Sunday, May 26, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

করোনাভাইরাস: ভোক্তাদের সুবিধার্থে সুপার শপগুলোর বিশেষ ব্যবস্থা

পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে স্বাস্থ্যবিধি অনুযায়ী মানসম্মত পণ্য কিনতে ভোক্তারা সুপারশপগুলোতে ভিড় করছেন

আপডেট : ১০ এপ্রিল ২০২০, ০৯:৫৭ পিএম

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে দেশব্যাপী চলমান লকডাউনের মধ্যে রাজধানী ও মহানগরীগুলোর সুপারশপের কর্মীরা নিজেদের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি উপেক্ষা করেই নিত্যপণ্য সরবরাহ করছেন।

অন্যদিকে, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে স্বাস্থ্যবিধি অনুযায়ী মানসম্মত পণ্য কিনতে ভোক্তারা সুপারশপগুলোতে ভিড় করছেন। 

যেহেতু দেশের ঐতিহ্যবাহী বাজারগুলোতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা সম্ভব নয়, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশও নিশ্চিত করার সাংগঠনিক সক্ষমতা নেই তাদের সেক্ষেত্রে অনেকেই সুপারশপমুখী হচ্ছেন।

রাজধানীর ধানমন্ডি ২৭ রোডের মীনা বাজারের আউটলেটে ফরিদা নাসরিন নামে এক ব্যাংকার বলেন, “আমি প্রচলিত বাজারের প্রতি আর আগ্রহী নই। কারণ সেখানে অনেক লোকজন একটি জায়গায় আবদ্ধ হন যেখানে স্বাস্থ্যকর পরিবেশ পাওয়া কষ্টকর।” 

তিনি আরও বলেন, “মানসম্মত পণ্য, পণ্যের ধরণ ও ছাড়ের কারণে আমি এখানেই স্বাচ্ছন্যবোধ করি।”

অবশ্য তারমতে, সুপার শপের ভ্যাট (মূল্য সংযোজন কর) মধ্যবিত্তদের জন্য অতিরিক্ত বোঝা।

তিনি জানান, ভ্যাটের কারণেই তিনি সবসময় সুপারশপে যেতে পারেন না।

সুপার শপের একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিভিন্ন আউটলেটে তাদের ক্রেতার সংখ্যা বেড়েছে।

ধানমন্ডির অপর একটি সুপার শপ নান্দনের বিক্রয় কর্মকর্তা জানান, বেশিরভাগ মানুষ যারা করোনাভাইরাসের বিষয় সম্পর্কে সচেতন তারা প্রচলিত বাজারের চেয়ে সুপার শপ আসাই পছন্দ করছে।

রাজধানীর বিভিন্ন সুপার শপগুলোতে সরকারের সামাজিক দূরত্ব নির্দেশিকা অনুসারে ক্রেতাদের সার্ভিস দিতে দেখা গেছে। একইসঙ্গে ক্রেতাদের স্বাস্থ্যবিধি ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হ্যান্ড স্যানিটাইজার এবং স্প্রে সুপার শপগুলোই সরবরাহ করছে।

গত বুধবার (০৭ এপ্রিল) একটি সুপার শপগুলো ঘুরে দেখা গেছে, সেগুলোতে পর্যাপ্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করা হচ্ছে এবং নির্ধারিত দামেই পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে।

মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান নামে মিরপুরের মীনা বাজারের এক গ্রাহক ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “প্রয়োজন ও সংকটের এই সময়ে আমরা পর্যাপ্ত সুরক্ষা, স্বাস্থ্যকর ব্যবস্থাপনার এবং সামাজিক দূরত্বের দিকনির্দেশনা বজায় রেখে কমমূল্যেই প্রয়োজনীয় পণ্য ক্রয় করতে পারছি।”

তিনি বলেন, “মীনা বাজারে স্বাস্থ্য সুরক্ষার ব্যবস্থাপনার বিষয়ে আমি খু্বই সন্তুষ্ট।”

