয়ে বেশি বেচাকেনা হচ্ছে রাজশাহীর আম। রাজশাহীর ছোট বড় প্রায় সাড়ে ৫০০ ব্যবসায়ী সরাসরি ও অনলাইনে আমের ব্যবসা করছেন। মৌসুমী অনলাইন ব্যবসায়ীরা কখনো সরাসরি আমবাগান আবার ছোট বড় মোকামগুলো থেকে নিজেদের পছন্দের আম কিনে সরবরাহ করছেন। অর্ডারের দুই থেকে তিন দিনের মধ্যেই কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে ক্রেতাদের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে আম।

অনলাইনের মাধ্যমে আমের মৌসুমি ব্যবসা করা রাজশাহী কলেজের শিক্ষার্থী সিজানুর রহমান সিজান জানান, অনলাইনে মাধ্যমে আমের ব্যবসা ভালো ও লাভজনক। তার বাসা চাঁপাইনবারগঞ্জে। সে করোনাভাইরাসের প্রকোপের প্রথমদিক থেকেই ঢাকায় কাজ করছেন। তিনি ঢাকা থেকেই অনলাইনে প্রচারণা চালিয়ে অর্ডার নিচ্ছেন। আর চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও রাজশাহীতে থাকা তার বন্ধু ও বিজনেস পার্টনার কুরিয়ার যোগে ক্রেতার কাছে পাঠিয়ে দেন। গতবার ভালো লাভ হয়েছিলো। এবারও বেচাবিক্রি ভালোই হচ্ছে।

অপরদিকে, নতুন ব্যবসায়ী নাইম ইসলাম লাভজনক এ ব্যবসায় সরাসরিও যুক্ত হলেও আমের দাম না থাকায় হতাশা প্রকাশ করেন। তিনি পড়াশোনার পাশাপাশি কয়েকটি আমের বাগান কিনেছেন। এই আম সংগ্রহ করে রাজশাহীর স্থানীয় বাজারসহ উদ্যোক্তাদের কাছে বিক্রি করছেন। তিনি জানান, করোনাভাইরাসের কারণে বাইরের বড় ব্যবসায়ীরা তেমন মাল কিনছেন না। সেই সঙ্গে করোনাভাইরাসের অজুহাতে দামও বলছে না। তিনি প্রায় সাড়ে ৩ লাখ টাকা দিয়ে বাগান কিনেছেন। কিন্তু আমের যে দাম তাতে বাগানে যে বিনিয়োগ তিনি করেছিলেন তা তুলে আনা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। অথচ খুচরা বিক্রেতারা বেশি দরেই আম বিক্রি করছে বলে জানান তিনি।

রাজশাহী আম ব্যাবসায়ী সমিতির সভাপতি হাজী মো. সাইফুল ইসলাম জানান, রাজশাহীতে এখন অনলাইনের মাধ্যমে আমের বেচাকেনা অন্যান্য সময়ের চেয়ে বেড়েছে। এ কারণে অনেকেই আগে যারা আম শুধু সরাসরি বিক্রি করতেন তারাও অনলাইনের দিকে ঝুঁকেছেন। ঝড় বা আমের ক্ষতি হয় এমন দুর্যোগের সম্মুখিন হতে হয়নি। এতে আমের গুনগত মান ভালো আছে।

এদিকে, রাজশাহী নগরীর শাল বাগান বাজারের মোশরাররফ ফল ভান্ডারের মালিক ও বিক্রেতা মোশাররফ জানান, (০৭ জুন, সোমবার) বাজারে গোপাল ভোগ ২০০০ থেকে ২২০০, খিরসাপাত আম ১৮০০ থেকে ২০০০, ল্যাংড়া ১৭০০ থেকে ২০০০ টাকায় বিক্রি হয়ছে। বাগান থেকে ক্রয় করলে মণ প্রতি ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা কমে ক্রয় করে নিয়ে আসেন। বাগান থেকে বাজারে নিয়ে আসার খরচ, শ্রমিক খরচ, আমের সাইজ বাছাই রং সহ বিভিন্ন খাতে খরচের কারণে দামের পার্থক্য তৈরি হয়।

বিভিন্ন সূত্রমতে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (১০ জুন) রাজশাহী নগরীর সাহেব বাজার এলাকায় গোপালভোগ ২৪০০ থেকে ২৬০০, খিরসাপাত ১৬০০ থেকে ১৮০০, ল্যাংড়া ১৪০০ থেকে ১৬০০, স্থানীয় গুটি জাতের আম ৮০০ থেকে ১০০০, লক্ষনভোগ ৭০০ থেকে ৮০০ এবং রানি পছন্দ ৮০০ থেকে ৯০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

