Monday, May 20, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

দেশে চালের ‘কম’ দামই সাধারণ মানুষের কাছে বেশি

বাংলাদেশ ঐতিহ্যগতভাবে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম ধান উৎপাদক, অথচ সম্প্রতি দেশটি চালের একটি বড় আমদানিকারক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে

আপডেট : ০৮ মার্চ ২০২২, ০৫:৩৪ পিএম

ভাত শুধু বাংলাদেশের প্রধান খাদ্য নয়, বরং দেশের সামগ্রিক জীবন-সংস্কৃতি, রাজনীতি ও অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র। উৎপাদক, ভোক্তা এবং নীতিনির্ধারকসহ- সকলের জন্যই চালে দাম অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি বিষয়। চালের মূল্যবৃদ্ধি সরাসরি সেই সব দরিদ্র ভোক্তাদের প্রভাবিত করে যারা চাল থেকে ক্যালোরির প্রধান উৎস পান। উৎপাদকদের জন্যও ধান চাষ বার্ষিক আয়ের একটি বড় অংশ।

বাংলাদেশে প্রতি বছরই চালের চাহিদা বাড়ছে। ২০১৬ সালে দেশে ৩৬.৩ মিলিয়ন টন চালের চাহিদা ছিল। যেই সংখ্যা আগামী কয়েক বছরের মধ্যে ৩৯.৭ মিলিয়ন টনে পৌঁছবে বলে মর্ডর ইন্টেলিজেন্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

সরকারি হস্তক্ষেপ, স্থিতিশীল উৎপাদন এবং প্রায় অভ্যন্তরীণ বাজার নিয়ন্ত্রণ করা সত্ত্বেও ভোক্তা ও কৃষকরা ধানের ঊর্ধ্বমুখী দামে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। বছরের পর বছর ধরে, ভোক্তারা বেশি দাম দিচ্ছেন, কিন্তু কৃষকদের ন্যায্য মূল্য দেওয়া হচ্ছে না অথচ ভর্তুকিযুক্ত চালের জন্য মোবাইল ট্রাক এবং দোকানের পিছনে মানুষের সারি দীর্ঘ হচ্ছে।

খুচরা বিক্রেতারা বলেছেন, পাইকারি বাজারে মূল্য বেড়েছে। পাইকারি বিক্রেতারা এর জন্য সরবরাহের সংকটকে দায়ী করেছেন। বাজারের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, বড় মিলাররা সরবরাহ শৃঙ্খলে সবচেয়ে প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করে। তারা সাময়িকভাবে উৎপাদন প্রক্রিয়াকে ধীর করে দিতে পারে, যার ফলে দাম বেড়ে যায়।

এছাড়াও, প্রাকৃতিক বিপর্যয় এবং অপ্রত্যাশিত মূল্যের ধাক্কা প্রায়ই স্বল্প সময়ের জন্য বাজারকে অস্থিতিশীল করার জন্য দায়ী। এছাড়া, একেক মৌসুমেও নিয়মিত দামের পরিবর্তন ঘটে।

বাংলাদেশ ঐতিহ্যগতভাবে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম ধান উৎপাদক, অথচ সম্প্রতি দেশটি চালের একটি বড় আমদানিকারক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। যার কারণ হিসেবে মজুদ কমে যাওয়া এবং বন্যার কারণে ফসল নষ্ট হয়ে স্থানীয় মূল্য বেড়ে যাওয়াকে মনে করা হচ্ছে।

দেশটি বার্ষিক প্রায় ৩৫ মিলিয়ন টন উৎপাদন করে। যদিও দেশের ১৬ কোটিরও বেশি জনসংখ্যাকে খাওয়ানোর জন্য উৎপাদনের প্রায় সমস্ত চালই প্রয়োজন।

বোরো ও আমন জাতের ধান বাংলাদেশের মোট উৎপাদিত ধানের ৯১%। এই দুটি জাত ছাড়াও বাজারে বিভিন্ন জাতের ধান পাওয়া যায়। এছাড়া, প্রক্রিয়াকরণের কারণে তিন ধরনের চাল পাওয়া যায়- চিকন, মাঝারি এবং মোটা। প্রায় সব নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যম আয়ের পরিবারের খাবারেই মোটা চাল প্রাধান্য পায়।

যদিও বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, মিনিকেট ও নাজিরশাইলের মতো ধানের কোনো প্রসিদ্ধ জাত নেই। ভুসি এবং জীবাণু অপসারণের জন্য বেশিরভাগ ধানের জাত একই রকম সাদা দেখায়।

চাল সর্বাধিক ১০% পর্যন্ত পলিশ করা যায়, সেখানে ৩০% পর্যন্ত পলিশ করা হচ্ছে এবং মিনিকেট এবং নাজিরশাইল হিসেবে বিক্রি করা হচ্ছে।

খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেন, “মিনিকেট বা নাজিরশাইল বলে কোনো চাল নেই। বেশিরভাগই, জিরাশাইল এবং শম্পা কাটারি এই দুই ধরনের চাল থেকে চিকন চাল হিসেবে রূপান্তরিত। খুচরা বিক্রেতারা বিআর২৮ এবং বি আর২৯উভয়ই মিনিকেট হিসেবে বিক্রি করছে।”

সম্প্রতি খাদ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ব্যবসার জন্য চালের বস্তায় ধানের নাম উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক করার জন্য সরকার একটি নীতিও প্রণয়ন করছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চাল ৭ থেকে ১০%-এর ছাঁটাই করা উচিত নয়। অন্যথায়, চালের প্রোটিন এবং অন্যান্য খনিজ উপাদান হারিয়ে যায়। ছাঁটাই বা পালিশ করার কারণে জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করে।

এদিকে, ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, নাজিরশাইল ও মিনিকেটের চাল শুক্রবার প্রতি কেজি ৬০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, যা এক সপ্তাহ আগেও ৫৮ থেকে ৬৮ টাকা ছিল। এছাড়া, মাঝারি মানের চাল ৫০ থেকে ৫৮ টাকা এবং স্বর্ণার মতো মোটা চাল ৪৫ থেকে ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

গত মাসে উন্নত মানের ধানের জাতগুলোর দাম ৩.১৭%, মাঝারি ৩.৮৫% এবং মোটা ২.১৫% প্রতি কেজি বেড়েছে বলে টিসিবি’র তথ্য থেকে জানা গেছে। অন্যদিকে, কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের তথ্যে দেখা গেছে, ৭ জানুয়ারি ভালো মানের আমন চাল ৬২ থেকে ৬৫ টাকা, মাঝারি মানের ৪৮ থেকে ৫০ টাকা এবং মোটা ৪২ থেকে ৪৪ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে।

গ্রীষ্মকালীন ধানের ফসল, স্থানীয়ভাবে বোরো নামে পরিচিত, বাংলাদেশের সাধারণ বার্ষিক ধান উৎপাদনের অর্ধেকেরও বেশি অবদান রাখে। এছাড়া, ভালো মানের বোরো চাল ৬০ থেকে ৬৩ টাকা, মাঝারি মানের ৫০-৫৩ টাকা এবং মোটা ৪৩ থেকে ৪৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

About

Popular Links