Tuesday, June 25, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

ইভ্যালির ৫০% শেয়ার হস্তান্তরের অনুমতি

এসব শেয়ার রাসেলের শ্বশুর-শাশুড়ি ও তার ভায়রাকে হস্তান্তর করা হবে, পরবর্তীতে তারা ইভ্যালি পুনর্গঠনের কাজও করবেন

আপডেট : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ০৩:৪৪ পিএম

বিতর্কিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. রাসেলের শ্বশুর, শাশুড়ি আগেই মেয়ে ও জামাইয়ের নামে থাকা শেয়ার কেনার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। শেষ পর্যন্ত রাসেল ও তার স্ত্রীর নামে থাকা ৫০% শেয়ার রাসেলের শ্বশুর-শাশুড়ি ও তার ভায়রা ভাইকে হস্তান্তরের অনুমতি দিয়েছেন হাইকোর্ট।

আইনজীবী ব্যারিস্টার তাপস কান্তি বলের বরাত দিয়ে অনলাইন সংবাদমাধ্যম ঢাকা পোস্টের করা এক প্রতিবেদনে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

ব্যারিস্টার সৈয়দ মাহসিব হোসাইন বলেন, বৃহস্পতিবার ইভ্যালির ম্যানেজিং ডিরেক্টরের শ্বশুর-শাশুড়ি, ভাই-বোন বৃহস্পতিবার সশরীরে আদালতে উপস্থিত হন। তারা আদালতকে ইভ্যালি পুনর্গঠনের জন্য কাজ করার ব্যাপারে জানান। ইভ্যালির কাছে যাদের অর্থ ও পণ্য পাওনা রয়েছে, সেগুলো ফেরত দেওয়ার বিষয়ে তারা পদক্ষেপ নিতে চান।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট একটি নির্দেশনা দেন, যাতে ইভ্যালির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও চেয়ারম্যানের নামে যে শেয়ারগুলো আছে, সেগুলোর মধ্যে কিছু সংখ্যক শেয়ার যেন তাদের আত্মীয়-স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা যায়।

তিনি বলেন, ইভ্যালির এমডি ও চেয়ারম্যান কারাগারে রয়েছেন। এ সময়ে তাদের জেলখানায় থাকা অবস্থাতেই পুরো হস্তান্তর প্রক্রিয়া হবে। রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়াও হবে কারা কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে। ওনাদের শেয়ারগুলো তাদের আত্মীয়-স্বজনের কাছে হস্তান্তর করা হবে। তখন তারা ইভ্যালি পুনর্গঠনের পাশাপাশি পরিচালনা বোর্ডকে সহযোগিতা করবেন।

প্রসঙ্গত, গত ৯ ফেব্রুয়ারি বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারের একক কোম্পানি বেঞ্চে হাজির হয়ে  রাসেলের শ্বশুর, শাশুড়ি ও কোম্পানিটির সাবেক এক নির্বাহী পরিচালক মৌখিকভাবে মো. রাসেল ও শামীমার নামে থাকা শেয়ার কেনার ইচ্ছার কথা জানান। পরে ওইদিন ইভ্যালির এমডি মো. রাসেল ও চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনের কিছু সংখ্যক শেয়ার তার আত্মীয়-স্বজনের নামে হস্তান্তরে সহযোগিতা করতে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। ইভ্যালির অন্তর্বর্তী পরিচালনা বোর্ডকে এ সহযোগিতা করতে বলা হয়।

রাসেল ও শামীমার আত্মীয়-স্বজনের মৌখিক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ওইদিন বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে ইভ্যালির বোর্ডের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার মোরশেদ আহমেদ খান। রিটের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার সৈয়দ মাহসিব হোসাইন।

গত ১৫ সেপ্টেম্বর গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে ইভ্যালি পণ্য সরবরাহ করছে না-এমন অভিযোগে গুলশান থানায় আরিফ বাকের নামের এক গ্রাহক মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পরদিন বিকালে ইভ্যালির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. রাসেল ও প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান রাসেলের স্ত্রী শামীমা নাসরিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে দু’জনই কারাগারে।

এরই মধ্যে ইভ্যালির অবসায়ন চেয়ে হাইকোর্টের কোম্পানি আদালতে আবেদন করেন ইভ্যালির গ্রাহক ফরহাদ হোসেন। এতে ইভ্যালি নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনার জন্য একটি পরিচালনা পর্ষদ গঠনেরও আবেদন জানান তিনি।

১৮ অক্টোবর ইভ্যালির পরিচালনা, নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনার জন্য আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিককে প্রধান করে ৪ সদস্যের একটি বোর্ড গঠন করে দেন হাইকোর্ট।

বিগত ৩ মাস ধরে ইভ্যালির কেনা-বেচা এবং পণ্য সরবরাহের কাজ বন্ধ রয়েছে। সেই সঙ্গে বন্ধ রয়েছে ইভ্যালির ওয়েবসাইট ও অ্যাপসও। ফলে প্রতিষ্ঠানটির আয়ের কোনো সংস্থান না থাকলেও যথারীতি ব্যয় অব্যাহত রয়েছে।

About

Popular Links