• বুধবার, ডিসেম্বর ০৮, ২০২১
  • সর্বশেষ আপডেট : ১২:৪৪ রাত

‘শিগগিরই দেশে আসছে পেপ্যাল’

  • প্রকাশিত ০২:২০ দুপুর অক্টোবর ২৫, ২০২১
পেপ্যাল
পেপ্যাল রয়টার্স

শনিবার গাজীপুরের চন্দ্রায় ওয়ালটনের একটি কারখানা পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান সাংবাদিকদের এ কথা জানান

অনেক জল্পনা-কল্পনা এবং গুঞ্জনের পর  এই বছরের শেষের দিকে (ডিসেম্বর নাগাদ) জনপ্রিয় অনলাইন পেমেন্ট সিস্টেম পেপ্যাল বাংলাদেশে চালু হতে যাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান শনিবার (২৩ অক্টোবর) গাজীপুরের চন্দ্রায় ওয়ালটনের একটি কারখানা পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

ওয়ালটনের এক কর্মকর্তা অবশ্য ঢাকা ট্রিবিউনকে জানান, পেপ্যাল এবং বাংলাদেশে এর কার্যক্রমের সঙ্গে ওয়ালটন কোনোভাবেই সম্পৃক্ত নয়।

তিনি আরও  জানান, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা তার কারখানা পরিদর্শন শেষ হওয়ার পর এক প্রতিবেদক কেবল তার কাছে জানতে চাইলেই তিনি এই ঘোষণাটি দেন।

পেপ্যাল যেন  বাংলাদেশে তার কার্যক্রম শুরু করতে পারে, সেজন্য সোনালী ব্যাংকের পক্ষ থেকে ২০১৬ সালে পেপালের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সইয়ের কথা বলা হয়েছিল।

এমনকি আইসিটি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও বাংলাদেশে একাধিকবার এই পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম চালু করার বিষয়ে গুঞ্জন ছিল।

২০১৭ সালে আইসিটি বিভাগ আয়োজিত একটি ইভেন্টেও দাবি করা হয়েছিল সেই বছরের ১৯ অক্টোবর বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে পেপ্যালের উদ্বোধন করা হবে।

তবে পেপ্যাল নিজেদের ওয়েবসাইটে বিষয়টি অস্বীকার করে বলেছিল, "বর্তমানে বাংলাদেশে পেপ্যাল চালু নেই এবং এ বিষয়ে আমাদের আপাতত ভবিষ্যত পরিকল্পনাও নেই৷ তবে ২০১৫ সালের নভেম্বর থেকে বাংলাদেশে থেকে জুম নামে একটি পরিষেবা চালু আছে। জুমের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী বাংলাদেশিরা দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যাংকে টাকা জমা দিয়ে প্রিয়জনদের কাছে টাকা পাঠাতে পারেন।

প্রকৃতপক্ষে আইসিটি মন্ত্রণালয় সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের সহযোগিতায় পেপ্যালের অধিকৃত জুম নামের ওই অনলাইন মানি ট্রান্সফার সিস্টেম চালু করে এবং ইতোমধ্যেই বাংলাদেশে তা কাজ করছে।

তবে পেপ্যাল একটি স্বকীয় ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা। আর জুম কেবলই ওয়েস্টার্ন ইউনিয়নের মতো ব্যাংকের মাধ্যমে একটি টাকা আদান-প্রদানের মাধ্যম।

পেপ্যালের অধিকৃত পরিষেবা হলেও বেশ ব্যয়বহুল বলে এবং পেপ্যালের মতো চাহিদা পূরণে সক্ষম না হওয়ায় জুম নিয়ে বাংলাদেশি ফ্রিল্যান্সারদের তেমন আগ্রহ ছিল না।

ব্রোহি খোন্দকার নামের এক  ফ্রিল্যান্সার বলেন,  “জুমকে পেপ্যালের বিকল্প হিসেবে আখ্যায়িত করা হলেও প্রকৃতপক্ষে জুম তা ছিল না। কারণ একজন ব্যবহারকারী তার পেপ্যাল ব্যালেন্স ব্যবহার করে জুমের লেনদেনের জন্য অর্থ প্রদান করতে পারেন না। ব্যবহারকারী কেবল পেপালের লগ-ইন শংসাপত্র ব্যবহার করতে পারেন এবং এর মাধ্যমে জুম লেনদেনের জন্য এর সঙ্গে যুক্ত ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, ক্রেডিট কিংবা ডেবিট কার্ড ব্যবহার করা যায়। এর অর্থ হচ্ছে জুম ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারকারীদের তথ্য ব্যবহার করবে যা আমার বিদেশি ক্লায়েন্টরা করতে চায় না।”

