Tuesday, May 28, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

কাদায় বিনা চাষে রসুন!

প্রচলিত পদ্ধতিতে প্রতি বিঘায় ২০ মণ রসুন ফলন হয়। অন্যদিকে, বিনা চাষে প্রতি বিঘায় ৩০ থেকে ৪০ মণ রসুন উৎপাদন সম্ভব

আপডেট : ২৬ জানুয়ারি ২০২১, ০৭:১৪ পিএম

রাজশাহীর দুর্গাপুরে বিনা চাষে রসুন আবাদ কৃষকদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। প্রতিবছরই বাড়ছে বিনাচাষে রসুনের আবাদ। কৃষি অফিসও তাদেরকে দিচ্ছেন বিনা চাষে রসুন উৎপাদনে নানান রকম পরামর্শ।

২০১৯ সালে দুর্গাপুর উপজেলার দেবীপুর গ্রামের সজিব উদ্দিন ৪০ শতাংশ জমিতে বিনা চাষে রসুন আবাদ শুরু করেন। তার এ অভিনব চাষাবাদ দেখে এলাকার অনেক কৃষক তার পরামর্শে বিনা চাষে রসুন উৎপাদনে ঝুঁকে পড়ছে। চলতি মৌসুমে ওই এলাকার প্রায় ২৫ থেকে ৩০ জন কৃষক বিনা চাষে রসুনের আবাদ করেন। তাদেরও বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। এমনকি এ অভিনব পদ্ধতিকে কৃষি বিভাগ গুরুত্ব সহকারে পরার্মশ দিয়ে যাচ্ছেন বলেও কৃষকরা জানান।

উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর বলছে, দুর্গাপুরে হঠাৎ করেই বিনা চাষে রসুনের আবাদ বৃদ্ধি পেয়েছে। শুধু তাই নয় এ উপজেলায় রসুন চাষও বেড়ে চলেছে। এমনকি বিগত দিনের চেয়ে বিনা চাষে রসুনের আবাদেও বাম্পার ফলন হচ্ছে। এতে যেমন কৃষক লাভবান হচ্ছে তেমনি কৃষি বিভাগেরও উন্নয়ন ঘটছে।

২০১৮-১৯ অর্থ বছরে এ উপজেলাতে মোট ৩শত ৫০ হেক্টর জমিতে রসুন চাষ হয়েছিল। এর মধ্যে ২শত ৫০ হেক্টর জমিতে চাষ করে এবং বিনা চাষে ১শত হেক্টর জমিতে রসুনের আবাদ করা হয়। ২০১৯-২০ অর্থ বছরে উপজেলার রসুন চাষে উল্টো চিত্র দেখা দেয়। চলতি বছরে বিনা চাষে ২শত ৫০ হেক্টর ও চাষে ৯০ হেক্টর জমিতে রসুনের আবাদ করা হয়।

তবে চলতি বছরের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের সময় রোপণের মেয়াদ আরো দুই সপ্তাহ রয়েছে। ফলে আরো ১ থেকে ২শত হেক্টর জমিতে রসুন চাষ হবে। এর মধ্যে বিনা চাষে বেশি জমি রসুন চাষের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে বলে জানা যায়।

কৃষক সজিব উদ্দিন জানান, ২০১৮ সালে পাবনায় এক আত্মীয়ের বিনা চাষে রসুন উৎপাদন দেখে তার মধ্যে আগ্রহ জাগে। তিনি বর্ষা মৌসুম শেষ হওয়ার পরই জমিতে পানি সরে যাওয়ার পর কাদার মধ্যে ৪০ শতাংশ জমিতে বিনা চাষে রসুন বপণ করেন। ওই রসুন ক্ষেতে খড় বিছিয়ে দেন। দুইটি সেচ দেয়ার ফলে ওই খড় পচে মাটিতে মিশে যায়। এতে সার ও কীটনাশক কম লাগে। তার এ পদ্ধতি চাষ করা দেখে অনেক কৃষক নানা কথা বললেও ওই জমিতে উৎপাদন করে প্রায় ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা বিক্রি করেন। এ বছর ৫০ শতাংশ জমিতে রসুন চাষ করেছেন তিনি।

