Friday, May 24, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

ঔষধি গাছেই স্বাবলম্বী দেড় হাজার পরিবার

এসব গাছ কিনে দেশের শীর্ষ স্থানীয় ঔষধ নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো কাশি, লিভারের সমস্যা, যৌন রোগসহ বিভিন্ন দুরারোগ্য ও জটিল রোগের ঔষধ তৈরি করছে

আপডেট : ২৮ জানুয়ারি ২০২২, ০৮:৫৯ পিএম

রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার পাঁচগাছি ইউনিয়নের জাহাঙ্গীরাবাদসহ আশেপাশের ১০টি গ্রাম এখন ঔষধি গাছের গ্রামে পরিণত হয়েছে। বাসক, অশ্বগন্ধা, তুলসী ও অর্জুনসহ বিভিন্ন প্রকার ঔষধি গাছের চাষ করে গ্রামগুলোর প্রায় দেড় হাজার পরিবার এখন স্বাবলম্বী।

গ্রামগুলো ঘুরে দেখা গেছে, ঔষধি গাছের পাতা ও ডাল পালা কিনে একমি ও স্কয়ারের মতো দেশের শীর্ষ স্থানীয় ঔষধ নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো কাশি, লিভারের সমস্যা, যৌন রোগসহ বিভিন্ন দুরারোগ্য ও জটিল রোগের ঔষধ তৈরি করছে।

কৃষি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এসব ঔষধি গাছ বিক্রি করে বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জন করা সম্ভব।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, বিশ্বব্যাপী এখন যতো ওষুধ তৈরি হচ্ছে তার ৩৩%-ই ভেষজ গাছ থেকে আসছে। বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে ঔষধি গাছের প্রায় ৬ হাজার কোটি ডলারের বাজার রয়েছে। এর মধ্যে চীন একাই ৩ হাজার কোটি ডলারের ঔষধি গাছসহ বিভিন্ন গাছ রপ্তানি ও বিক্রি করে এক চেটিয়াভাবে এ বাজার দখল করে আছে।

পীরগঞ্জ উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ও কৃষি বিশেষজ্ঞ সাদেকুজ্জামান সরকার জানান, ২০১৩ সালে আইপিপি প্রকল্পের আওতায় ধান, সবজিসহ বিভিন্ন ফসলের পাশাপাশি ঔষধি গাছ রোপণের জন্য কৃষকদের সহায়তা শুরু করে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।

উপজেলার পাঁচগাছি ইউনিয়নের জাহাঙ্গীরাবাদ গ্রামের কৃষক মেহেদুলকে প্রশিক্ষণ দিয়ে প্রথমে বাসক গাছ রোপণের পরামর্শ দেওয়া হয়।

রংপুরে ঔষধি গাছ বিক্রি করে হাজার হাজার পরিবার এখন স্বামলম্বী ঢাকা ট্রিবিউন

প্রশিক্ষণ নেওয়ার পর মেহেদুল আরও ৫ জন নারী ও ২০ জন পুরুষকে নিয়ে একটি দল গঠন করে সড়কের দু পাশের পরিত্যক্ত জায়গায় বাসক গাছ রোপণ করেন। এক বছরের মাথায় বাসক গাছের পাতা কেনার জন্য বিভিন্ন শীর্ষ স্থানীয় ওষুধ নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান তাদের কাছে আসতে শুরু করে। পরে, চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় মেহেদুল ও তার দল আরও বাসক গাছ রোপণ শুরু করেন।

ঔষধি গাছ চাষি মেহেদুল জানান, বর্তমানে তাদের দলের সদস্য সংখ্যা ৫০০ ছাড়িয়েছে। কৃষি বিভাগের সহায়তায় প্রথমদিকে সড়কের দু পাশে গাছ লাগানো হলেও এখন আশেপাশের ১০-১২টি গ্রামের বাড়ির চারপাশের পরিত্যক্ত জমিতেও গাছ লাগানো হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, ঔষধ নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর পরামর্শে বাসক গাছ ছাড়াও অশ্বগন্ধা, অর্জুন ও তুলশী গাছ চাষ শুরু করেছেন তারা। 

কৃষকরা জানান, এক বিঘা জমিতে ১০ টাকা খরচ করে তুলশী গাছ চাষ করে তারা প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি করছেন। এতে সাধারণত ৩ থেকে ৪ মাস সময় লাগে। 

রংপুরে ঔষধি গাছ বিক্রি করে হাজার হাজার পরিবার এখন স্বামলম্বী ঢাকা ট্রিবিউন

ছাবেরা বেগম নামে আরেক ঔষধি গাছ চাষি জানান, বিভিন্ন ধরনের ঔষধি গাছ বিক্রি করে তার ছেলে-মেয়েকে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াচ্ছেন। 

এছাড়া, ওষুধ কোম্পানিগুলো তাদের গাড়ি নিয়ে এসে গাছ নিয়ে টাকা দিয়ে যায়, ফলে কৃষকদের পণ্য বিক্রি করতেও কোনো সমস্যা না।

এ ব্যাপারে পাঁচগাছি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বাবুল মিয়া বলেন, “ঔষধি গাছের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় পুরো ইউনিয়ন জুড়ে এখন এসব গাছের চাষ শুরু হয়েছে। দাম ভালো পাওয়ায় চাষিরাও খুশি।"

About

Popular Links