Wednesday, May 29, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ গড়বে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগর

আগামী ১৫ বছরের মধ্যে  বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগর দেড় মিলিয়ন মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে এবং এখান থেকে ২৫ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি হবে

আপডেট : ২৬ জুন ২০২১, ০৮:৩৬ পিএম

বিপুল পরিমাণে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগর (বিএসএমএসএন) হবে একটি অত্যাধুনিক শিল্প নগরী যা বাংলাদেশের ভবিষ্যত নির্মাণ করবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) পরামর্শক মো. আবদুল কাদের খান। 

সম্প্রতি বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা বাসস এর সাথে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেছেন। 

আবদুল কাদের খান বলেন, “মহামারী করোনাভাইরাস চলাকালেও বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতিগুলোর একটি।”

তিনি বলেন, “বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগরের অবস্থান ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে হওয়ায় এবং সামুদ্রিক অর্থনৈতিক অঞ্চল হওয়ায় এটি বেজা’কে বড় পরিসরে স্বপ্ন দেখতে অনুপ্রাণিত করছে। ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক সম্ভাবনা এবং শিল্পায়নের ফলে গ্রামের মানুষ শহরাঞ্চলের দিকে আসাটা এখন দেশের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। ফলে শহর অঞ্চলগুলোতে জনসংখ্যার চাপ বাড়ছে। বর্তমানে প্রতি বর্গকিলোমিটারে ৪৭ হাজার ৪০০ জন মানুষ বসবাস করছে। পৃথিবীর সর্বাধিক ঘনবসতিপূর্ণ শহর হয়ে উঠেছে ঢাকা।”

তিনি বলেন, “২০৩৫ সালের মধ্যে প্রায় ১১ কোটি অর্থাৎ বাংলাদেশের জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক লোক শহর অঞ্চলে বসবাস করবে বলে অনুমান করা যায়। বর্তমানে, বাংলাদেশের ৬০ শতাংশের বেশি জনগোষ্ঠী মূলত চারটি মহানগর –ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা এবং রাজশাহীমুখী।”

নগরায়ণের এই গতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “শহরে জনসংখ্যা বাড়লে কর্মসংস্থান ও অন্যান্য সার্বজনীন পরিষেবার পাশাপাশি আবাসন, পরিবহন, জ্বালানি ও অন্যান্য অবকাঠামোগত ক্ষেত্রে ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণে বাংলাদেশ চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে পারে। নগরায়নের সমস্যাগুলো মোকাবেলার জন্য একটি অত্যাধুনিক শিল্পনগর হতে পারে সঠিক সমাধান। যা অর্থনীতির প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করবে এবং উন্নয়নের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।এটি জীবনমান উন্নয়নের অন্যান্য উপায় ব্যবহার করে অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং পরিবেশগত দিকগুলোর সাথে মিলে বর্তমান এবং ভবিষ্যত প্রজন্মের চাহিদা পূরণ করবে”

অত্যাধুনিক শিল্পনগরগুলোতে ইন্টারনেট অফ থিংস (আইওটি) প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে শহরের অবকাঠামো পর্যবেক্ষণ যেমন, ট্র্যাফিক, পার্কিং, পানি এমনকি বায়ু দূষণ ইত্যাদি সবকিছু পর্যবেক্ষণ করা হবে বলেও উল্লেখ করেন মো. আবদুল কাদের খান।

তিনি বলেন, “বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগর মিরসরাই, চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুণ্ড এবং ফেনী জেলার সোনাগাজী উপজেলা সংলগ্ন এলাকায় ৩৩ হাজার একর জমিতে গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এই শহরটি নোয়াখালী জেলার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা এবং চট্টগ্রাম জেলার সন্দ্বীপ উপজেলা পর্যন্ত প্রসারিত করা  হতে পারে। আমরা শুধু অর্থনৈতিক অঞ্চলের চিন্তা না করে এই বিশাল প্রকল্প অঞ্চলটিকে এমন এক পদ্ধতি ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছি যা বাংলাদেশের সমগ্র অর্থনীতিকে পরিবর্তন করবে। পাশাপাশি ব্যবসা এবং নাগরিকদের সামগ্রিক জীবনমান উন্নতি করবে। এই শিল্পনগরটি বাংলাদেশের তৃতীয় বৃহত্তম এবং প্রথম পরিকল্পিত অত্যাধুনিক শহর হবে।”

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগরকে স্বয়ংসম্পূর্ণ শিল্পনগরীতে রূপান্তর করতে আবদুল কাদের খান বলেন, “আমরা একটি অত্যাধুনিক নগর নির্মাণের জন্য একটি বৃহত্তর মাস্টার প্ল্যান তৈরি করেছি। যেখানে সমুদ্রবন্দর, রেল ও সড়ক যোগাযোগ, বিদ্যুৎকেন্দ্র, মেরিন ড্রাইভ, ট্যুরিজম পার্ক, হাসপাতাল, স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয় এবং আবাসিক অঞ্চলের মতো সামাজিক অবকাঠামো থাকবে।”

তিনি বলেন, “দেশের প্রথম পরিকল্পিত এই শহর বিশ্বমানের ব্যবসা ও শিল্প কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার পথ প্রশস্ত করবে। আগামী ১৫ বছরের মধ্যে  বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগর দেড় মিলিয়ন মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে এবং এখান থেকে ২৫ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি হবে।”

দেশিয় ও রপ্তানির বাজারের জন্য উৎপাদন শুরু করতে শহরটি বিশ্বজুড়ে শীর্ষস্থানীয় সংস্থাগুলিকে আকৃষ্ট করতে শুরু করেছে ।

“জায়ান্ট হিসেবে বিবেচিত স্থানীয় সংস্থাগুলিও এ শহরে তাদের কার্যক্রম শুরু করতে কারখানা স্থাপন শুরু করেছে। আশা করা যায় যে বিভিন্ন ধরণের শিল্প, যেমন পোশাক এবং তার সহায়ক শিল্প, কৃষি পণ্য এবং কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ পণ্য, ইন্টিগ্রেটেড টেক্সটাইল, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, শিপবিল্ডিং, মোটরবাইক, খাদ্য ও পানীয়, পেইন্ট এবং রাসায়নিক, কাগজ, প্লাস্টিক, হালকা ইঞ্জিনিয়ারিং (অটো পার্টস এবং সাইকেল), ওষুধ, বিদ্যুৎ এবং সোলার পার্ক শিল্প নগরীতে স্থাপন করা হবে।”

“আমরা ইতোমধ্যে ১৫২ টি ব্যবসায়িক ঘরের মধ্যে প্রায় ৮,০০০ একর জমি বরাদ্দ দিয়েছি। এতে প্রস্তাবিত বিনিয়োগ প্রায় ২২.৫ বিলিয়ন ডলার।”

আবদুল কাদের খান বলেন, “বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগর প্রকৃতি, শক্তি ব্যবস্থা, এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সাথে মিলে দেশের প্রথম “সবুজ” বা ইকো-শিল্প নগরী হতে চলেছে।”

About

Popular Links