আরেক ফ্রিল্যান্সার বলেন, “আউটসোর্সিংয়ের কিছু কাজের জন্য অগ্রিম অর্থ প্রদানের প্রয়োজন হলেও জুম দিয়ে তা করা যায় না। এছাড়া, ক্লায়েন্ট এবং ফ্রিল্যান্সার উভয়ের জন্যই পেপালকে নিরাপদ বলে মনে করা হয় এবং এতে আমার ক্লায়েন্টদেরও জুমের জন্য আলাদা অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে না।”

আইসিটি বিভাগের মতে, বাংলাদেশে সাড়ে ৬ লাখ ফ্রিল্যান্সার রয়েছে, যার মধ্যে ৫ লাখ সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।

পাইওনিয়ার কর্তৃক প্রকাশিত ২০১৯ সালের গ্লোবাল গিগ-ইকোনমি ইনডেক্সেও বাংলাদেশ ৮ম স্থানে রয়েছে।

ফিভার, আপওয়ার্ক ইত্যাদি মার্কেটপ্লেস ব্যবহারের মাধ্যমে দেশের ফ্রিল্যান্সাররা প্রতি বছর ৮৫০ কোটি টাকা আয় করছেন। দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি ক্লায়েন্ট রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র থেকেই এবং তাদের বেশিরভাগই পেপ্যালকে অগ্রাধিকার দেয়।

পেপ্যালের মতে, ১৯৯৮ সালের ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে চালু হওয়ার পর থেকে ২০ কোটিরও বেশি ব্যক্তি এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠান তাদের সেবা নেয়। বিশ্বজুড়ে ২০০টিরও বেশি বাজারে পেপ্যালের পরিষেবা চালু রয়েছে, যার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা ১০০টিরও বেশি মুদ্রায় অর্থ গ্রহণ করতে, কমপক্ষে ৫৬টি মুদ্রায় অর্থ উত্তোলনের এবং ২৫টি মুদ্রায় পেপাল অ্যাকাউন্ট ব্যালেন্স রাখার অনুমতি দেয়।

প্রতিক্রিয়া-

বাজারের অভ্যন্তরীণ ব্যক্তিরা বিশ্বাস করেন বাংলাদেশে পেপ্যাল চালু হওয়ার মাধ্যমে ঝামেলাবিহীন অর্থ স্থানান্তরের পথ প্রশস্ত হবে, বিদেশি ভোক্তাদের কাছাকাছি পৌছানো যাবে এবং বিদেশি প্রতিষ্ঠান থেকে রেমিট্যান্স এবং আয়ের প্রবাহ সহজ হবে।

আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে এখন পর্যন্ত এটির প্রধান অন্তরায়। কর্তৃপক্ষ যদি পেপ্যাল এনে স্থানীয় আইটি ফ্রিল্যান্সারদের সাহায্য করতে চায় তাহলে দেশে পেপ্যালকে কাজ করার অনুমতি দেওয়ার ব্যাপারে থাকা বাধা অপসারণের জন্য তাদের কাজ চালিয়ে যাওয়া উচিত।

বেসিসের সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবির বলেন, “বাংলাদেশে পেপ্যালের অস্তিত্ব না থাকার অন্যতম প্রধান কারণ হলো আমাদের কাঠামো। এ সংক্রান্ত যা যা সমস্যা রয়েছে তা সমাধান করা প্রয়োজন। আমাদের আর্থিক নীতি বহির্মুখী লেনদেনের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করে, যা পেপ্যালের কাজ করার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।”

তিনি আরও বলেন, “তাছাড়া এটি কেবল আইটি ফ্রিল্যান্সারদের জীবনকে উন্নত করবে না, এটি উদ্যোক্তাদের ব্যবসা সম্প্রসারণ করতে সাহায্য করবে যাতে তারা সহজেই দেশে এবং বিদেশে কাজের জন্য অর্থ লেনদেন করতে পারেন।”

50
Facebook 50
blogger sharing button blogger
buffer sharing button buffer
diaspora sharing button diaspora
digg sharing button digg
douban sharing button douban
email sharing button email
evernote sharing button evernote
flipboard sharing button flipboard
pocket sharing button getpocket
github sharing button github
gmail sharing button gmail
googlebookmarks sharing button googlebookmarks
hackernews sharing button hackernews
instapaper sharing button instapaper
line sharing button line
linkedin sharing button linkedin
livejournal sharing button livejournal
mailru sharing button mailru
medium sharing button medium
meneame sharing button meneame
messenger sharing button messenger
odnoklassniki sharing button odnoklassniki
pinterest sharing button pinterest
print sharing button print
qzone sharing button qzone
reddit sharing button reddit
refind sharing button refind
renren sharing button renren
skype sharing button skype
snapchat sharing button snapchat
surfingbird sharing button surfingbird
telegram sharing button telegram
tumblr sharing button tumblr
twitter sharing button twitter
vk sharing button vk
wechat sharing button wechat
weibo sharing button weibo
whatsapp sharing button whatsapp
wordpress sharing button wordpress
xing sharing button xing
yahoomail sharing button yahoomail