খিরসাপাত, রানি পছন্দ ও গোপালভোগ মানভেদে ১ হাজার থেকে ১৬০০ টাকা মণ দরে পাইকারি বিক্রি হচ্ছে। খুচরা ৩০-৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। হিমসাগর ৬০ টাকা কেজি দরে খুচরা বিক্রি হচ্ছে। পাইকারি ৩০-৪০ টাকা কেজি দরে কিনছেন।

আম ব্যবসায়ী আব্দুর রহিম বলেন, উন্নত জাতের আম বলতে গোপালভোগ, খিরসাপাত ও ল্যাংড়া আছে। খেতেও ভালো, তাই দামও বেশি। কেনাবেচার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, দূরের ব্যবসায়ী কম আসছে। করোনাভাইরাসের কারণে অন্য জেলা ও বিভাগেরগুলোর কম ব্যবসায়ী আসছেন।

নুরুল ইসলাম নামের একজন আম ব্যবসায়ী জানান, লকডাউনের কারণে তারা বেশি রাত পর্যন্ত দোকান খোলা রাখতে পারছেন না। আর ক্রেতাও কম। তাই বেশি আম কিনলে নষ্ট হয়ে ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে। আর অনেকেই অনলাইনে আম কিনছেন। তাই আমের দোকানগুলোতে চাপ কম।

ব্যবসায়ী রাজিবুল ইসলাম জানান, তিনি ঢাকা থেকে আম কিনতে এসেছেন। তার ঢাকায় আমের আড়ৎ রয়েছে। যদিও রাজশাহীতে তার ব্যবসায়িক প্রতিনিধি আছে। তিনি আম কিনে পাঠান। তবে সপ্তাহে একবার আসেন তিনি। তিনি আরও জানান, আম বিক্রি খুব একটা ভালো না। এখন বেশির ভাগ মানুষ মোবাইল ফোন বা অনলাইনে অর্ডার করছেন। এর ফলে তাদের ব্যবসা কমেছে। তবে যে ক্রেতারা আম দেখে, খেয়ে কিনবেন তারা দোকানেই আসেন। আর রাজশাহীর আম অনেক সুস্বাদু।

রাজশাহী ফল গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. অলিম উদ্দিন জানান, এ অঞ্চলের মধ্যে রাজশাহীর আম সবসময় গুনগত মানে ভালো হয়ে থাকে। রাজশাহীর মাটি ও আবহাওয়ার কারণেই মানটা ভালো হয়। এ কারণে ক্রেতাদের মুখেও রাজশাহীর আমের সুনাম শোনা যায়। এবার আমে পোকাসহ রোগবালাইয়ের তেমন আক্রমণ নেই। গুনগত মানও ভালো। সুতরাং সার্বিক দিক বিবেচনায় এবার আমের উৎপাদনও বাড়তে পারে। তবে এবার আমের দাম কিছুটা কমই মনে হচ্ছে।

রাজশাহী আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক সিরাজুল ইসলাম জানান, এবার আমের উৎপাদন ভালো হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় গুনগত মানও ভালো। রাজশাহীর আম এখন দেশের সীমানা ছাড়িয়ে বিদেশেও রফতানি হচ্ছে। সেই সঙ্গে অনলাইনে কেনাবেচাও বেড়েছে। কিন্তু দাম কৃম থাকায় লক্ষ্যমাত্রা পূরণ নিয়ে কিছুটা শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মনিরুজ্জামান বলেন, “করোনা ও লকডাউনের ফলে আম বিক্রিতে কিছুটা প্রভাব পড়ছে। রাজশাহী থেকে আম পাঠাতে না পারলে ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সেই কথা মাথায় রেখে প্রধানমন্ত্রী ম্যাংগো স্পেশাল ট্রেন চালু করেছেন।”

50
Facebook 50
blogger sharing button blogger
buffer sharing button buffer
diaspora sharing button diaspora
digg sharing button digg
douban sharing button douban
email sharing button email
evernote sharing button evernote
flipboard sharing button flipboard
pocket sharing button getpocket
github sharing button github
gmail sharing button gmail
googlebookmarks sharing button googlebookmarks
hackernews sharing button hackernews
instapaper sharing button instapaper
line sharing button line
linkedin sharing button linkedin
livejournal sharing button livejournal
mailru sharing button mailru
medium sharing button medium
meneame sharing button meneame
messenger sharing button messenger
odnoklassniki sharing button odnoklassniki
pinterest sharing button pinterest
print sharing button print
qzone sharing button qzone
reddit sharing button reddit
refind sharing button refind
renren sharing button renren
skype sharing button skype
snapchat sharing button snapchat
surfingbird sharing button surfingbird
telegram sharing button telegram
tumblr sharing button tumblr
twitter sharing button twitter
vk sharing button vk
wechat sharing button wechat
weibo sharing button weibo
whatsapp sharing button whatsapp
wordpress sharing button wordpress
xing sharing button xing
yahoomail sharing button yahoomail