কৃষকরা জানান এ পদ্ধতিতে রসুনের চাষ করলে জমিতে চাষ দেয়া ও কোপানো লাগে না। সার ও কীটনাশক কম লাগে। শুধু মাত্র দুই থেকে তিনটি সেচ দিলেই হয়। কাদায় লাগানো রসুনগাছ ও রসুন উভয়ই ক্ষেতের চেয়ে বড় হয়। ফলে ১০-১৫টি রসুনেই এক কেজি হয়। 

তার এ পদ্ধতি দেখে অন্যান্য কৃষকরা তার সহযোগিতা চাইলে তিনি তাদের রসুন সরবরাহ করা সহ নানা ধরনের পরামর্শ দেন। তার এ পরামর্শ নিয়ে এ বছর সাইদুর রহমান, মাহাবুর রহমান, সোহরাব আলী, একরাম আলী সোহেল রানা, সাইফুল ইসলামসহ অনেকে বিনা চাষে রসুনের আবাদ করেছেন। এখন অনেক কৃষকই এ পদ্ধতি চাষ করতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।

কৃষকেরা আরো জানান, এ পদ্ধতির চাষাবাদে চাষের পদ্ধতির চেয়ে দ্বিগুণ রসুন উৎপাদন হবে। চাষ করে রসুন আবাদ করলে প্রতি বিঘায় ২০ মণ রসুন ফলন হয়, আর বিনা চাষে ৩০ থেকে ৪০ মণ রসুনের ফলন হয়।

রাজশাহীর পবা উপজেলার নওহাটা পৌরসভার পূর্ব পুঠিয়া পাড়ার মামুন জানান, "নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে এক বিঘা জমিতে রসুন চাষ করেছি। ঘন কুয়াশা হলেও রসুনের তেমন কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি এবং রোগ বালাইও কম। তাই আশা করছি এই বছর রসুনে বেশি লাভ হবে।"

নওহাটার শ্রীপুর এলাকার আরেক জন রসুন চাষ সম্রাট জানান, "ডিসেম্বরের শুরুর দিকে আমি দুই বিঘা জমিতে রসুন চাষ করেছি আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আশা করছি রসুনের এইবার ফলন বেশি হবে।"

দুর্গাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মশিউর রহমান জানান, আবহাওয়ার কারণে বর্ষার পানি সরতে ও চাষ করতে রসুন আবাদে এক-দেড়মাস পিছিয়ে যেতে হয়। এ কারণে সামান্য কাদার উপর রসুন লাগালে সময় এগিয়ে আসে।

এতে উৎপাদন খরচ কম হয় ও ফলন বাম্পার হয়। ফলে কৃষকরা লাভবান হচ্ছে। এ পদ্ধতির চাষাবাদে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। উপজেলায় চলতি বছর ৩শত ৪ হেক্টর জমিতে রসুন চাষ হয়েছে। এর মধ্যে ২শত ৫০ হেক্টর জমিতে বিনা চাষে এবং ৯০ হেক্টর জমিতে চাষে রসুনের আবাদ হয়েছে। 

তিনি আরো বলেন, প্রতি হেক্টর জমিতে ৮ থেকে ৯ মেট্রিক টন রসুন ফলন হবে। আগামীতে রসুন আবাদ ব্যাপকভাবে বেড়ে যাবে।

দুর্গাপুর উপজেলার কৃষকদের দাবি, রসুনের বাজারমূল্য বর্তমানে ৪,৫০০ থেকে ৫,০০০ টাকা মণ, সরকার যদি বিদেশ থেকে রসুন আমদানি না করে তবে কৃষক আরো লাভবান হবে।

About

Popular Links