Friday, May 31, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

পতিত জমিতে ভুট্টা বুনে লাভের মুখ দেখছেন খুলনার চাষিরা

আমন ধান কাটার পর জমি পতিত অবস্থায় পড়ে থাকে। এখন এই পতিত জমিতে সোনা ফলছে

আপডেট : ০১ এপ্রিল ২০২২, ১১:২২ এএম

অপেক্ষাকৃত লাভজনক হওয়ায় খুলনা অঞ্চলে কৃষকদের ভুট্টা চাষে আগ্রহ বাড়ছে। জেলায় প্রতি বছরই বাড়ছে ভুট্টার আবাদ। এ বছর ১ হাজার ৩৫৫ হেক্টর জমিতে ভুট্টার চাষ করে বাম্পার ফলনের আশা করছেন কৃষকরা।

অনুকূল আবহাওয়া, সুষম সার প্রয়োগ ও মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট গোপালগঞ্জ-খুলনা-বাগেরহাট-সাতক্ষীরা-পিরোজপুর এসআরডিআই প্রকল্পের সঠিক পরামর্শ নেওয়ায় কৃষক এই সাফল্য পাবেন।

কৃষকরা জানান, গত বছর ভালো ফলন আসায় এ বছরও তারা ঝুঁকছেন ভুট্টা চাষে।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আমন ধান ওঠার পরই এই এলাকার জমি পতিত হয়ে পড়ে। এই জমিতে রয়েছে ভুট্টা চাষের উজ্জ্বল সম্ভাবনা। চলতি বছর বটিয়াঘাটায় ৭০০, দাকোপে ১৫০, ডুমুরিয়ায় ৯০, ফুলতলায় ১৫ এবং বাগেরহাটের কচুয়ায় ২০০০ ও চিতলমারীতে ২০০ হেক্টর জমিতে ভুট্টার চাষ করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, বটিয়াঘাটা  উপজেলার মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের লবণাক্ততা ব্যবস্থাপনা ও গবেষণা কেন্দ্র উদ্ভাবিত প্রযুক্তি ব্যবহার করে ওই এলাকার ১১ জন কৃষক ২০১৯ সালে ১০ বিঘা জমিতে বিনা চাষে ডিবলিং পদ্ধতিতে ভুট্টার চারা রোপন ও পলি ব্যাগে তৈরি চারা রোপণ করে এর কার্যক্রম শুরু করেন। এরপর প্রতি বছর চাষ বাড়তে থাকে। রোপন করা চারার চেয়ে পলি ব্যাগের চারা দ্রুত বাড়ে। দেখতে সুন্দর হয় এবং মোচা আগে ধরে। আগে থেকে ফসল কাটা ও মাড়াই করা হয়।

কৃষক ভূপতি রায় ও বনস্পতি রায় জানান, চলতি বছর হাইব্রিড জাতের ভুট্টা চাষ কার্যক্রম চলছে এই লবণাক্ত এলাকায়। এ বছর শতাধিক  কৃষক পলি ব্যাগে রোপন পদ্ধতিতে চাষ করছেন। ভেজা মাটিতে ১৫ থেকে ২০ দিন বয়সী চারা রোপন করা হয়েছে। লবণাক্ততা বৃদ্ধির আগেই মাঠ থেকে ফসল তোলা সম্ভব। পলি ব্যাগে চারা রোপন কররে ফলন ভালো পাওয়া যায়।

কৃষক আলী আহমেদ শেখ জানান, কৃষি সম্প্রসারণ মাঠ পর্যায়ে ভুট্টার চাষ ছড়িয়ে দিলেও এই প্রকল্প থেকে কৃষকদের বীজ, সার কীটনাশক ও প্রশিক্ষণসহ সব ধরনের সহযোগিতা বিনামূল্যে দেওয়া হয়েছে।

নভেম্বর মাস থেকে রোপন শুরু হয়। অনেক গাছে এখন ফুল ও মোচা আসছে।

মো. রুহুল আমিন নামে আরেক কৃষক জানান, এপ্রিল মাসের শেষ দিকে সোনালী ফসল ভুট্টা ঘরে তুলতে পারবে। বিনা চাষে ৩০-৪৫ দিন আগে জমিতে বীজ ও ফসল কাটা যায়। লবাণাক্ততা বৃদ্ধি ও ঝড় বৃষ্টি আসার আগে ফসল ঘরে তোলা যায়।

কৃষক কামরুল ইসলাম জানান, গত বছর কৃষক ছিল ২৫ জন। গত বছর উৎপাদন হয়েছে প্রতি বিঘায় সাড়ে ৯ মেট্টিক টন। সব মিলিয়ে উৎপাদন হয়েছে ২৬ মেট্টিক টন। কৃষকদের বিনামূল্যে সার, বীজ ও কীটনাশকসহ সব ধরনের উপকরণ বিতরণ করে মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিউট এসআরডিআই প্রকল্প।

কৃষক অংশুমান রায় বলেন, এ বছর বাম্পার ফলন ভালো হয়েছে। বিনা চাষে অধিক লাভবান হওয়া যায়। এসআরডিআই প্রকল্পের পরামর্শ কাজে লাগিয়ে কৃষকরা আজ সাফল্যের দোরগোড়ায়।

মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট

গোপালগঞ্জ-খুলনা-বাগেরহাট-সাতক্ষীরা-পিরোজপুর (এসআরডিআই) প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক অমরেনাথ বিশ্বাস বলেন, লবাণাক্ত এলাকায় একটি মাত্র ফসল হতো। আমন ধান ও শুষ্ক মৌসুমে আবাদের মূল সমস্যা হলো লবাণাক্ততা। আমন ধান কাটার পর জমি পতিত অবস্থায় পড়ে থাকে। এখন এই পতিত জমিতে সোনা ফলছে। কৃষকের মুখে ফুটছে হাসি। স্বার্থক হবে তাদের গায়ের ঘাম।

তিনি বলেন, কৃষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। তাদের সব ধরনের উপকরণ বিনামূল্যে দেওয়া হচ্ছে। সরকার দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলে কৃষি বিপ্লব ঘটাতে কাজ করছেন। সে আলোকে এই প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন। ভুট্টাচাষে কৃষক আগ্রহী হচ্ছেন।

About

Popular Links