Saturday, May 18, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

আড়ং’য়ে কেনাকাটায় করতে হবে রেজিস্ট্রেশন, আউটলেটে থাকা যাবে ১ ঘণ্টা

থাকছে না পোশাক ট্রায়ালের কোনো সুযোগও

আপডেট : ০৯ মে ২০২০, ০৫:৪১ পিএম

ঈদকে সামনে রেখে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী আড়ং সীমিত পরিসরে তাদের আউটলেটগুলো খুলবে।  তবে ক্রেতাদের আউটলেটে গিয়ে কেনাকাটা করতে আগে থেকে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে।   এছাড়া কেনাকাটার জন্য একজন ক্রেতা সর্বোচ্চ এক ঘণ্টা সময় পাবেন।  পাশাপাশি থাকছে না পোশাক ট্রায়ালের কোনো সুযোগ। 

শনিবার (৯ মে) সকালে এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ব্র্যাক সোশ্যাল এন্টারপ্রাইজেস’এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক তামারা আবেদ।  পাশাপাশি আড়ংয়ের ওয়েবসাইট ও ভেরিফাইড ফেসবুক পেজেও এ সংক্রান্ত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। 

তামারা আবেদ বলেন,  “আমরা অনলাইন বুকিং সিস্টেম চালু করেছি। যতজন ক্রেতাকে প্রবেশের সুযোগ দিতে পারবো ততটুকু স্লট কিন্তু আমরা অনলাইনে বরাদ্দ রেখেছি। শপিংয়ে আসার আগে অনলাইনে গিয়ে আউটলেট সিলেক্ট করে টাইম স্লট বুক করতে হবে। বুকিং কনফারমেশন হিসেবে মোবাইলে এসএমএস আসবে, যা আড়ং আউটলেটে প্রবেশের সময় দেখাতে হবে। তাছাড়া প্রবেশের সময় শরীরের তাপমাত্রার মাপার ব্যবস্থা তো থাকছেই।  এক একটি আউটলেটের বর্গফুট অনুযায়ী সাইজ তিন ফুট মেইনটেইন করে এক একটি আউটলেটে কত বর্গফুট জায়গা আছে তা হিসাব করে, কতজন লোককে ধারণ করা যাবে সেটা নির্ধারণ করেছি। সেখান থেকে বাদ দিয়েছি আমাদের স্টাফ কতজন থাকবে সেই সংখ্যা।সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা এই সময়টিকে আমরা ঘণ্টা হিসেবে ভাগ করেছি। আমাদের হাতে প্রতিদিন আছে ছয়টি স্লট। প্রত্যেক ক্রেতাকে আমরা এক ঘণ্টা সময় দিচ্ছি।” 

“এছাড়া বিভিন্ন সেকশনে আমরা নির্দিষ্ট দূরত্বে লাইনে দাড়িয়ে সামগ্রী নেওয়ার ব্যবস্থা রেখেছি। যদি কোনও সেকশনে লোক বেশি হয়ে যায় সেক্ষেত্রে সেখান থেকে দু’জন করে বের হওয়ার পর আরও দু’জন করে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হবে। আউটলেটের ভেতরে নির্দিষ্ট সেকশনে যাতে অতিরিক্ত লোক সমাগম না হয় আমরা সেই ব্যবস্থাও নিয়েছি। আপাতত ট্রায়ালরুম বন্ধ থাকবে। ক্রেতারা আপাতত পরিবর্তনের সুযোগ পাবেন না। পরিস্থিতি একেবারের নরমাল হয়ে গেলে পরিবর্তনের  সুযোগ পাবেন তারা। তখন থেকে ৩০ দিন সময় পাবেন এখনকার কেনা পণ্য পরিবর্তন করার।”

তামারা আরও বলেন, “আমরা অনেক চিন্তা-ভাবনা করেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কারণ আড়ংয়ের সঙ্গে প্রায় ৬৫ হাজার কারুশিল্পী জড়িত আছেন। তাদের জীবিকা আমাদের ওপর নির্ভরশীল। স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিয়ে আমরা সবাই অবগত। আপনারা জানেন আড়ং কোনও ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান নয়, এটি ব্র্যাকের একটি প্রতিষ্ঠান। এটার মুনাফা সম্পূর্ণটাই আড়ংয়ের বিনিয়োগ এবং সামাজিক কল্যাণে ব্যবহৃত হয়। সুতরাং এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে এখানে কোনও ব্যক্তির লাভবান হওয়ার কিছুই নেই।”

তিনি বলে, “যেসব এলাকায় শপিং মলের ভেতর আউটলেট আছে সেগুলো খোলা হবে না। যেসব আউটলেট সম্পূর্ণ আমাদের নিজেদের নিয়ন্ত্রণে আছে সেগুলো খুলতেই আমরা সাচ্ছন্দ্যবোধ করছি। স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিষয়ে যেসব নির্দেশনা আছে সেগুলো আমরা মাথায় রেখেই ব্যবস্থা করেছি। আমাদের আউটলেটগুলো প্রতি ঘণ্টায় জীবাণুমুক্ত করা, যেগুলো মানুষ ধরছে সেগুলো স্যানিটাইজ করা। এছাড়া আমাদের সব স্টাফের যাওয়া-আসার জন্য নিজস্ব ট্রান্সপোর্টের ব্যবস্থা করেছি। আমরা শুধু ৩০ শতাংশ স্টাফ ব্যবহার করছি।”

এক প্রশ্নের জবাবে তামারা বলেন, “আমাদের এখানে যারা প্রবেশ করবেন তারা তো অবশ্যই মাস্ক পরে, হ্যান্ড স্যানিটাইজ করে প্রবেশ করবেন। আর আমাদের মালপত্র তো এখনও কেউ ধরেনি। হ্যান্ড স্যানিটাইজ করে ঢুকে হয়তো কিছু প্রোডাক্ট নাড়াচাড়া করবেন, পণ্য কিনবেন এবং বের হয়ে যাবেন। আমি আশা করবো তারা যেন বাসায় গিয়ে আবার হাত ধুয়ে ফেলেন। প্রোডাক্টের গায়ে কিছুটা রিস্ক তো থেকেই যায়। আমার পরামর্শ থাকবে বাসায় ব্যাগ নিয়ে যাওয়ার পর দুই তিনদিন সেটা ঘরের এক কোনায় ফেলে রাখুন। কারণ আমরা এখনও কোনও স্বীকৃত রিপোর্ট পাইনি যে করোনাভাইরাস কোনও সারফেসে কতক্ষণ থাকতে পারে।”

About

Popular Links