Thursday, May 30, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

হলুদ ‘স্বপ্নে’ ছেয়ে গেছে দিগন্ত

উচ্চ ফলনশীল আগাম বারি-১৪ জাতের সরিষার চাষ করায় কৃষকের স্বপ্ন সত্যি হয়ে ধরা দেবে বলে মনে করছে কৃষি বিভাগ

আপডেট : ০৮ জানুয়ারি ২০২১, ০৫:৪৬ পিএম

নীলফামারীর দিগন্তজোড়ো ফসলের মাঠ ছেয়ে গেছে হলুদ সরিষা ফুলে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় সরিষার বাম্পার ফলনের মাধ্যমে দিন বদলের স্বপ্ন দেখছেন কৃষকেরা। উচ্চ ফলনশীল আগাম বারি-১৪ জাতের সরিষার চাষ করায় কৃষকের স্বপ্ন সত্যি হয়ে ধরা দেবে বলে মনে করছে কৃষি বিভাগ। 

জেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, আমন ধান ও বোরো চাষের মাঝামাঝি সময়ে সরিষার আবাদ করে থাকেন কৃষকরা। এছাড়াও জমি থেকে সরিষা ওঠার পর ওই জমিতে বোরোর আবাদও করা যায়। এতে কৃষি জমির সর্বাধিক ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব।

কৃষি বিভাগ জানায়, এ বছর অধিক (উচ্চ) ফলনশীল আগাম জাতের সরিষার চাষ করছেন চাষিরা। বারি-১৪ জাতের সরষের চাষে কৃষক মাত্র ৭৫ থেকে ৮০ দিনের মধ্যে ফসল ঘরে তুলতে পারেন। প্রতি হেক্টরে ফলন হয় দেড় হাজার কেজি (প্রায় সাড়ে ৩৭ মণ)। তবে স্থানীয় জাতে ফলন কম হয়। এছাড়াও  উৎপাদনের সময়ও বেশি লাগে। এ জন্য চাষ কমিয়ে দিয়েছেন অনেকেই।

এরপর বাংলাদেশ কৃষি গবেষনা ইনস্টিটিউট উচ্চ ফলনশীল জাতের সরষে বীজ উদ্ভাবন করায় বর্তমানে জেলায় চাষের পরিমাণ বেড়েছে। এরমধ্যে বারি-১৪, বারি-৯, বিনা-৯/১০, সরিষা-১৫, সোনালী সরিষা (এসএস-৭৫) ও স্থানীয় জাত টরি-৭ উল্লেখযোগ্য। মাঠ পর্যায়ে এইসব জাত চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন কৃষক।

জেলা কৃষি বিভাগ থেকে জানা যায়, ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে (মৌসুমে) লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪ হাজার ৯৫৫ হেক্টর। আর ২০১৯-২০ অর্থ বছরে ৫ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে সরষে চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। গত মৌসুমের চেয়ে এবার টার্গেট ছিল ৬৪৫ হেক্টর বেশি। এরমধ্যে সদরে দুই হাজার ৫৫৯ হেক্টর, সৈয়দপুর ৩৫১, ডোমার ৪২২, ডিমলা ৮৬৩, জলঢাকা ৮৩৩ ও কিশোগঞ্জ উপজেলায় ৫৭২ হেক্টর। এতে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭ হাজার ৮৪০ মেট্রিকটন।

নীলফামারী সদরের রামনগর ইউনিয়নের বাহালী পাড়া গ্রামের কৃষক আশরাফ আলী জানান, এই ফসলের আবাদে খরচ কম, লাভ বেশি। এতে সেচ দিলেও চলে না দিলেও ফসল কমে না। সময়ও কম লাগে, শ্রম কম দিতে হয়। সব মিলিয়ে এক বিঘা জমিতে সরষে আবাদে খরচ হয় দুই হাজার ৩০০ থেকে দুই হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত। 

তিনি বলেন, এক বিঘা জমিতে ছয় থেকে সাত মণ সরিষা পাওয়া যায়। প্রতিমণ এক হাজার ৮০০ দরে সাত মণের দাম দাঁড়ায় ১২ হাজার ৬০০ টাকা। আর বিঘায় খরচ বাদে লাভ হয় ১০ হাজার ১০০ টাকা।

একই গ্রামের কৃষক মাহাবুল ইসলাম জানান, এক বিঘা জমিতে খরচ বাদে ৯ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত লাভ হয়। এছাড়াও বাড়তি সুবিধা হলো আমন ও বোরো চাষের মাঝে সরষে লাগালে জমির উর্বরতা বৃদ্ধি পায়। বোরো ধানের ফলন বেশি হয়। সরষের ডাটা জ্বালানি কাজেও ব্যবহার হয়ে থাকে।

সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. কামরুল হাসান জানান, সরিষার চাষের পাশাপাশি মৌও চাষও করা যায়। এতে বাড়তি মুনাফা আসে। সদরে এবার ২ হাজার ৫৫৯ হেক্টর জমিতে জমিতে সরষে চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। চলতি মৌসুমে তা অতিক্রম করে ২ হাজার ৫৬০ হেক্টর জমিতে সরিষার চাষ হয়েছে।

নীলফামারী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও খামারবাড়ির উপপরিচালক মো. ওবায়দুর রহমান মন্ডল বলেন, “সরিষা মূলত একটি মসলা জাতীয় ফসল। অল্প সময়ের মধ্যে অধিক ফলন পেতে কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের নানা পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে। আশা করি, কোনো প্রকার প্রাকৃতিক বিপর্য না ঘটলে কৃষি বিভাগের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে জেলায় সরিষার বাম্পার ফলন হবে।”

About

Popular Links