তিনি খাদ্যপণ্যসহ প্রয়োজনীয় সকল পণ্যের সরবরাহের একটি শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান যেন, গ্রাহকেরা একটি আউটলেট থেকেই প্রয়োজনীয় সব পণ্য কিনতে পারেন।

এ বিষয়ে মীনা বাজারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) শাহীন খান বলেন, “বর্তমান পরিস্থিতিতে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকানোর প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করা। আমাদের কর্মী ও গ্রাহকদের সুরক্ষায় আমরা সবোর্চ্চ ব্যবস্থা নিয়েছি।”

তিনি জানান,  মীনা বাজার কর্তৃপক্ষ তার কর্মীদের নিরাপত্তা সরঞ্জাম সরবরাহ করেছে এবং ঘন ঘন মেঝে এবং পণ্যের তাকগুলো জীবাণুনাশক দিয়ে পরিষ্কার করা হচ্ছে। সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে মীনা বাজার একসাথে বেশি গ্রাহককে অনুমোদন করছে না।

সমস্ত সুপার শপগুলোর স্বাস্থ্যবিধি এবং সুরক্ষার বিষয় টেনে তিনি আরও বলেন, “এ জন্যই গ্রাহক সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে।” 

এ বিষয়ের সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন স্বপ্নের চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার সাব্বির হাসান নাসির। তিনি বলেন, “করোনাভাইরাসজনিত লকডাউনের কারণে অনেক সাধারণ মানুষ আমাদের আউটলেটে আসছে। এটা মূলত স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্যই। তবে তবে ভ্যাট সাধারণের জন্য সত্যই বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।”

তিনি বলেন, সরকার যদি জনগণের স্বার্থে ভ্যাট প্রত্যাহার করে, তবে নিম্ন মধ্য আয়ের মানুষের পক্ষে এটি খুব সহায়ক এবং কম ব্যয়বহুল হবে।

বাংলাদেশ সুপার মার্কেট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের ফিনান্স ডিরেক্টর কাজী রুহুল আমিন ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেনি, সুপার শপগুলো সুরক্ষা ও সামাজিক দূরত্ব সম্পর্কিত বিষয়ে আপস করে না। স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আমরা সার্কেল তৈরি করে দিয়েছি যাতে সামাজিক দূরত্ব রক্ষা করা যায়। 

শাকসবজি, মাছ ও অন্যান্য কৃষিজাত পণ্য অবরুদ্ধ এলাকা থেকে যেন রাজধানীতে আসতে পারে তার ব্যবস্থা করতে সরকারের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি। 

বাংলাদেশ সুপার মার্কেট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন তথ্য অনুসারে, দেশে সুপার শপের প্রায় ৩০০ আউটলেট রয়েছে এবং তাদের বার্ষিক লেনদেনের পরিমাণ প্রায় ৩০০০ কোটি টাকা।

অ্যাসোসিয়েশন ইতোমধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) বিক্রয়ের উপর ৫% ভ্যাট স্থগিত করার আহ্বান জানিয়েছে কারণ সমিতির নেতারা মনে করেন এই ব্যবস্থা গ্রাহকদের সঙ্কটের সময়কালে তাদের ব্যয় কমাতে সহায়তা করবে।

বর্তমানে সমস্ত কেনাকাটায় গ্রাহককে ৫% ভ্যাট দিতে হচ্ছে। 

তবে এনবিআর সদস্য (ভ্যাট) মো. জামাল হোসেন বলেন, “এখনই বাণিজ্যক ভ্যাট হ্রাস বা স্থগিত করার কোনো পরিকল্পনা নেই।”

তিনি বলেন, সরকারের মোট ভ্যাট রাজস্বের মাত্র ৫% আসে সুপার শপসহ বাণিজ্যিক ভ্যাট থেকে।

তিনি জানান, তারা সুপার শপ থেকে আদায় করা ভ্যাটের আলাদা হিসাব রাখেন না। তবে এর পরিমাণ বাৎসরিক ২০০ কোটি টাকার বেশি হবে না। 

About

Popular Links